০৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঘরের চালা দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, না ঘুমিয়ে বসে থাকেন বৃদ্ধা রুপজান

৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুপজান খাতুন। ১৫ বছরেরও বেশি সময় আগে মারা যান স্বামী সিরাজ প্রামানিক । দেখার মত নেই তেমন সন্তানসন্তুতি। এ বাড়ি ওবাড়ি কাজ করে কোনোরকমে চলেন তিনি। ভালো-মন্দ খাওয়া তো দুরের কথা অনেক সময় থাকতে হয় না খেয়ে। বাঁশের নড়বড়ে খুঁটির ওপর টিনের ছাউনি। সামনের চালায় পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে বৃষ্টির পানি ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা। বেড়াগুলো বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি, তাও আবার ভাঙাচোরা। পেছনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় চাঁদ-সূর্য। চালের ওপরে পলিথিন দেয়া হয়েছে রোদ-বৃষ্টি-শীত থেকে রেহাই পাবার আশায়। স্বামীর রেখে যাওয়া আড়াই শতক জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা এমনই একটি ঘরে বাস করেন পাবনা চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পানা কুড়া গ্রামের বাসিন্দা এই বৃদ্ধা রুপজান খাতুন। সরকারি-বেসরকারি নানা সামাজিক সুরক্ষা সেবা থাকলেও এর একটিও পান না তিনি। সেভাবে কেউই নেন না তার খোঁজ খবর।

প্রতিবেশীরা জানান, ঝুপড়ি ঘরে একাই বসবাস করেন রুপজান। ক্ষুধার তাগিদে কাঁথা সেলাই ও মানুষের বাসায় কাজ করেন তিনি। এ থেকে যা সামান্য মজুরি আসে, তা দিয়ে টেনেটুনে চলেন। ফলে থাকার একমাত্র ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থা। চালের ওপরে দেয়া পলিথিন ছিঁড়ে গেছে, ভাঙা বেড়াগুলোর ফাঁক দিয়ে রোদবৃষ্টি অনবরতই উঁকি দেয়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ওই ঘরে থাকতে পারেন না তিনি। আশ্রয় নিতে হয় অন্যত্র। সাধারণ বৃষ্টিতেও ঘুমানো সম্ভব হয় না। বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পানি পড়ে। অথচ সেই ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও নেই তার।

রুপজানের প্রতিবেশি মামুন বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় সে খুব টেনশনে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে থাকতে পারেন না তিনি। আবার টাকার অভাবে ঘরটি ঠিকও করতে পারছেন না। কয়েক বছর হলো দেখছি তার এই ঘরের অবস্থা। বৃদ্ধাটি অতি কষ্টেই জীবনযাপন করেন।
আরেক প্রতিবেশী সুমন মালিথা বলেন, সরকারি-বেসরকারি নানা সামাজিক সুরক্ষা সেবা রয়েছে। সেগুলোর আওতায় তার ঘরটি মেরামতকরণ সহ অন্যান্যভাবেও তাকে সহায়তা করা যায়। কিন্তু কেউ যেনো দেখেও দেখছে না।

এব্যাপারে কথা বলতে গেলে দু:খ প্রকাশ করে রুপজান বলেন, বয়স হইছে, এখন ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। এক দিন কাজ করলে পরের দিন পারি না। যা আয় হয় তা দিয়ে ঠিকঠাক ভাতই জোটে না, তার মধ্যে ঘর ঠিক করবো কিভাবে?
তিনি বলেন, বেড়া-চাল ভাঙা। সবদিক থেকে পানি পড়ে আর খরার সময় রোদ। ঝড় বৃষ্টি হলে ঘুমানো যায় না। ঘরের কোনো এক কোণে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দেখার মত স্বামী-সন্তান বা কেউই নাই। আমার নিজেরও সামর্থ্য নাই। সরকার কতকিছু দেয় আমি সেগুলোও পাই না। যার কারণে এভাবেই কোনো রকম বেঁচে আছি।

এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেদওয়ানুল হালিম জানান, বয়স অনুযায়ী উনি প্রথমত বয়স্কভাতা ও স্বামী মারা যাওয়ায় বিধবা ভাতা পেতে পারেন। এছাড়া সরকারি নানাধরণের সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেতে পারেন। উনাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলুন আমি উনাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ঘরের চালা দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, না ঘুমিয়ে বসে থাকেন বৃদ্ধা রুপজান

প্রকাশিত : ০৭:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০২৩

৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুপজান খাতুন। ১৫ বছরেরও বেশি সময় আগে মারা যান স্বামী সিরাজ প্রামানিক । দেখার মত নেই তেমন সন্তানসন্তুতি। এ বাড়ি ওবাড়ি কাজ করে কোনোরকমে চলেন তিনি। ভালো-মন্দ খাওয়া তো দুরের কথা অনেক সময় থাকতে হয় না খেয়ে। বাঁশের নড়বড়ে খুঁটির ওপর টিনের ছাউনি। সামনের চালায় পলিথিন দিয়ে কোনো রকমে বৃষ্টির পানি ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা। বেড়াগুলো বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি, তাও আবার ভাঙাচোরা। পেছনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় চাঁদ-সূর্য। চালের ওপরে পলিথিন দেয়া হয়েছে রোদ-বৃষ্টি-শীত থেকে রেহাই পাবার আশায়। স্বামীর রেখে যাওয়া আড়াই শতক জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা এমনই একটি ঘরে বাস করেন পাবনা চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পানা কুড়া গ্রামের বাসিন্দা এই বৃদ্ধা রুপজান খাতুন। সরকারি-বেসরকারি নানা সামাজিক সুরক্ষা সেবা থাকলেও এর একটিও পান না তিনি। সেভাবে কেউই নেন না তার খোঁজ খবর।

প্রতিবেশীরা জানান, ঝুপড়ি ঘরে একাই বসবাস করেন রুপজান। ক্ষুধার তাগিদে কাঁথা সেলাই ও মানুষের বাসায় কাজ করেন তিনি। এ থেকে যা সামান্য মজুরি আসে, তা দিয়ে টেনেটুনে চলেন। ফলে থাকার একমাত্র ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থা। চালের ওপরে দেয়া পলিথিন ছিঁড়ে গেছে, ভাঙা বেড়াগুলোর ফাঁক দিয়ে রোদবৃষ্টি অনবরতই উঁকি দেয়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ওই ঘরে থাকতে পারেন না তিনি। আশ্রয় নিতে হয় অন্যত্র। সাধারণ বৃষ্টিতেও ঘুমানো সম্ভব হয় না। বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পানি পড়ে। অথচ সেই ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও নেই তার।

রুপজানের প্রতিবেশি মামুন বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় সে খুব টেনশনে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে থাকতে পারেন না তিনি। আবার টাকার অভাবে ঘরটি ঠিকও করতে পারছেন না। কয়েক বছর হলো দেখছি তার এই ঘরের অবস্থা। বৃদ্ধাটি অতি কষ্টেই জীবনযাপন করেন।
আরেক প্রতিবেশী সুমন মালিথা বলেন, সরকারি-বেসরকারি নানা সামাজিক সুরক্ষা সেবা রয়েছে। সেগুলোর আওতায় তার ঘরটি মেরামতকরণ সহ অন্যান্যভাবেও তাকে সহায়তা করা যায়। কিন্তু কেউ যেনো দেখেও দেখছে না।

এব্যাপারে কথা বলতে গেলে দু:খ প্রকাশ করে রুপজান বলেন, বয়স হইছে, এখন ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। এক দিন কাজ করলে পরের দিন পারি না। যা আয় হয় তা দিয়ে ঠিকঠাক ভাতই জোটে না, তার মধ্যে ঘর ঠিক করবো কিভাবে?
তিনি বলেন, বেড়া-চাল ভাঙা। সবদিক থেকে পানি পড়ে আর খরার সময় রোদ। ঝড় বৃষ্টি হলে ঘুমানো যায় না। ঘরের কোনো এক কোণে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দেখার মত স্বামী-সন্তান বা কেউই নাই। আমার নিজেরও সামর্থ্য নাই। সরকার কতকিছু দেয় আমি সেগুলোও পাই না। যার কারণে এভাবেই কোনো রকম বেঁচে আছি।

এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেদওয়ানুল হালিম জানান, বয়স অনুযায়ী উনি প্রথমত বয়স্কভাতা ও স্বামী মারা যাওয়ায় বিধবা ভাতা পেতে পারেন। এছাড়া সরকারি নানাধরণের সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেতে পারেন। উনাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলুন আমি উনাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh