খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
নগরীর পাইওনিয়ার হাই-স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবং নগরীর রাহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জু। উভয়ই ভোটে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খালেক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হচ্ছে, স্বতঃস্ফূর্ত হচ্ছে। আজকের নির্বাচন ২০১৩ সালের মতোই সুষ্ঠু হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি আরো বলেন, খুলনার উন্নয়নের জন্যই ভোটাররা নৌকায় ভোট দেবেন।
২০০৮ সালে মেয়র পদে নির্বাচিত হন তালুকদার আবদুল খালেক। পাঁচ বছর খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করার পর খালেক ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে হেরে যান। সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী এবারের নির্বাচনে।

অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা যদি নিরপেক্ষ হয় তবে আমিই জয়ী হব।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার কিছু এজেন্ট নুতনবাজারসহ তাদের নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না। দলীয় কর্মীরা গ্রেফতার ও হয়রানির ভয়ে কেন্দ্রেও যেতে পারছেন না। ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকেরা। তাঁরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে জটলা পাকাচ্ছেন। বিএনপির পোলিং এজেন্ট, সমর্থক ও ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে ঢুকতে না পারেন, এ জন্য ঘেরাও করে রেখে আতঙ্কজনক পরস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তারা।
তবে মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা সাংবাদিকদের জানান, তারা কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকেরা। তাঁরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে জটলা পাকাচ্ছেন। বিএনপির পোলিং এজেন্ট, সমর্থক ও ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে ঢুকতে না পারেন, এ জন্য ঘেরাও করে রেখে আতঙ্কজনক পরস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তাঁরা।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এবার বিএনপির প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে লড়ছেন তিনি।
এদিকে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু এবং হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুজ্জাম্মিল হক এবার মেয়র পদে লড়ছেন।
নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯২ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৫ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।
ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সোনালী সেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের ভেতর সব ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করছে। তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা সহিংসতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















