ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা রুমা। এর মধ্যেই বুধবার (২৬ জুলাই) তিনি মাস্টার্স পরীক্ষা দিতে বসেন। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন রুমা। তখনই স্থানীয় ক্লিনিক ও রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ঘুরে তাকে নেওয়া হয় ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।
রুমা বিশ্বাস (২৬) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী লিটন ঘোষ পেশায় সোনা ব্যবসায়ী। তারা রাজবাড়ী শহরের ভাজনচালায় ভাড়া করা বাড়িতে থাকতেন। রুমা রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে গণিতে মাষ্টার্স করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রুমার স্বামী লিটন ঘোষের বাড়িজুড়ে শোকের ছায়া। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বসে আছেন। রুমার সৎকার শেষে দুপুর ১২টার পর বাড়িতে আসেন লিটন। এ সময় তিনি খুব বিমর্ষ ছিলেন। কথা বলতে গিয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন।জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে নতুন ঘুরঘুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুমা বিশ্বাসের সঙ্গে লিটনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। রুমার পড়াশোনা শেষ না হওয়ায় বিয়ের পর তারা সন্তান নেননি। সংসার ও পড়ালেখা দুটোই একসঙ্গে চালাচ্ছিলেন রুমা। এখন পড়াশোনা শেষের দিকে হওয়ায় তারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। আগামী ২৫ আগস্ট ছিল সন্তান প্রবসের নির্ধারিত সময়। তাদের ছেলে সন্তান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রচনা ব্যানার্জী বলেন, রুমা আপু আমার সিনিয়র ছিলেন। আমার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি অসুস্থ ছিলেন। রাজবাড়ী শহরের ডা. আবুল হোসেন কলেজ কেন্দ্রে আমারও পরীক্ষা ছিল। তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলায় ৪১৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন। তাদের মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৯ জন, পাংশায় ৪, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৬ ও গোয়ালন্দ উপজেলায় ৩ জন।
রাজবাড়ীর দুজন নারীর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন বলেন, দুজনই ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একজনের বাড়ি সদর উপজেলায় ও আরেকজনের বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলায়।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো.কামরুল আহসান তালুকদার জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।





















