সাড়ে ৩শ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর শহরের সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ভাঙা হচ্ছে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত জমি। শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকা থেকে বাজারমুখী সড়কের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে করে শহরের দুই পাশে ব্যবসায়ীরা যেমনি সুফল পাবে তেমনি সড়কে নির্বিঘ্নে চলতে পারবে সাধারণ পথচারী ও সব ধরনের যানবাহন।
যানজটের দুর্ভোগের শিকার হয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা থাকা মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। সড়কটি প্রশস্ত হলে দুর্ঘটনার আশংকা কমে যাবে। এক গলির শহর হওয়ায় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে অনেকের। চার লেনের কাজ শেষ হলে অনেক দুর্ঘটনা কমে যাবে।
সংস্কারকৃত সড়ক দিয়ে জেলার সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, আদর্শ সরকারি সামাদ স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দারুল উলুম আলিয়া কামিল মাদরাসা, কালেক্টরেট স্কুল, পিটিআইসহ বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সড়কটির কাজ শেষ হলে সব ধরনের ভোগান্তি থেকে লাঘব পাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এর আগে দক্ষিণ তেমুহনী এলাকা থেকে শহরের ঝুমুর তথা জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে দুই পাশের জমি অধিগ্রহণ শেষে সড়কের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। রাস্তা খুঁড়ে কংক্রিট বালি ফেলানো হয়েছে। তবে এখনো বাজার সড়কের দুই পাশের দোকান পাট ভাঙা হয়নি। নিজ দায়িত্বে স্ব স্ব দোকান মালিকর ভাঙছে দোকানের সামনের অধিগ্রহণকৃত স্থাপনা।
বাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক গলির শহর হওয়ায় মানুষের যাতায়াত কমে গেছে, একই সঙ্গে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে জ্যাম লেগো থাকতো। ফলে সাধারণ মানুষসহ ক্রেতা সাধারণ বাজারে কম আসতো। ফলে বেচাবিক্রিতে ভাটা পড়ে। যদি সড়কটি প্রশস্ত হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ভালো হবে।
কলেজ শিক্ষার্থীরা বলেন, সকালে বাসা থকে বের হয়ে পথে আটকে যাই। যানজটের কারণে যথাসময় নিয়ে কলেজে মাদরাসায় পৌঁছানো যায় না। আশা করছি সড়কটি বাড়লে সময় বাঁচবে। নিদিষ্ট সময়ে পৌঁছানো যাবে।
পথচারীরা বলেন, ছোট শহরের এক গলি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করা কষ্টকর। হাটবাজারে কেনাকাটা করতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সড়কের কাজ শেষ হলে আমাদের আর ভোগান্তি হবে না। ওই সময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। জমি অধিগ্রহণসহ কাজের জন্য ৩৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে। সড়কের কাজও শুরু হয়েছে। তবে এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। আশা করছি জটিলতা শেষে দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।





















