১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেলে ও মৎস্যচাষীদের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

সুন্দরবন সংলগ্ন জেলে ও মৎস্যচাষীদের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিশারিজ অ্যান্ড আকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আয়োজনে ১৪ই অক্টোবর শনিবার বেলা ১২ টায় বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হল রুমে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আক্তার হোসেন এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা -৪ আসনের সংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দার। শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক, মৎস্য অধিদপ্তর, ঢাকার উপ-পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) সাহেদ আলী, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বাংলাদেশের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. আবুল হাছানাত, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট প্রকল্পের পরিচালক সমীর কুমার সরকার, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অসীম মৃধা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের করনীয় সম্পর্কে বক্তারা বলেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, যা জন-জীবন, গবাদী পশু, মাছের ঘের, কৃষি ফসল, বনাঞ্চল, রাস্তা-ঘাট, ঘড়-বাড়ী সহ সকল সম্পদের ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধন করে আসছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরুপ প্রভাব যেমন বন্যা, জলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, তাপদাহ, বজ্রপাত, লবনাক্ততার অনুপ্রবেশ ইত্যাদি বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর এই পরিবর্তন মোকাবেলা করে সহনশীলতা অর্জন করে কিছু কিছু আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতা উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবনকে সমূহ আপদ ও ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে রক্ষা করতে পারে।জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের ফলে কৃষি ফসল, গবাদী পশু পাখী ও মৎস্য সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, ঘড়-বাড়ী, উপকূলীয় বাঁধ, বন ও বনাঞ্চল ধ্বংশ হয়ে যায়। সহায়-সম্পদ হারিয়ে যায় এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।সময়মত কৃষি বা মাছ চাষ করা যায় না বা চাষ করতে দেরি হয়। চাষের উপকরণ সহজলভ্য হয় না বা দাম বেড়ে যায়।

বক্তারা আরও বলেন, দূর্যোগকালীণ সময়ে বা দূর্যোগ পূর্বাবস্তায় মাছ চাষীদের করণীয় হলো, রেডিও, টিভি বা অন্যান্য গন মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারিত দূর্যোগের আগামবার্তা সম্পর্কিত জরুরী সতর্কবানী নিয়মিত শুনতে হবে এবং তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। চাষীর ঘের বা পুকুরের পাড় পূর্বেই উচু করে বাঁধতে হবে যাতে সহজেই পানিতে তলিয়ে যেতে না পারে। ঘেরের তলার গভীরতা কমপক্ষে ৪-৫ ফুট করতে হবে যাতে অতিরিক্ত গরমে মাছ / চিংড়ি মারা না যায়। সময়মত চাষের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে দ্রুত ফসল ঘরে তোলা যায়; এতে দামও বেশী পাওয়া যায় এবং আপদের হাত থেকে ফসল রক্ষা করা যায়। হঠাৎ বন্যার পানি থেকে মাছ / চিংড়ি রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত -নেটের ব্যবস্থা আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখতে হবে এবং আপদ থেকে রক্ষা করার জন্য রুনেট্রে বেড়া দিতে হবে।
এছাড়াও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক চিত্র সহ তুলে ধরেন বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

 

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

জেলে ও মৎস্যচাষীদের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা

প্রকাশিত : ০৪:১৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩

সুন্দরবন সংলগ্ন জেলে ও মৎস্যচাষীদের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিশারিজ অ্যান্ড আকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আয়োজনে ১৪ই অক্টোবর শনিবার বেলা ১২ টায় বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হল রুমে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আক্তার হোসেন এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা -৪ আসনের সংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দার। শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক, মৎস্য অধিদপ্তর, ঢাকার উপ-পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) সাহেদ আলী, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বাংলাদেশের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. আবুল হাছানাত, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট প্রকল্পের পরিচালক সমীর কুমার সরকার, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অসীম মৃধা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের করনীয় সম্পর্কে বক্তারা বলেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, যা জন-জীবন, গবাদী পশু, মাছের ঘের, কৃষি ফসল, বনাঞ্চল, রাস্তা-ঘাট, ঘড়-বাড়ী সহ সকল সম্পদের ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধন করে আসছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরুপ প্রভাব যেমন বন্যা, জলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, তাপদাহ, বজ্রপাত, লবনাক্ততার অনুপ্রবেশ ইত্যাদি বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর এই পরিবর্তন মোকাবেলা করে সহনশীলতা অর্জন করে কিছু কিছু আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতা উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবনকে সমূহ আপদ ও ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে রক্ষা করতে পারে।জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের ফলে কৃষি ফসল, গবাদী পশু পাখী ও মৎস্য সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, ঘড়-বাড়ী, উপকূলীয় বাঁধ, বন ও বনাঞ্চল ধ্বংশ হয়ে যায়। সহায়-সম্পদ হারিয়ে যায় এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।সময়মত কৃষি বা মাছ চাষ করা যায় না বা চাষ করতে দেরি হয়। চাষের উপকরণ সহজলভ্য হয় না বা দাম বেড়ে যায়।

বক্তারা আরও বলেন, দূর্যোগকালীণ সময়ে বা দূর্যোগ পূর্বাবস্তায় মাছ চাষীদের করণীয় হলো, রেডিও, টিভি বা অন্যান্য গন মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারিত দূর্যোগের আগামবার্তা সম্পর্কিত জরুরী সতর্কবানী নিয়মিত শুনতে হবে এবং তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। চাষীর ঘের বা পুকুরের পাড় পূর্বেই উচু করে বাঁধতে হবে যাতে সহজেই পানিতে তলিয়ে যেতে না পারে। ঘেরের তলার গভীরতা কমপক্ষে ৪-৫ ফুট করতে হবে যাতে অতিরিক্ত গরমে মাছ / চিংড়ি মারা না যায়। সময়মত চাষের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে দ্রুত ফসল ঘরে তোলা যায়; এতে দামও বেশী পাওয়া যায় এবং আপদের হাত থেকে ফসল রক্ষা করা যায়। হঠাৎ বন্যার পানি থেকে মাছ / চিংড়ি রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত -নেটের ব্যবস্থা আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখতে হবে এবং আপদ থেকে রক্ষা করার জন্য রুনেট্রে বেড়া দিতে হবে।
এছাড়াও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক চিত্র সহ তুলে ধরেন বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh