সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে। শুরু হচ্ছে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছে পূজা মন্ডপ ও মন্দিরগুলোর প্রস্তুতি। চারিদিকে কাশ ফুলের উপস্থিতিই জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গা মহালয়ার মধ্যদিয়ে মর্তলোকে আসছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবি এবার এসেছে ঘোড়ায় চড়ে, আর বিজয়া দশমিতে শ্বাশুরালয়ে ফিরে যাবে একই বাহনে। ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গা উৎসব।
এবছর চাঁদপুর জেলায় ২২৫টি পূজা মন্ডপের মধ্যে সদর উপজেলায ৪০টি, হাইমচর উপজেলায় ৬টি, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ২৯টি, কচুয়া উপজেলায় ৪০টি, শাহরাস্তি উপজেলায় ১৮টি, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২০টি, মতলব উত্তর উপজেলায় ৩৪টি ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৩৬টি মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ জানান, এছর জেলার ২২৫টি মন্ডপে দূর্গাপজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রিতীর এ উৎসবকে নিভিঘ্ন করতে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে গত ৪ অক্টোবর পূজা উদযাপন নেতৃবৃন্দসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রস্তুতি সভা হয়েছে। এছাড়ার চট্রগ্রামের ১১টি জেলার পুলিশ সুপার ও পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি সভা হয়েছে তাতে আমি চাঁদপুরের প্রতিনিধিত্ব করি। এছর জেলার ২২৫টি পূজা মন্ডপকে সিসি ক্যামেরারর আওয়তা্রয আনা হয়েছে, এছাড়ার পূজা পরিষদের পক্ষ খেকে প্রতিটি মন্ডপে একটি করে রেজিষ্টার বই দেওয়া হয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদের দেওয়া ২৫টি নির্দেশনা মেনে চলতে সকল পূজা মন্ডপ কমিটিকে আহবান করেছি। চাঁদপুর সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতীর জেলা তাই আমার বিশ্বাস উৎসব মুখর পরিবেশে সম্প্রিতীর আলোকে সকলের সহযোগিতায় দূর্গা পূজা সম্পন্ন হবে।
দূর্গাপূজার সার্বিক বিষয়ে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পাকলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রনজিত রায় চৌধুরী বলেন, সন্নিকটে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই এবছরের দূর্গোৎসব ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রিতী বিনষ্টকারী মহল তৎপর থাকবে। পূজা পরিষদ, ঐক্য পরিষদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবেৃন্দসহ সকলের সহযোহিতায় আমাদের দূর্গাপূজা সম্পন্ন করতে হবে, কোন ভাবেই যেন গতবছরের ন্যায় হাজীগঞ্জের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেবিষয়ে আমি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের প্রস্তুতি সভায় উল্লেখ করেছি।
আজ দুর্গাপূজার বিষয়ে পুলিশ লাইনে এসপি সাহেবের সভাপতিত্বে একটি প্রাকপ্রস্তুতি সভা হয়েছে। সেখানে উৎসবকে নির্ভিঘ্ন করতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর দিয়েছে প্রশাসন। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসকরের কার্যালয়ে ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সনাতন ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে জেলার প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তুতিমূলক সভাও হয়েছে। এছাড়াও সদর উপজেলার পূজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মবর্তা সভা করেছে। অন্যদিকে সদর উপজেলা ছাড়্ও অনৗান্য উপজেলার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব পূজা মন্ডপের কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে পূজাকে নির্ভিঘ্ন করতে সভা করেছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















