১০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক পেলেন ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক-২০২২ পেয়েছেন চার ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পদক প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি আরটিভির পর্দায় শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রচার করা হয়।

২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর ‘আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক’ দেওয়া হচ্ছে। এবার পঞ্চম বারের মতো এই সম্মাননা দেওয়া হলো।

আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক-২০২২ প্রাপ্তরা হলেন- শিশু সাহিত্যিক ক্যাটাগরিতে ঝরনা দাশ পুরকায়স্থ, কিশোর-তরুণ সংগঠন ক্যাটাগরিতে মানিকগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিশারি, অদম্য সাহসী তরুণী ক্যাটাগরিতে যশোরের তামান্না নূরা, শিক্ষা বিস্তার ক্যাটাগরিতে মৌলভীবাজারের লিটন গঞ্জু, প্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষা ক্যাটাগরিতে চুয়াডাঙ্গার সামাজিক সংগঠন বেলগাছি যুব সমাজ এবং অদম্য মেধাবী ক্যাটাগরিতে নাহিয়ান মাহজাবিন পদক পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আরটিভির চেয়ারম্যান আলহাজ মোরশেদ আলম এমপি বলেন, বর্তমান সরকার শিশু-কিশোরদের কল্যাণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরপরও বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধী মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাংস্কৃতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দেশের শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে নীরবে-নিভৃতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এই সমাজ সংস্কারদের সহায়তায় শিশু-কিশোররা দারিদ্রতা, অসমতা এবং সহিংসতার চক্র ভাঙার সক্ষমতা অর্জন করছে। এক সময়ের সুবিধা বঞ্চিত অনেক শিশু-কিশোররাই এখন বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই মহৎ কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অনুপ্রেরণামূলক কাজগুলোকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা আয়োজন করেছি আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক-২০২২। যারা এবছর পদক অর্জন করেছে, তাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। সব ধরনের বিলাসী কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকা প্রয়োজন। সেজন্য আমি সবাইকে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাই।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আরটিভি একটি বেসরকারি টেলিভিশন। কিন্তু তার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। সমাজ সচেতনতা, সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্নরকম কর্মসূচিতে আলাদা একটি ঐতিহ্য বহন করে চলেছে আরটিভি।

তিনি বলেন, গুণীজনদের সম্মানিত করার জায়গাটা আমার দৃষ্টিতে বেশ দুর্বল হয়ে আসছে। মানুষের কল্যাণে, দেশের সেবায়, ন্যায়সঙ্গত সৎভিত্তিক কাজে প্রতিযোগিতা কমে এসেছে। কার কয়টা বিল্ডিং বা কোম্পানি রয়েছে, আমার তার চেয়ে বেশি নেই কেন? এই প্রতিযোগিতা খুব বেশি। এমন একটি সময়ে আরটিভির এই উদ্যোগ যারা উপেক্ষিত বা পিছিয়ে পড়া মানুষ, কিন্তু প্রতিভাবান। যারা বিশেষায়িত জীবনের ভেতর থেকেও অনেককিছু সৃষ্টি করেন, তাদেরকে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এসএমসির বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম, এসএমসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তসলিম উদ্দিন খান, ইউএসএআইডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মিরান্ডা বেকম্যান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ও আরটিভির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, অভিনেতা আজিজুল হাকিম প্রমুখ।

অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। এর ফাঁকে ফাঁকে শিশু-কিশোর ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

১৭ বছর অতিক্রম করে ১৮তম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি। ‘আজ এবং আগামী’র স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর দেশের পঞ্চম বেসরকারি টেলিভিশন হিসেবে যাত্রা করে গণমানুষের এই চ্যানেলটি।

দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আরটিভি দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠানকে সাজিয়েছে। বিপরীতে পেয়েছে দর্শকদের ভালোবাসা।

সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যয়ে, দর্শকদের নানান প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টায় প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে চলেছে চ্যানেলটি। নতুন নতুন অনুষ্ঠান, নাটক, টকশো, রিয়েলিটি শো, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আর ভিন্নধারার সংবাদ দিয়ে কয়েক বছরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে আরটিভি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এমন আনন্দের দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের শিল্পী, সংস্কৃতিজন, রাজনীতিবিদ ও খ্যাতিমানরা। আরটিভির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান জনপ্রিয় জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ।

তিনি বলেন, ‘আসলে আরটিভি অনেক দিন আগেই কিন্তু যৌবন পেয়ে গেছে। কারণ, এতো বৈচিত্রপূর্ণ অনুষ্ঠান আরটিভি নির্মাণ করেছে যা প্রশংসার যোগ্য। শুধু স্ক্রিনে নয়, স্ক্রিনের বাইরেও। আমি খুব বিস্মিত হই মাঝে মাঝে এতকিছু নিয়ে আরটিভি অনুষ্ঠান করে আমাকে মুগ্ধ করে ফেলে। আমার মনে আছে, একবার ফায়ার ফাইটারদেরকে নিয়ে এমনভাবে সম্মাননা করল, যে ফায়ার ফাইটাররা কান্না করল। আমরা জানি যে তারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়, অথচ তাদের কথা কেউ মনে রাখে না। কিন্তু আরটিভি ঠিকই মনে রেখেছে। আরটিভির এই শুভক্ষণে আমি আবারও জানাচ্ছি তাদের শুভেচ্ছা।’

প্রসঙ্গত, ‘গোলটেবিল’, ‘কেমন বাংলাদেশ চাই, ‘আজ পত্রিকায়’ এর মতো জনপ্রিয় টকশো ছাড়াও ‘স্টার অ্যাওয়ার্ড’, ‘আলোকিত নারী পদক’, ‘আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক’-এর মতো অনুষ্ঠান আরটিভিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। চ্যানেলটিতে নতুন অনুষ্ঠানমালায় যুক্ত হয়েছে ‘ড্যানিশ আরটিভি ইয়াং স্টার’, ‘ফোক স্টেশন’। ইসলামিক ট্যালেন্ট হান্ট খুঁজে নেওয়ার প্ল্যাটফর্মও করেছে চ্যানেলটি।

এ ছাড়াও অটিজমবিষয়ক অনুষ্ঠান- হাত বাড়িয়ে দিলাম, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলবিষয়ক অনুষ্ঠান লুক@মিসহ আরও নানান অনুষ্ঠান দিয়ে বছরজুড়েই আলোচনায় পরিপূর্ণ। ঈদসহ ভিন্ন ধর্মের ও বিভিন্ন বিশেষ দিনকে ঘিরে প্রচার করা হয় জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ নাটক ও অনুষ্ঠানমালা।

করোনা সংক্রমণের কঠিন দিনগুলোতে নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অফিসে ও ঘরে বসে কাজ করে আরটিভির পর্দাকে সচল রেখেছেন কর্মীরা। করোনার ঘরবন্দি সময়ে মানুষের গান চর্চার দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে আরটিভি আয়োজন করে ‘বেঙ্গল সিমেন্ট বাংলার গায়েন’ নামে নতুন রিয়েলিটি শো, যা ইতোমধ্যেই দর্শক নন্দিত ও গানের জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিত্যনতুন প্রত্যয়ে ঝলমলে আগামীর জন্য আজকের হয়ে জেগে থাকবে আরটিভি।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক পেলেন ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত : ০৮:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২২

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক-২০২২ পেয়েছেন চার ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পদক প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি আরটিভির পর্দায় শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রচার করা হয়।

২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর ‘আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক’ দেওয়া হচ্ছে। এবার পঞ্চম বারের মতো এই সম্মাননা দেওয়া হলো।

আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক-২০২২ প্রাপ্তরা হলেন- শিশু সাহিত্যিক ক্যাটাগরিতে ঝরনা দাশ পুরকায়স্থ, কিশোর-তরুণ সংগঠন ক্যাটাগরিতে মানিকগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিশারি, অদম্য সাহসী তরুণী ক্যাটাগরিতে যশোরের তামান্না নূরা, শিক্ষা বিস্তার ক্যাটাগরিতে মৌলভীবাজারের লিটন গঞ্জু, প্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষা ক্যাটাগরিতে চুয়াডাঙ্গার সামাজিক সংগঠন বেলগাছি যুব সমাজ এবং অদম্য মেধাবী ক্যাটাগরিতে নাহিয়ান মাহজাবিন পদক পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আরটিভির চেয়ারম্যান আলহাজ মোরশেদ আলম এমপি বলেন, বর্তমান সরকার শিশু-কিশোরদের কল্যাণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরপরও বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধী মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাংস্কৃতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দেশের শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে নীরবে-নিভৃতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এই সমাজ সংস্কারদের সহায়তায় শিশু-কিশোররা দারিদ্রতা, অসমতা এবং সহিংসতার চক্র ভাঙার সক্ষমতা অর্জন করছে। এক সময়ের সুবিধা বঞ্চিত অনেক শিশু-কিশোররাই এখন বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই মহৎ কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অনুপ্রেরণামূলক কাজগুলোকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা আয়োজন করেছি আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক-২০২২। যারা এবছর পদক অর্জন করেছে, তাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। সব ধরনের বিলাসী কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকা প্রয়োজন। সেজন্য আমি সবাইকে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাই।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আরটিভি একটি বেসরকারি টেলিভিশন। কিন্তু তার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। সমাজ সচেতনতা, সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্নরকম কর্মসূচিতে আলাদা একটি ঐতিহ্য বহন করে চলেছে আরটিভি।

তিনি বলেন, গুণীজনদের সম্মানিত করার জায়গাটা আমার দৃষ্টিতে বেশ দুর্বল হয়ে আসছে। মানুষের কল্যাণে, দেশের সেবায়, ন্যায়সঙ্গত সৎভিত্তিক কাজে প্রতিযোগিতা কমে এসেছে। কার কয়টা বিল্ডিং বা কোম্পানি রয়েছে, আমার তার চেয়ে বেশি নেই কেন? এই প্রতিযোগিতা খুব বেশি। এমন একটি সময়ে আরটিভির এই উদ্যোগ যারা উপেক্ষিত বা পিছিয়ে পড়া মানুষ, কিন্তু প্রতিভাবান। যারা বিশেষায়িত জীবনের ভেতর থেকেও অনেককিছু সৃষ্টি করেন, তাদেরকে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এসএমসির বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম, এসএমসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তসলিম উদ্দিন খান, ইউএসএআইডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মিরান্ডা বেকম্যান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ও আরটিভির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, অভিনেতা আজিজুল হাকিম প্রমুখ।

অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। এর ফাঁকে ফাঁকে শিশু-কিশোর ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

১৭ বছর অতিক্রম করে ১৮তম বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি। ‘আজ এবং আগামী’র স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর দেশের পঞ্চম বেসরকারি টেলিভিশন হিসেবে যাত্রা করে গণমানুষের এই চ্যানেলটি।

দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আরটিভি দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠানকে সাজিয়েছে। বিপরীতে পেয়েছে দর্শকদের ভালোবাসা।

সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যয়ে, দর্শকদের নানান প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টায় প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে চলেছে চ্যানেলটি। নতুন নতুন অনুষ্ঠান, নাটক, টকশো, রিয়েলিটি শো, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আর ভিন্নধারার সংবাদ দিয়ে কয়েক বছরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে আরটিভি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এমন আনন্দের দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের শিল্পী, সংস্কৃতিজন, রাজনীতিবিদ ও খ্যাতিমানরা। আরটিভির ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান জনপ্রিয় জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ।

তিনি বলেন, ‘আসলে আরটিভি অনেক দিন আগেই কিন্তু যৌবন পেয়ে গেছে। কারণ, এতো বৈচিত্রপূর্ণ অনুষ্ঠান আরটিভি নির্মাণ করেছে যা প্রশংসার যোগ্য। শুধু স্ক্রিনে নয়, স্ক্রিনের বাইরেও। আমি খুব বিস্মিত হই মাঝে মাঝে এতকিছু নিয়ে আরটিভি অনুষ্ঠান করে আমাকে মুগ্ধ করে ফেলে। আমার মনে আছে, একবার ফায়ার ফাইটারদেরকে নিয়ে এমনভাবে সম্মাননা করল, যে ফায়ার ফাইটাররা কান্না করল। আমরা জানি যে তারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেয়, অথচ তাদের কথা কেউ মনে রাখে না। কিন্তু আরটিভি ঠিকই মনে রেখেছে। আরটিভির এই শুভক্ষণে আমি আবারও জানাচ্ছি তাদের শুভেচ্ছা।’

প্রসঙ্গত, ‘গোলটেবিল’, ‘কেমন বাংলাদেশ চাই, ‘আজ পত্রিকায়’ এর মতো জনপ্রিয় টকশো ছাড়াও ‘স্টার অ্যাওয়ার্ড’, ‘আলোকিত নারী পদক’, ‘আরটিভি এসএমসি মনিমিক্স প্রেরণা পদক’-এর মতো অনুষ্ঠান আরটিভিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। চ্যানেলটিতে নতুন অনুষ্ঠানমালায় যুক্ত হয়েছে ‘ড্যানিশ আরটিভি ইয়াং স্টার’, ‘ফোক স্টেশন’। ইসলামিক ট্যালেন্ট হান্ট খুঁজে নেওয়ার প্ল্যাটফর্মও করেছে চ্যানেলটি।

এ ছাড়াও অটিজমবিষয়ক অনুষ্ঠান- হাত বাড়িয়ে দিলাম, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলবিষয়ক অনুষ্ঠান লুক@মিসহ আরও নানান অনুষ্ঠান দিয়ে বছরজুড়েই আলোচনায় পরিপূর্ণ। ঈদসহ ভিন্ন ধর্মের ও বিভিন্ন বিশেষ দিনকে ঘিরে প্রচার করা হয় জনপ্রিয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ নাটক ও অনুষ্ঠানমালা।

করোনা সংক্রমণের কঠিন দিনগুলোতে নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অফিসে ও ঘরে বসে কাজ করে আরটিভির পর্দাকে সচল রেখেছেন কর্মীরা। করোনার ঘরবন্দি সময়ে মানুষের গান চর্চার দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে আরটিভি আয়োজন করে ‘বেঙ্গল সিমেন্ট বাংলার গায়েন’ নামে নতুন রিয়েলিটি শো, যা ইতোমধ্যেই দর্শক নন্দিত ও গানের জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিত্যনতুন প্রত্যয়ে ঝলমলে আগামীর জন্য আজকের হয়ে জেগে থাকবে আরটিভি।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh