কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা ও আরসা বিরোধী গ্রুপের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্যাম্পকেন্দ্রিক এক আরসা কমান্ডারসহ দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) ভোরে উখিয়া ৫ নাম্বার ও ২ ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে টেকনাফে উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন পুলিশ।
উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সোমবার ভোর রাতে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ২ ইস্ট ও ৫ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংগঠন আরসা ও আরসা বিরোধী গ্রুপের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই আরসা সদস্য নিহত হয়। খবর পেয়ে ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এপিবিএন পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দুই জন হলো ক্যাম্প ৭ এর ডি ৫ ব্লকের মীর আহমদের ছেলে সাকিবুল হাসান প্রকাশ সানা উল্লাহ এবং একই ক্যাম্পের এ ব্লকের আব্দুল গফুরের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, দুজনেই আরসা সদস্য। ক্যাম্পে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরসা ও আরসা বিরোধী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, নিহত সানাউল্লাহ কুতুপালং ক্যাম্পের আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি ক্যাম্প-২/ইস্টে আবুল কালাম মাঝি হত্যা, তাহের মাঝি হত্যা, আমিন মাঝি হত্যা চেষ্টা সহ বহু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িত। এছাড়াও নিহত সানাউল্লাহ এক বছর পূর্বে এবিপিএন সদস্য মোঃ সাঈদুল ইসলাম কে কুপিয়ে জখম করার ঘটনার সাথে জড়িত ছিল।
ঘটনার পরপরই ক্যাম্পে এপিবিএন পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে ১৬ এপিবিএন পুলিশের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নুর জানিয়েছে, আজ সোমবার ভোরে ১৬ এপিবিএন পুলিশের একটি টিম টেকনাফের উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ৫ ব্লকে অভিযান চালিয় ৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটারগান বন্দুক (এলজি) ও ১৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

























