অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মানিকগঞ্জে শহীদ বেদিতে ফুল
দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের মধ্যে
ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে।আধঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষ অন্তত ১০ জন আহত
হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ
ঘটনা ঘটে। জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে আধাঘণ্টা পর
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসা সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের
মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফুল না দিয়ে অনেকে শহীদ মিনার ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ৯টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের
নেতাকর্মীরা শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে ফুল দেওয়ার
পর শ্রমিক লীগের এক পক্ষের নাম ঘোষণা করলে অপরপক্ষ বাধা দেয়।উভয় পক্ষের
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। শ্রমিকলীগ
নেতা আব্দুল জলিল ও বাবুল সরকারের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষ শুরু
হয়। পরে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরাও এতে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারামারির সময় প্রতিপক্ষের বাঁশের আঘাত ও
কিলঘুষিতে যুবলীগ নেতা নাজমুল ও ডা. প্রদীপ বসু, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা
কাজল ও শ্রমিক লীগ নেতা কাদেরসহ সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও
শ্রমিক লীগের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র
নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের পরপর ২টি কমিটি হয়। কমিটির বৈধতা
নিয়ে আদালতে মামলা হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ আব্দুল জলিল ও বাবুল সরকার জেলা
শ্রমিকলীগের সভাপতির পদ দাবি করে আসছিলেন। এর জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস
সালাম বরেন, ‘পুরো বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কখনো
কাম্য নয়। যারা এ ধরনের কাজ করলেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল রউফ সরকার বলেন,
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত
অভিযোগ করেনি।




















