০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

যে কাজে রোজা মাকরূহ হয়

  • ধর্ম ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ১২:৫০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮
  • 346

প্রত্যেক সুস্থ্য-সবল মুসলিম নর-নারীর উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু কাজ রয়েছে যাতে রোজাদারের রোজা মাকরূহ হয়ে যায়। এ সব কাজে রোজাদারকে সতর্ক থাকতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যে কাজগুলোতে রোজা মাকরূহ হয়-

১. খাবারের স্বাদ গ্রহণ: প্রয়োজন ছাড়া কোনো খাবারের বা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করলে বা চিবালে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। তবে মহিলারা তরকারির লবন বা ঝাল পরখ করার জন্য জিহ্বা দিয়ে চেখে দেখতে পারবে। তরকারির স্বাদ পরীক্ষা করে তা ফেলে দিতে হবে।

২. থুতু বা তরল লা লা গিলে ফেলা: ইচ্ছাকৃতভাবে মুখের মধ্যে থুতু জমা করে তা গিলে ফেললেও রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৩. স্ত্রীকে আসক্তিসহ চুম্বন: রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন বা আলীঙ্গনের ফলে যদি বীর্জপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে; তাহলে এ অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করলে বা জড়িয়ে ধরলে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৪. ঝগড়া-বিবাদ করা: রোজা অবস্থায় ঝগড়া-ঝাটি করে গাল মন্দ করলে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। এমনকি রোজা রেখে জীব-জন্তুর সঙ্গে কষ্টদায়ক আচরণ করলেও রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৫. টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করা: রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার, মাজন বা কয়লা ইত্যাদি দিয়ে দাঁত মাজা মাকরূহ। তবে কোনো কিছু ছাড়া শুধু মিসওয়াক করলে রোজা মাকরূহ হবে না।

৬. অশ্লীল কাজে নিয়োজিত হওয়া: রোজা রেখে অশ্লীল সিনেমাসহ অশালীন ছবি দেখা বা যৌন উত্তেজক লেখা পড়লে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৭. অস্থিরতা দেখানো: রোজা রেখে হা-হুতাশ করা; ক্রমাগতভাবে অস্থিরতা প্রকাশ করতে থাকলে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। সুতরাং রোজা অবস্থায় আল্লাহর ভালবাসায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। অস্থিরতা প্রদর্শন করা যাবে না।

৮. অপবিত্র অবস্থায় দিনযাপন করা: গোসল ফরজ অবস্থায় রোজা রেখে সকাল পর্যন্ত অপবিত্র তথা নাপাক থাকলে; পবিত্রতা অর্জন না করলেও রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়সমূহ থেকে বিরত থেকে সঠিকভাবে রোজা পালন করে তাকওয়া অর্জন এবং গোনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চিকিৎসা শুধু ব্যবসা নয়, মানবসেবাও — প্রমাণ করলেন এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী

যে কাজে রোজা মাকরূহ হয়

প্রকাশিত : ১২:৫০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮

প্রত্যেক সুস্থ্য-সবল মুসলিম নর-নারীর উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু কাজ রয়েছে যাতে রোজাদারের রোজা মাকরূহ হয়ে যায়। এ সব কাজে রোজাদারকে সতর্ক থাকতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যে কাজগুলোতে রোজা মাকরূহ হয়-

১. খাবারের স্বাদ গ্রহণ: প্রয়োজন ছাড়া কোনো খাবারের বা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করলে বা চিবালে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। তবে মহিলারা তরকারির লবন বা ঝাল পরখ করার জন্য জিহ্বা দিয়ে চেখে দেখতে পারবে। তরকারির স্বাদ পরীক্ষা করে তা ফেলে দিতে হবে।

২. থুতু বা তরল লা লা গিলে ফেলা: ইচ্ছাকৃতভাবে মুখের মধ্যে থুতু জমা করে তা গিলে ফেললেও রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৩. স্ত্রীকে আসক্তিসহ চুম্বন: রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন বা আলীঙ্গনের ফলে যদি বীর্জপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে; তাহলে এ অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করলে বা জড়িয়ে ধরলে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৪. ঝগড়া-বিবাদ করা: রোজা অবস্থায় ঝগড়া-ঝাটি করে গাল মন্দ করলে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। এমনকি রোজা রেখে জীব-জন্তুর সঙ্গে কষ্টদায়ক আচরণ করলেও রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৫. টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করা: রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার, মাজন বা কয়লা ইত্যাদি দিয়ে দাঁত মাজা মাকরূহ। তবে কোনো কিছু ছাড়া শুধু মিসওয়াক করলে রোজা মাকরূহ হবে না।

৬. অশ্লীল কাজে নিয়োজিত হওয়া: রোজা রেখে অশ্লীল সিনেমাসহ অশালীন ছবি দেখা বা যৌন উত্তেজক লেখা পড়লে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

৭. অস্থিরতা দেখানো: রোজা রেখে হা-হুতাশ করা; ক্রমাগতভাবে অস্থিরতা প্রকাশ করতে থাকলে রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে। সুতরাং রোজা অবস্থায় আল্লাহর ভালবাসায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। অস্থিরতা প্রদর্শন করা যাবে না।

৮. অপবিত্র অবস্থায় দিনযাপন করা: গোসল ফরজ অবস্থায় রোজা রেখে সকাল পর্যন্ত অপবিত্র তথা নাপাক থাকলে; পবিত্রতা অর্জন না করলেও রোজা মাকরূহ হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিষয়সমূহ থেকে বিরত থেকে সঠিকভাবে রোজা পালন করে তাকওয়া অর্জন এবং গোনাহ থেকে মুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।