১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদাবাজি নিয়ে একাধিক সংঘর্ষে ঘটনার পরেও থেমে নেই মাইক্রোবাসে যাত্রীপরিবহণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা বিশ্বরোড মোড়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডে চাঁদার টাকার ভাগ নিয়ে একাধিক বার সংঘর্ষে ঘটনার পরেও থেমে নেই মাইক্রোবাসে যাত্রীপরিবহণ। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে বিশ্বরোড মোড় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে এমন চিত্র চোখে পড়ে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি কাছে।

জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মাদকাসক্ত ৩৫ জন মিলে এক সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করে প্রাইভেট পরিবহন যাত্রীপরিবহনের নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন থেকেই মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল বিশ্বরোড থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রীপরিবহন করে আসছে। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে অবৈধ পার্কিং করলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। এই স্ট্যান্ডের টাকার ভাগ নিয়ে মাদকাসক্তরা নিজেদের মধ্যে একাধিক বার সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। তাঁর পরেও থেমে নেই অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে যাত্রীপরিবহণ। সর্বশেষ সিএনজির শ্রমিক নেতা ছায়েদ মিয়ার হত্যা মামলায় এই অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। এই মামলায় চলমান থাকা অবস্থায় কিছুদিন যেতে না যেতে আবার শুরু হয় মাইক্রোবাসে যাত্রীপরিবহণ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে কয়জন মাদকাসক্ত দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাইক্রোবাসটি যাত্রী উঠানো শেষ হলে মাদকাসক্ত প্রতি গাড়ি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা চাঁদাতুলে। চাঁদার টাকা না দিলে গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। মাইক্রোবাস চালকরা বাদ্য হয়ে টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।

মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার চালক লোকমান ও শিফাতের অভিযোগ, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আমরা যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসি। তখন যাওয়ার পথে গাড়ি খালি থাকায় বিশ্বরোড থেকে কিছু যাত্রী তুলে থাকি। গ্যাসের টাকা হয়ে থাকে কিন্তু চাঁদাবাজদের কারণে সেই রকম ভাড়া মারতে পারি না। আজ আমি ৬০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।

অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে আইন লঙ্ঘন করে প্রাইভেট মাইক্রোবাস করছে যাত্রীপরিবহণ। অবৈধ গাড়ি পার্কিং এর জন্য কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট পরিবহণ গণপরিবহণের কাজ করলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ বলে অভিযোগ নাগরিকদের।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক বলেন, এসব স্ট্যান্ড থেকে পুলিশ হয়তো মাসিকহারে একটা টাকা পায়। সেজন্য পুলিশ তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে। আর যখন চাপ আসে তখন পুলিশ সাময়িক সময়ের জন্য তাদের সরিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের জানামতে বিশ্বরোড মোড়ে কোনো মাইক্রোস্ট্যান্ড নাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে

চাঁদাবাজি নিয়ে একাধিক সংঘর্ষে ঘটনার পরেও থেমে নেই মাইক্রোবাসে যাত্রীপরিবহণ

প্রকাশিত : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা বিশ্বরোড মোড়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডে চাঁদার টাকার ভাগ নিয়ে একাধিক বার সংঘর্ষে ঘটনার পরেও থেমে নেই মাইক্রোবাসে যাত্রীপরিবহণ। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে বিশ্বরোড মোড় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে এমন চিত্র চোখে পড়ে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি কাছে।

জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মাদকাসক্ত ৩৫ জন মিলে এক সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করে প্রাইভেট পরিবহন যাত্রীপরিবহনের নিয়ম ভেঙে দীর্ঘদিন থেকেই মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল বিশ্বরোড থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রীপরিবহন করে আসছে। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে অবৈধ পার্কিং করলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। এই স্ট্যান্ডের টাকার ভাগ নিয়ে মাদকাসক্তরা নিজেদের মধ্যে একাধিক বার সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। তাঁর পরেও থেমে নেই অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে যাত্রীপরিবহণ। সর্বশেষ সিএনজির শ্রমিক নেতা ছায়েদ মিয়ার হত্যা মামলায় এই অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। এই মামলায় চলমান থাকা অবস্থায় কিছুদিন যেতে না যেতে আবার শুরু হয় মাইক্রোবাসে যাত্রীপরিবহণ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে কয়জন মাদকাসক্ত দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাইক্রোবাসটি যাত্রী উঠানো শেষ হলে মাদকাসক্ত প্রতি গাড়ি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা চাঁদাতুলে। চাঁদার টাকা না দিলে গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। মাইক্রোবাস চালকরা বাদ্য হয়ে টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।

মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার চালক লোকমান ও শিফাতের অভিযোগ, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আমরা যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসি। তখন যাওয়ার পথে গাড়ি খালি থাকায় বিশ্বরোড থেকে কিছু যাত্রী তুলে থাকি। গ্যাসের টাকা হয়ে থাকে কিন্তু চাঁদাবাজদের কারণে সেই রকম ভাড়া মারতে পারি না। আজ আমি ৬০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।

অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে আইন লঙ্ঘন করে প্রাইভেট মাইক্রোবাস করছে যাত্রীপরিবহণ। অবৈধ গাড়ি পার্কিং এর জন্য কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট পরিবহণ গণপরিবহণের কাজ করলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ বলে অভিযোগ নাগরিকদের।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক বলেন, এসব স্ট্যান্ড থেকে পুলিশ হয়তো মাসিকহারে একটা টাকা পায়। সেজন্য পুলিশ তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে। আর যখন চাপ আসে তখন পুলিশ সাময়িক সময়ের জন্য তাদের সরিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের জানামতে বিশ্বরোড মোড়ে কোনো মাইক্রোস্ট্যান্ড নাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh