০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

 দিনাজপুরের মেয়র কারাগারে

আদালত অবমাননার মামলায় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। আপিল বিভাগের রায়ে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদানসহ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টায় দিনাজপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার উল্লাহ’র আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে দিনাজপুর জেলা কারাগারে নেয়া হয। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে কারাগারে নেয়ার সময় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত  ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে এক মাসের জেল এবং একলাখ টাকা জরিমানা করে আপিল বিভাগ।

গত ১২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়রের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

বিচারপতিকে অশালিন মন্তব্য করায় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতে তলব করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আপিল বিভাগে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন সর্বোচ্চ আদালত।

এ ছাড়া বিচারপতিকে নিয়ে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও অপসারণ করতেও বলা হয়। গত ২৪ আগস্ট তলব আদেশে হাজির হয়ে বিচারপতিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার ঘটনায় আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। পরে তার বিরুদ্ধে জারি করা আদালত অবমাননার রুলের শুনানির জন্য ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। এদিন তাকে আদালতে হাজির হতে আদেশ দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

 

তারা হলেন-আইনজীবী হারুন অর রশীদ, আইনজীবী মাহফুজুর রহমান রোমান, আইনজীবী মোঃ মনিরুজ্জামান রানা ও আইনজীবী শফিক রায়হান শাওন।  আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দিনারপুর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুলফিকার উল্লাহ। পরে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রিজন ভ্যানে জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে  বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেয়।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চিকিৎসা শুধু ব্যবসা নয়, মানবসেবাও — প্রমাণ করলেন এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী

 দিনাজপুরের মেয়র কারাগারে

প্রকাশিত : ০৭:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩

আদালত অবমাননার মামলায় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। আপিল বিভাগের রায়ে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদানসহ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টায় দিনাজপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার উল্লাহ’র আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে দিনাজপুর জেলা কারাগারে নেয়া হয। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে কারাগারে নেয়ার সময় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত  ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে এক মাসের জেল এবং একলাখ টাকা জরিমানা করে আপিল বিভাগ।

গত ১২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়রের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

বিচারপতিকে অশালিন মন্তব্য করায় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতে তলব করেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আপিল বিভাগে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন সর্বোচ্চ আদালত।

এ ছাড়া বিচারপতিকে নিয়ে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও অপসারণ করতেও বলা হয়। গত ২৪ আগস্ট তলব আদেশে হাজির হয়ে বিচারপতিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার ঘটনায় আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। পরে তার বিরুদ্ধে জারি করা আদালত অবমাননার রুলের শুনানির জন্য ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। এদিন তাকে আদালতে হাজির হতে আদেশ দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

 

তারা হলেন-আইনজীবী হারুন অর রশীদ, আইনজীবী মাহফুজুর রহমান রোমান, আইনজীবী মোঃ মনিরুজ্জামান রানা ও আইনজীবী শফিক রায়হান শাওন।  আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দিনারপুর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুলফিকার উল্লাহ। পরে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রিজন ভ্যানে জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে  বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেয়।