১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভেড়ামারায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার সম্প্রদায়।

ঈদুল আযহার আনন্দ যেন সবার ঘরে দরজায় করা নাড়ছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদুল আযহা। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের অন্যতম উপকরণ ছুরি, চাকু, দা, বটি, চাপাতি লোহার বিভিন্ন সামগ্রিক চাহিদা বেড়েছে। এসব উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার সম্প্রদায়। তাই এখন দম ফেলার সময় নাই তাদের। হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে ধান কাটার মৌসুমে কাচি আর কোরবানি ঈদে চাকু, ছুরি, চাপাতি, বটির বেশ দরকার পরে। এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার কামার সম্প্রদায়। হাট-বাজারের কামার গলিতে দিনরাত টুংটাং শব্দে মুখরিত থাকে আশেপাশের এলাকা। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবছরও। কামার সম্প্রদায় জানান, এক সময় তাদের বেশ কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। আমাদের অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। এখন হাতের তৈরি জিনিসের কদর কমে গেছে তাই সারা বছর তেমন কোন কাজ থাকেনা। তবে ধান কাটার মৌসুম ও কোরবানির উপলক্ষে তাদের কদর বেড়ে যায়। এ সময় তাদের দৈনিক ১০০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হলেও দিন শেষে হাতের মুঠোয় কিছুই থাকেনা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন বাজারে সব কামাররা লোহা কিনে সেগুলোকে আগুনে পুড়ে দা, ছুরি, চাপাতি সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। তৈরিকৃত জিনিসপত্র দিয়ে নিজেদের দোকান সাজিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের চাহিদা মোতাবেক কামারের দোকান থেকে জিনিস কিনছেন। অনেক ক্রেতা জানান গত বছরের তুলনায় এবার লোহার দাম অনেক বেশি হাওয়াই লোহার তৈরি জিনিসের দাম বেড়েছে। দা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোট ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বড় ছুরি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, চাপাতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা করে বেচা কেনা হচ্ছে।

অনেকে বলেন, মেশিনের তৈরি আধুনিক যন্ত্রের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদুল আযহা মৌসুমে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলোর মুখ দেখে।
দক্ষিণ রেলগেট সুশান্ত কর্মকার জানান, আমি অন্য কোন কাজ তেমন পারিনা তাই বাপ-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী কর্মকে এখনো ধরে রেখেছি। এই দোকান দিয়ে ছেলে মেয়ে ও সংসারের খরচ জোগাড় দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

গোলাপনগর বাজারের সাধন কর্মকার বলেন, এ বাজারে একটি দুটি কামারের দোকান ছিল বর্তমানে অনেক দোকান হওয়ায় কাজ কমে যাওয়ায় আগের মত রোজগার হয় না। দোকান ভাড়া প্রতি মাসে পরিবারের খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কানাডায় হাইস্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১০

ভেড়ামারায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার সম্প্রদায়।

প্রকাশিত : ০৫:৩৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩

ঈদুল আযহার আনন্দ যেন সবার ঘরে দরজায় করা নাড়ছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদুল আযহা। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের অন্যতম উপকরণ ছুরি, চাকু, দা, বটি, চাপাতি লোহার বিভিন্ন সামগ্রিক চাহিদা বেড়েছে। এসব উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার সম্প্রদায়। তাই এখন দম ফেলার সময় নাই তাদের। হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে ধান কাটার মৌসুমে কাচি আর কোরবানি ঈদে চাকু, ছুরি, চাপাতি, বটির বেশ দরকার পরে। এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার কামার সম্প্রদায়। হাট-বাজারের কামার গলিতে দিনরাত টুংটাং শব্দে মুখরিত থাকে আশেপাশের এলাকা। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবছরও। কামার সম্প্রদায় জানান, এক সময় তাদের বেশ কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। আমাদের অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। এখন হাতের তৈরি জিনিসের কদর কমে গেছে তাই সারা বছর তেমন কোন কাজ থাকেনা। তবে ধান কাটার মৌসুম ও কোরবানির উপলক্ষে তাদের কদর বেড়ে যায়। এ সময় তাদের দৈনিক ১০০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হলেও দিন শেষে হাতের মুঠোয় কিছুই থাকেনা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন বাজারে সব কামাররা লোহা কিনে সেগুলোকে আগুনে পুড়ে দা, ছুরি, চাপাতি সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। তৈরিকৃত জিনিসপত্র দিয়ে নিজেদের দোকান সাজিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের চাহিদা মোতাবেক কামারের দোকান থেকে জিনিস কিনছেন। অনেক ক্রেতা জানান গত বছরের তুলনায় এবার লোহার দাম অনেক বেশি হাওয়াই লোহার তৈরি জিনিসের দাম বেড়েছে। দা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোট ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বড় ছুরি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, চাপাতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা করে বেচা কেনা হচ্ছে।

অনেকে বলেন, মেশিনের তৈরি আধুনিক যন্ত্রের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদুল আযহা মৌসুমে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলোর মুখ দেখে।
দক্ষিণ রেলগেট সুশান্ত কর্মকার জানান, আমি অন্য কোন কাজ তেমন পারিনা তাই বাপ-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী কর্মকে এখনো ধরে রেখেছি। এই দোকান দিয়ে ছেলে মেয়ে ও সংসারের খরচ জোগাড় দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

গোলাপনগর বাজারের সাধন কর্মকার বলেন, এ বাজারে একটি দুটি কামারের দোকান ছিল বর্তমানে অনেক দোকান হওয়ায় কাজ কমে যাওয়ায় আগের মত রোজগার হয় না। দোকান ভাড়া প্রতি মাসে পরিবারের খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ dh