০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৃষ্টিতে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি চরমে

টানা ৪/৫ দিনের ভারি বৃষ্টিতে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এলাকার মুল সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক তলিয়ে কিছু কিছু দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনই যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর। অন্যদিকে ড্রেনের ময়লা বৃষ্টির পানিতে মিশে রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাও বেড়েছে। পয়:নিষ্কাশন ও সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এধরণের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা পৌর ছোট শালগাড়িয়া এলাকার ড্রেন ভরে পাবনা-আতাইকুলা মুল সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ওই এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার গলিতে প্রায় হাঁটু পানি বেধে গেছে। এতে কাজ বা অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। সড়কে হাঁটু অবধি পানি জমে থাকায় প্রয়োজনীয় যানবাহন দেখা যাচ্ছে না। যে কয়েকটি পাওয়া যাচ্ছে চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ হাঁটু পানি ঠেলে বাইরে যাচ্ছেন। বাচ্চাদের স্কুলে নেবার ক্ষেত্রেও একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মায়েদের। তবে ছোট বাচ্চাদের বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেন না কেউই। একই চিত্র পৌর এলাকার মহিষের ডিপো, শিবরামপুর ও রাধানগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। অন্যদিকে ড্রেন ভরে মাসুম বাজার ও বাংলা ক্লিনিক এলাকার অসংখ্য দোকানের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে দোকানের মালামাল নষ্ট হওয়া সহ ব্যবসায়িক স্থবিরতায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দোকানিরা।

পৌর বাস টার্মিনালের বাংলা ক্লিনিক এলাকার দোকানি শফি ইসলাম জানান, আজ সকালে দোকান খুলতেই দেখি পানি ঢুকেছে। কিছু পানিতে ভাসছে, এছাড়া নষ্ট হয়েছে বেশকিছু মালামাল। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্থাপনা গড়ে তোলার কারণেই এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব জানান, বাসার গেইটের সামনে পানি। কোনো রিকশাও ঢুকছে না। বাধ্য হয়ে পানি ঠেলেই অফিসে যেতে হচ্ছে৷ বাচ্চাদের আজ স্কুলে নেবার দরকার নাই বলে এসেছি। নোংরা ও দূষিত পানি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রাধানগর রেটিনা মোড় এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকঠাক ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। ময়লায় লাইন জ্যাম হয়ে থাকে। বেশি পানি জমলে সেগুলো বের হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরো জানান, পরিচ্ছন্নকর্মীদের কিছু বলাও যায় না। উত্তর দেয় যে টাকা পারিশ্রমিক দেয় তাতে এর চেয়ে বেশি পরিষ্কার হয় না। এভাবেই দায় সাড়া কাজ করে চলে যায় তারা। আর ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের।

এব্যাপারে পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান জানান, কয়েকদিন ধরে টানা ভারিবর্ষণ হচ্ছে। এর কারণে কিছু কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা হতে পারে। পুরনো ড্রেনগুলো নানা জটিলতায় প্রশস্তকরণ সহজ হচ্ছে না, তবে নতুন যে ড্রেনগুলো করা হচ্ছে সেগুলো যথেষ্ট প্রশস্ত। বাকি যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, বাস্তবায়ন করা গেলে এধরণের অনেক সমস্যাই ঘুচে যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বৃষ্টিতে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত : ০৫:২১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩

টানা ৪/৫ দিনের ভারি বৃষ্টিতে পাবনার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এলাকার মুল সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক তলিয়ে কিছু কিছু দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনই যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর। অন্যদিকে ড্রেনের ময়লা বৃষ্টির পানিতে মিশে রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাও বেড়েছে। পয়:নিষ্কাশন ও সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এধরণের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা পৌর ছোট শালগাড়িয়া এলাকার ড্রেন ভরে পাবনা-আতাইকুলা মুল সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ওই এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার গলিতে প্রায় হাঁটু পানি বেধে গেছে। এতে কাজ বা অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। সড়কে হাঁটু অবধি পানি জমে থাকায় প্রয়োজনীয় যানবাহন দেখা যাচ্ছে না। যে কয়েকটি পাওয়া যাচ্ছে চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ হাঁটু পানি ঠেলে বাইরে যাচ্ছেন। বাচ্চাদের স্কুলে নেবার ক্ষেত্রেও একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মায়েদের। তবে ছোট বাচ্চাদের বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেন না কেউই। একই চিত্র পৌর এলাকার মহিষের ডিপো, শিবরামপুর ও রাধানগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। অন্যদিকে ড্রেন ভরে মাসুম বাজার ও বাংলা ক্লিনিক এলাকার অসংখ্য দোকানের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে দোকানের মালামাল নষ্ট হওয়া সহ ব্যবসায়িক স্থবিরতায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দোকানিরা।

পৌর বাস টার্মিনালের বাংলা ক্লিনিক এলাকার দোকানি শফি ইসলাম জানান, আজ সকালে দোকান খুলতেই দেখি পানি ঢুকেছে। কিছু পানিতে ভাসছে, এছাড়া নষ্ট হয়েছে বেশকিছু মালামাল। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও স্থাপনা গড়ে তোলার কারণেই এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব জানান, বাসার গেইটের সামনে পানি। কোনো রিকশাও ঢুকছে না। বাধ্য হয়ে পানি ঠেলেই অফিসে যেতে হচ্ছে৷ বাচ্চাদের আজ স্কুলে নেবার দরকার নাই বলে এসেছি। নোংরা ও দূষিত পানি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রাধানগর রেটিনা মোড় এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকঠাক ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। ময়লায় লাইন জ্যাম হয়ে থাকে। বেশি পানি জমলে সেগুলো বের হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরো জানান, পরিচ্ছন্নকর্মীদের কিছু বলাও যায় না। উত্তর দেয় যে টাকা পারিশ্রমিক দেয় তাতে এর চেয়ে বেশি পরিষ্কার হয় না। এভাবেই দায় সাড়া কাজ করে চলে যায় তারা। আর ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের।

এব্যাপারে পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান জানান, কয়েকদিন ধরে টানা ভারিবর্ষণ হচ্ছে। এর কারণে কিছু কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা হতে পারে। পুরনো ড্রেনগুলো নানা জটিলতায় প্রশস্তকরণ সহজ হচ্ছে না, তবে নতুন যে ড্রেনগুলো করা হচ্ছে সেগুলো যথেষ্ট প্রশস্ত। বাকি যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, বাস্তবায়ন করা গেলে এধরণের অনেক সমস্যাই ঘুচে যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh