গত ৩/৪ পরিবেশ স্বাভাবিক হলেও এর আগে টানা কয়েকদিন হয়েছে ভারী বৃষ্টি। ঠিক এরপরই কাঁচাবাজারে আবার উঠেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঝাঁজ। মরিচসহ বেশকিছু সবজির দাম বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এতে আবার বাজারের ব্যাগের নিচে চাপা পড়েছে ক্রেতাদের স্বস্তি।
দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে পাবনা অন্যতম শ্রেষ্ঠ জেলা। দেশে পেঁয়াজের মোট উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশই উৎপাদন হয় পাবনা জেলার কয়েকটি উপজেলায়। পেঁয়াজ উৎপাদনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জেলা পাবনার বাজারগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ। কৃষকের ঘরে পেঁয়াজের মজুত ফুরিয়ে আসছে। তাই বাজারে দেশি পেঁয়াজও কম উঠা শুরু করেছে। একে কাজে লাগিয়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজের মুল্যও বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সরকার পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও খোলা বাজারে তা মানার বালাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা বড় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি। গতকাল আমদানিকৃত পেঁয়াজের বাজার ছিলো ৭০ ও দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টির পূর্বে দেশি বিক্রি হয়েছে ৭০ ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিলো। অর্থাৎ কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ টাকা।
এদিকে সরকার প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা সহ মোট ৯টি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না এসবকিছুই। এ মূল্য তালিকা মানাতে আঞ্চলিক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঝে মাঝেই বাজার তদারকি করলেও ব্যবসায়ীদের তা মানাতে পারছেন না।
বাজারে আসা পেঁয়াজ ক্রেতা মাহবুব উল জানান, এমনিতেই বাজারে আগুন। এর মধ্যে সুযোগ বুঝে আরো দাম বাড়ানো হয়। আসলেই কি ক্রেতারা কিনে খাবেন, না কি করবেন সেটিই আমার বুঝে আসছে না। ব্যয় বেড়েছে, আয় বাড়েনি। এভাবে তো বাঁচা যায় না।
আরেক ক্রেতা রাজিয়া রহমান জানান, বৃষ্টি হলো আর প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১০ থেকে ২০ টাকা করে বেড়ে গেলো। এগুলো কি ধরণের ব্যবসায়িক শিষ্টাচার? সরকারিভাবে পণ্যমূল্য নির্ধারণ খাতা কলমে ছাড়া বাজারে তো তেমন দেখছি না। হাজার টাকায় এক ব্যাগ বাজার হয় না। এমন অসহায়ত্বের কথা কাকে জানাবো আমরা?
বড়বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা রহিম জানান, আজ দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকায় বিক্রি করলাম। দাম বাড়ার কারণে প্রত্যেকটা কাস্টমার কেনার আগে কতক্ষণ খ্যাচখ্যাচ করলো। এভাবে বেচা-বিক্রি করা কষ্ট। সরকার দাম নির্ধারণ করলেও আমরা কিনতে গিয়ে সেরকম পাই না। বাধ্য হয়েই বেশিতে বেচতে হয়।
এব্যাপারে পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি জানান, আমরা নিয়মিতই বাজার মনিটরিং করছি। অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করছি। চেষ্টা করছি সরকার নির্ধারিত বাজারমূল্য বজায় রাখার।
পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা পাবনা। দুই দফায় এ জেলায় পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়। কন্দ বা মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শুরুর দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনব্যাপী হয়ে যাওয়া টানা ভারী বৃষ্টি তেমন প্রভাব না ফেলতে পারলেও এবার আমন ধান দেরিতে উঠায় এ পেঁয়াজ আবাদে কিছুটা ধীরগতি আসতে পারে। অন্যান্য বছরগুলোতে ডিসেম্বরে এ পেঁয়াজ হাটে উঠতে শুরু করলেও এবছর তা জানুয়ারিতে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে হালি বা চারা পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয় ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারি মাসে। এ পেঁয়াজ মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শুরুতে হাটে উঠলেও এবার তা উঠতে দেরি হবে।
পাবনা কৃষি সসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দিন জানান, জেলার বড় পেঁয়াজ উৎপাদনের জমিগুলো বিল এলাকায়। এসব জমি থেকে এখনো বর্ষার পানি সরেনি। যার কারণে জমি প্রস্তুত সহ নানা কার্যক্রমে এখনো কোনো কৃষকই যাননি। তাছাড়া আমন ধান দেরিতে উঠায় এবার পেঁয়াজ আবাদ শুরু কিছুটা দেরিতে হবে। এবছর প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত মৌসুমে কৃষক পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এ সিজনে এর আবাদ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















