০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউপি সদস্যের দম্ভ : উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মেলা চালাচ্ছি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিনের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর ফারুক নামে প্রশাসনের সহযোগীতায় মেলা বসানোর নামে জোর করে বালু ভরাট করে মসজিদের জমি ও শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জোর পূর্বক জমি দখল করে মসজিদের জমি ও শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি রেডিমিক্স কোম্পানীকে দিয়ে দেওয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। মসজিদের জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক দম্ভ করে বলেন, আমি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মেলার আয়োজন করেছি। এদিকে, আপনারা পত্র-পত্রিকায় লিখলেও আমার কিছু আসে যায়না। অবৈধ মেলার আয়োজনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন ম্যানেজ করায় প্রশাসন এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। মসজিদের মতো একটা পবিত্র স্থানে অবৈধভাবে মেলার আয়োজন করায় আলেম ওলামা ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মসজিদের জায়গায় মেলা বন্ধ না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবরোধের হুমকি দেন স্থানীয় আলেম ওলামারা। মেলার নামে শীতলক্ষ্যা নদী ও মসজদের জমি দখল করেছে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ একে অপরের উপর দায় দিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ইছাখালী এলাকার শীতলক্ষ্যার নদীর পশ্চিমপাড়ে বীর প্রতীক গাজী সেতুর নিচে উত্তর পাড়া জামে মসজিদের নামে সাড়ে ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রায় ৬০ বছর আগে মৃত সৈয়দ আলী সাড়ে ৫ শতাংশ জমি ইছাখালী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফা করে দিয়ে যান। কিন্তু বিগত বেশকিছুদিন যাবৎ ইছাখালী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জমিটা দখলে নিতে নানাভাবে পায়তারা করে আসছিল। পরে ৩ অক্টোবর ফারুক তার লোকজন নিয়ে এসে জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে ফেলেন। এতে স্থানীয়রা বাঁধা দিতে গেলে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন জমিটা তার প্রয়োজন এখানে মেলা বসানো হবে। তাই সেখানে সে বালু ভরাট করেছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে মেলা চলছে। মেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্রেন, নাগরদোলা, ইলেকট্রিক নৌকা, শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন রাইড থেকে নেওয়া হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। প্রতিদিন মেলা থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয় বলে জানা গেছে। মসজিদের জমি মেলার আয়োজন করার নামে তিনি বালু ভরাট করে দখলে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের জমি, মসজিদের জমিসহ নিরীহদের জমি জোর পূর্বক জবরদখলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সহযোগীতা করে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ইউপি সদস্য’র সহযোগীতায় গাজী সেতুর উভয় পাশে খনন ও বালু ভরাটের কারনে ঝুকির মধ্যে রয়েছে সেতুটি এমনও অভিযোগ রয়েছে।

ইছাখালী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের জমিদাতার নাতি কেরামত আলী, হাসিবুর, নুর মোহাম্মদ ও মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দাদা এই জমিটি মসজিদের নামে দিয়ে গেছেন। এই ইউপি সদস্যের কাছে সমাজের শত শত পরিবার অসহায়। আমরা এর প্রতিকার চাই। সে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে এমন কর্মকান্ড করছে তার খুটির জোর কোথায়। ফারুম মেম্বার বালু ভরাট করে মসজিদের জমি ও পাশেই শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করেছে। মেলায় শেষে সে ওই জমি পাশেই রেডিমিক্স কোম্পানীর কাছে দিয়ে দিবে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার পর ফারুক মেম্বার তার বাহিনী দিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িছাড়া রয়েছি।

নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন বলেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেষে রেডিমিক্স, ডকইয়ার্ডসহ বেশ কয়েকপি বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের রয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। আর এ বাহিনী দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে নদীর জমিসহ নিরীহদের জমি জোরপুর্বক জবরদখল করে সহযোগীতা করছে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন। রাস্তা মেরামত বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ এনে আত্বসাৎ করেছেন। অথচ রাস্তা মেরামত করেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠান গুলো দেখভাল করার জন্যও লাখ লাখ টাকা আদায় করছে এই ইউপি সদস্য। এই ইউপি সদস্য’র সহযোগীতায় গাজী সেতুর উভয় পাশে খনন ও বালু ভরাটের কারনে ঝুকির মধ্যে রয়েছে সেতুটি। তার লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস টুকুও কেউ পায়না কেউ। দূর্নীতির অভিযোগ এনে, গত মাসে স্থানীয় এলাকাবাসী ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে ইছাখালী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের বাবা দাদার আমল থেকে মসজিদটি সমাজের মানুষ এবাদত করেছেন। অথচ একজন জনপ্রতিনিধি তিনি আমাদের মসজিদের জমি দখলে নিয়ে মেলা বসাচ্ছেন এটা কেমন। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, জমিটা বালু ভরাট করেছি এটা ঠিক। কিন্তু জমি দখলে নিয়েছি এটা ঠিক না। মসজিদের জমি দখলে নিয়েছি এটা নয় এখানে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে মেলা শেষ হলে খালি হয়ে যাবে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনিত অন্যান্য অভিযোগ গুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফয়সাল হক বলেন, ইউপি সদস্য ফারুক মেলার আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দেন। পরে আবেদনটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার অনুমোদন না দিলে মেলা বন্ধ হবে।এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ পর্যন্ত আমার কাছে মেলার আয়োজনের ব্যাপারে কোন আবেদন আসেনি। আর আসলেও আমরা এখন কোন মেলার আয়োজনের জন্য অনুমতি দিবো না।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক বলেন, আমার কাছে মেলার আবেদন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমতি দেওয়ার আগে মেলার চালু করার ব্যাপারে তিনি বলেন, অনুমতির পাওয়ার আগে যেহেতু মেলা চালু হয়েছে বিষয়টি আমি দেখছি।এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, আমাদের অনুমতি ছাড়া কোন প্রকার মেলা বসতে দেয়া হবেনা। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/dh

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ইউপি সদস্যের দম্ভ : উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মেলা চালাচ্ছি

প্রকাশিত : ০৫:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিনের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর ফারুক নামে প্রশাসনের সহযোগীতায় মেলা বসানোর নামে জোর করে বালু ভরাট করে মসজিদের জমি ও শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জোর পূর্বক জমি দখল করে মসজিদের জমি ও শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি রেডিমিক্স কোম্পানীকে দিয়ে দেওয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। মসজিদের জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক দম্ভ করে বলেন, আমি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মেলার আয়োজন করেছি। এদিকে, আপনারা পত্র-পত্রিকায় লিখলেও আমার কিছু আসে যায়না। অবৈধ মেলার আয়োজনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন ম্যানেজ করায় প্রশাসন এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। মসজিদের মতো একটা পবিত্র স্থানে অবৈধভাবে মেলার আয়োজন করায় আলেম ওলামা ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মসজিদের জায়গায় মেলা বন্ধ না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবরোধের হুমকি দেন স্থানীয় আলেম ওলামারা। মেলার নামে শীতলক্ষ্যা নদী ও মসজদের জমি দখল করেছে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ একে অপরের উপর দায় দিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ইছাখালী এলাকার শীতলক্ষ্যার নদীর পশ্চিমপাড়ে বীর প্রতীক গাজী সেতুর নিচে উত্তর পাড়া জামে মসজিদের নামে সাড়ে ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রায় ৬০ বছর আগে মৃত সৈয়দ আলী সাড়ে ৫ শতাংশ জমি ইছাখালী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফা করে দিয়ে যান। কিন্তু বিগত বেশকিছুদিন যাবৎ ইছাখালী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জমিটা দখলে নিতে নানাভাবে পায়তারা করে আসছিল। পরে ৩ অক্টোবর ফারুক তার লোকজন নিয়ে এসে জমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে ফেলেন। এতে স্থানীয়রা বাঁধা দিতে গেলে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন জমিটা তার প্রয়োজন এখানে মেলা বসানো হবে। তাই সেখানে সে বালু ভরাট করেছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে মেলা চলছে। মেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান বসানো হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্রেন, নাগরদোলা, ইলেকট্রিক নৌকা, শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন রাইড থেকে নেওয়া হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। প্রতিদিন মেলা থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয় বলে জানা গেছে। মসজিদের জমি মেলার আয়োজন করার নামে তিনি বালু ভরাট করে দখলে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের জমি, মসজিদের জমিসহ নিরীহদের জমি জোর পূর্বক জবরদখলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সহযোগীতা করে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ইউপি সদস্য’র সহযোগীতায় গাজী সেতুর উভয় পাশে খনন ও বালু ভরাটের কারনে ঝুকির মধ্যে রয়েছে সেতুটি এমনও অভিযোগ রয়েছে।

ইছাখালী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের জমিদাতার নাতি কেরামত আলী, হাসিবুর, নুর মোহাম্মদ ও মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দাদা এই জমিটি মসজিদের নামে দিয়ে গেছেন। এই ইউপি সদস্যের কাছে সমাজের শত শত পরিবার অসহায়। আমরা এর প্রতিকার চাই। সে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে এমন কর্মকান্ড করছে তার খুটির জোর কোথায়। ফারুম মেম্বার বালু ভরাট করে মসজিদের জমি ও পাশেই শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করেছে। মেলায় শেষে সে ওই জমি পাশেই রেডিমিক্স কোম্পানীর কাছে দিয়ে দিবে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার পর ফারুক মেম্বার তার বাহিনী দিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িছাড়া রয়েছি।

নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন বলেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেষে রেডিমিক্স, ডকইয়ার্ডসহ বেশ কয়েকপি বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের রয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। আর এ বাহিনী দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে নদীর জমিসহ নিরীহদের জমি জোরপুর্বক জবরদখল করে সহযোগীতা করছে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন। রাস্তা মেরামত বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ এনে আত্বসাৎ করেছেন। অথচ রাস্তা মেরামত করেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠান গুলো দেখভাল করার জন্যও লাখ লাখ টাকা আদায় করছে এই ইউপি সদস্য। এই ইউপি সদস্য’র সহযোগীতায় গাজী সেতুর উভয় পাশে খনন ও বালু ভরাটের কারনে ঝুকির মধ্যে রয়েছে সেতুটি। তার লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস টুকুও কেউ পায়না কেউ। দূর্নীতির অভিযোগ এনে, গত মাসে স্থানীয় এলাকাবাসী ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে ইছাখালী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের বাবা দাদার আমল থেকে মসজিদটি সমাজের মানুষ এবাদত করেছেন। অথচ একজন জনপ্রতিনিধি তিনি আমাদের মসজিদের জমি দখলে নিয়ে মেলা বসাচ্ছেন এটা কেমন। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, জমিটা বালু ভরাট করেছি এটা ঠিক। কিন্তু জমি দখলে নিয়েছি এটা ঠিক না। মসজিদের জমি দখলে নিয়েছি এটা নয় এখানে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে মেলা শেষ হলে খালি হয়ে যাবে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনিত অন্যান্য অভিযোগ গুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফয়সাল হক বলেন, ইউপি সদস্য ফারুক মেলার আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দেন। পরে আবেদনটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার অনুমোদন না দিলে মেলা বন্ধ হবে।এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এ পর্যন্ত আমার কাছে মেলার আয়োজনের ব্যাপারে কোন আবেদন আসেনি। আর আসলেও আমরা এখন কোন মেলার আয়োজনের জন্য অনুমতি দিবো না।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক বলেন, আমার কাছে মেলার আবেদন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমতি দেওয়ার আগে মেলার চালু করার ব্যাপারে তিনি বলেন, অনুমতির পাওয়ার আগে যেহেতু মেলা চালু হয়েছে বিষয়টি আমি দেখছি।এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, আমাদের অনুমতি ছাড়া কোন প্রকার মেলা বসতে দেয়া হবেনা। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/dh