০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

কেসিসি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ লক্ষ্যে রবিবার থেকে মাঠে বিজিবি নামানো হয়েছে এবং তারা মহানগরীতে দুপুর থেকেই টহল শুরু করেছে। নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটেলিয়ান, আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থাকবে র‌্যাবের ৩২টি টহল টিম এবং চারটি স্টাইকিং ফোর্স।

একই সঙ্গে নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সিটি নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনের লক্ষ্যে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে নামানো হয়েছে। তারা কেন্দ্র ভিত্তিক নিজ নিজ অধীক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের নির্বাচনি পর্যবেক্ষক টিম রবিবার দুপুর থেকে পর্যবেক্ষণ কাজ শুরু করে।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন রবিবার খণ্ড খণ্ড আকারে মিছিল করেছে প্রার্থীদের সমর্থকরা। শেষ দিনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘কালো টাকা’ ছড়ানোর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন, আর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট ডাকাতির’ পরিকল্পনার অভিযোগ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রচারের শেষ সময়ে এসেও দুই প্রার্থীর এমন বাকযুদ্ধে ভোটারদের মধ্যে ‘চাপা আতঙ্ক’ বিরাজ করছে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী এক সংস্থা।

ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স বিতরণ করা হবে সোমবার দুপুর থেকে। ১ হাজার ৫৬১টি ভোটকক্ষের প্রতিটির জন্য একটি করে ও মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটির জন্য অতিরিক্ত হিসেব আরো একটি করে ব্যালট বাক্স বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সোমবার দুপুরে এগুলো বিতরণ করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসাররা এসব সামগ্রী গ্রহণ করবেন।

নির্বাচনে মোট পাঁচজন মেয়র প্রার্থী, সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২ জন।

ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে সকল প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় রবিবার রাত ১২টায় প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগসহ সকল প্রকার প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে রবিবার রাতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। নির্বাচনের সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুলনা শহরব্যাপী পুলিশের ধরপাকড় অভিযান চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা-ভাঙচুর হচ্ছে। সারা শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।

অপরদিকে কেসিসি নির্বাচনে জনগণ নৌকার বিজয়ের প্রহর গুনছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই ৩১টি ওয়ার্ডে নির্বাচনি প্রচার শেষ করেছি। এখন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, নির্বাচন কমিশনের পরিষ্কার মেসেজ- একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষম হব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

কেসিসি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার

প্রকাশিত : ১১:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ লক্ষ্যে রবিবার থেকে মাঠে বিজিবি নামানো হয়েছে এবং তারা মহানগরীতে দুপুর থেকেই টহল শুরু করেছে। নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটেলিয়ান, আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থাকবে র‌্যাবের ৩২টি টহল টিম এবং চারটি স্টাইকিং ফোর্স।

একই সঙ্গে নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সিটি নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনের লক্ষ্যে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে নামানো হয়েছে। তারা কেন্দ্র ভিত্তিক নিজ নিজ অধীক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের নির্বাচনি পর্যবেক্ষক টিম রবিবার দুপুর থেকে পর্যবেক্ষণ কাজ শুরু করে।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন রবিবার খণ্ড খণ্ড আকারে মিছিল করেছে প্রার্থীদের সমর্থকরা। শেষ দিনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘কালো টাকা’ ছড়ানোর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন, আর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট ডাকাতির’ পরিকল্পনার অভিযোগ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রচারের শেষ সময়ে এসেও দুই প্রার্থীর এমন বাকযুদ্ধে ভোটারদের মধ্যে ‘চাপা আতঙ্ক’ বিরাজ করছে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী এক সংস্থা।

ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স বিতরণ করা হবে সোমবার দুপুর থেকে। ১ হাজার ৫৬১টি ভোটকক্ষের প্রতিটির জন্য একটি করে ও মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটির জন্য অতিরিক্ত হিসেব আরো একটি করে ব্যালট বাক্স বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সোমবার দুপুরে এগুলো বিতরণ করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসাররা এসব সামগ্রী গ্রহণ করবেন।

নির্বাচনে মোট পাঁচজন মেয়র প্রার্থী, সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২ জন।

ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে সকল প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় রবিবার রাত ১২টায় প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগসহ সকল প্রকার প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে রবিবার রাতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। নির্বাচনের সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুলনা শহরব্যাপী পুলিশের ধরপাকড় অভিযান চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা-ভাঙচুর হচ্ছে। সারা শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।

অপরদিকে কেসিসি নির্বাচনে জনগণ নৌকার বিজয়ের প্রহর গুনছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই ৩১টি ওয়ার্ডে নির্বাচনি প্রচার শেষ করেছি। এখন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, নির্বাচন কমিশনের পরিষ্কার মেসেজ- একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষম হব।