১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

গৌরীপুরে ভূট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের

অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি, তাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বোরো চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে কৃষক।
তাছাড়া গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে ভুট্টা পাতার (প্রক্রিয়াজাত) সাইলেজ বেশ জনপ্রিয়। তাই তরুণ উদ্যোক্তরাও সাইলেজ তৈরীর জন্য ভুট্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুট্টা চাষে উদ্ভুদ্ধ করতে দেয়া হয়েছে প্রণোদনা।
ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকরা ভুট্টার বীজ বপন করেছে । এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে ভূট্টা সংগ্রহ শুরু হবে। তবে গবাদি পশুর খাদ্য সাইলেজ তৈরী করতে ভুট্টা গাছ তিন মাস বয়সী হলেই পাতা প্রক্রিয়াজাত করে সাইলেজ করা হবে।
উপজেলার রামগোপালপুর, সহনাটি, বোকাইগর, মাওহা ও ভাংনামারী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বোরো চাষের পাশাপাশি ভুট্টা আবাদ করছে কৃষক। জমিতে বেড়ে উঠা ভুট্টা গাছের পাতা বাতাসে দোল খাচ্ছে । সেই সাথে কৃষক ও উদ্যোক্তরা স্বপ্ন দেখছে লাভের।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের মাশাল্লাহ এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আলভী বলেন, ভুট্টা পাতার সাইলেজ গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে বেশ জনপ্রিয়। আমি সাইলেজ করার জন্য ৬০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। প্রতিবিঘায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। লাভ হয় কয়েক গুণ।
সহনাটি ইউনিয়নের কৃষক বোরহান উদ্দিন বলেন, বোরো চাষে সেচ বেশি, খরচ অনেক। কিন্তু ভুট্টা চাষে বেশি সেচ লাগে না, খরচ কম, লাভ বেশি। ৬ কাঠা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টার পাতা গবাদি পশুর চাহিদা মিটাবে। পাশাপাশি দানা বিক্রি করেও আমি লাভবান হবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লিপি বলেন, মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি পোলট্রি, ডেইরি ও ফিশফিড হিসেবেও ভুট্টার চাহিদা প্রচুর। বাজার ভালো থাকায় কৃষক ও তরুণরা ভুট্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া না হলে বাম্পার ফলন হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, এই উপজেলায় গবাদি পশুর একটি নিরব বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তারা বেকারত্ব ঘুচাতে ভুট্টা চাষ করে সাইলেজ করে বিক্রি করছে। এতে একদিকে যেমন তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে তরুণরা গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ডিবির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুনকে বরখাস্ত

গৌরীপুরে ভূট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের

প্রকাশিত : ০৪:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি, তাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বোরো চাষের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে কৃষক।
তাছাড়া গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে ভুট্টা পাতার (প্রক্রিয়াজাত) সাইলেজ বেশ জনপ্রিয়। তাই তরুণ উদ্যোক্তরাও সাইলেজ তৈরীর জন্য ভুট্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুট্টা চাষে উদ্ভুদ্ধ করতে দেয়া হয়েছে প্রণোদনা।
ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকরা ভুট্টার বীজ বপন করেছে । এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে ভূট্টা সংগ্রহ শুরু হবে। তবে গবাদি পশুর খাদ্য সাইলেজ তৈরী করতে ভুট্টা গাছ তিন মাস বয়সী হলেই পাতা প্রক্রিয়াজাত করে সাইলেজ করা হবে।
উপজেলার রামগোপালপুর, সহনাটি, বোকাইগর, মাওহা ও ভাংনামারী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বোরো চাষের পাশাপাশি ভুট্টা আবাদ করছে কৃষক। জমিতে বেড়ে উঠা ভুট্টা গাছের পাতা বাতাসে দোল খাচ্ছে । সেই সাথে কৃষক ও উদ্যোক্তরা স্বপ্ন দেখছে লাভের।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের মাশাল্লাহ এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আলভী বলেন, ভুট্টা পাতার সাইলেজ গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে বেশ জনপ্রিয়। আমি সাইলেজ করার জন্য ৬০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। প্রতিবিঘায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। লাভ হয় কয়েক গুণ।
সহনাটি ইউনিয়নের কৃষক বোরহান উদ্দিন বলেন, বোরো চাষে সেচ বেশি, খরচ অনেক। কিন্তু ভুট্টা চাষে বেশি সেচ লাগে না, খরচ কম, লাভ বেশি। ৬ কাঠা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টার পাতা গবাদি পশুর চাহিদা মিটাবে। পাশাপাশি দানা বিক্রি করেও আমি লাভবান হবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লিপি বলেন, মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি পোলট্রি, ডেইরি ও ফিশফিড হিসেবেও ভুট্টার চাহিদা প্রচুর। বাজার ভালো থাকায় কৃষক ও তরুণরা ভুট্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া না হলে বাম্পার ফলন হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, এই উপজেলায় গবাদি পশুর একটি নিরব বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তারা বেকারত্ব ঘুচাতে ভুট্টা চাষ করে সাইলেজ করে বিক্রি করছে। এতে একদিকে যেমন তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে তরুণরা গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ