ঢাকা সকাল ১০:২৪, শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শফিকুল ইসলাম সরকার 

ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাক

আগামী পহেলা ডিসেম্বর নান্দাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামীলীগ, আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি সবসময় যোগ্য, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করেছেন, বসিয়েছেন যোগ্য নেতৃত্বে। আসন্ন নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দলের জন্য যারা বিগত সময়ে লড়াই সংগ্রাম করে দলকে শক্তিশালী করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তারাই মূল্যায়িত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক পরিচিত: নব্বই দশক থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে সক্রীয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৯০ সালে নান্দাইল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্ত:স্কুল শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতিতে পদার্পন করে বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের কালো আইন, সন্ত্রাস দমন আইনে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্যারিস্টার কে. এস. নবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশে এই মামলা থেকে মুক্তি পান। পর্যাক্রমে অসংখ্যা মামলায় ৬ বার কারাবরণ করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশঃবর্তী হয়ে তারেক রহমানের বিশ্বস্থ এসপি কোহিনুর মিয়ার মাধ্যমে ক্রস ফায়ার দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বিভিন্ন রকম মামলা দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে অসহনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়। তৎকালীন স্থানীয় বিএনপির সরকারের মদদে ও তৎকালীন ময়ময়সিংহ জেলা পুলিশ সুপার কোহিনুর মিয়ার মাধ্যমে নান্দাইল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আচারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে দুই জন ভোটারকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করার পর এসপি কোহিনুর তাকেও  গ্রেফতার করে। রাজনৈতিক মামলা নিষ্পত্তি ও এসপি কোহিনুরের হাতে গ্রেফতারসহ ৬ বার কারাবরণ করেন তিনি। বিএনপি ও তারেক রহমানের মদদপুষ্ট এসপি কোহিনুরের মাধ্যমে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হন শফিকুল ইসলাম। ১৯৯৬ সালে ১৫ ই ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন রুখতে আন্দোলনরত অবস্থায় সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার, নির্যাতন ও তিন মাস কারাবরণ করেন। ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের কালো আইন সন্ত্রাস দমন আইনে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্যারিস্টার কে. এস. নবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশে এই মামলা নিষ্পত্তি হয়। ১৯৯৩ সালে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। বিএনপির অবৈধ সরকারের বিপক্ষে নিজ উপজেলায় কঠোর আন্দোলনে সম্মুখ নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পযর্ন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নান্দাইল উপজেলা শাখার গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পযর্ন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নান্দাইল  সরকারী শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ শাখার সাধারন সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৭-১৯৯৮ শিক্ষাবর্ষে নান্দাইল সরকারী শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ ছাত্র সংসদে ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রলীগের জি.এস. পদে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কাউন্সিলদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নান্দাইল উপজেলার বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পযর্ন্ত নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বৃহত্তর ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ভোটে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পযর্ন্ত নান্দাইল উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নীল নকশার নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-বিএনপি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশব্যাপী স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করতে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দ্যেশে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ লালন পালনসহ অসংখ্য অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০২ সালে যৌথবাহিনীর দ্বারা (অপারেশন ক্লিনহাট) হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০০৭ সালের ১৭ই জুলাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০১২-২০১৩ সালে যুদ্ধ অপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করতে জামাত-বিএনপির নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিরোধে স্বক্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিচিতি: নান্দাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি নান্দাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস‍্য মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম মহোদয়ের অত‍্যন্ত বিশ্বস্থ ও আস্থাভাজন একজন কর্মী।
 রাজনীতিতে পরিবারের ভূমিকা:
শফিকুল ইসলাম সরকার নান্দাইল উপজেলার পৌর শহরের মরহুম আব্দুল রাজ্জাক সরকারের সুযোগ্য পুত্র। তারা ৩ ভাই ও ৩ বোন। বড় চাচার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কমর উদ্দিন সরকার, দেশমাতৃকা রক্ষায় ৭১ সালে রণাঙ্গে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। বাবা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক সরকার, আজীবন আওয়ামীলীগের আদর্শ বুকে লালন ও ধারণ করে আমাদের (সন্তান) কে স্বাধীনতার চেতনার স্ব-পক্ষে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন। বড় বোন মোছাঃ আনোয়ারা মমতাজ আশির দশকে নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৭ সালে সরকারী শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনিত মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নান্দাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে সংক্রীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
এ বিভাগের আরও সংবাদ