০৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সাইকেল কাঁধে সাঁকো পার হয়ে কলেজে

বগুড়ার ধুনটের গোপালনগর ইউনিয়নের বলারবাড়ি গ্রামের কলেজছাত্র তাজমুর হক। স্থানীয় পাঁচথুপি হাজী কাজেম টেকনিক্যাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সে। প্রতিদিন শার্ট-প্যান্ট সঙ্গে নিয়ে লুঙ্গি পরে বাইসাইকেল কাঁধে তুলে সাঁকো পার হয়। এরপর পোশাক পরিবর্তন করে যায় কলেজে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পাশের মহিশুরা ও মথুরাপুর বাজারে যেতে হলেও বাইসাইকেল কাঁধে নিয়েই খাল পার হতে হয়।

বলারবাড়ি-পিপুলবাড়িয়া রাস্তার বলারবাড়ি খালের ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের এভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। তাজমুরের সহপাঠী রবিউল শেখ বলছিল, কবে এ দুর্ভোগ লাঘব হবে সে আশায় আছে তারা। তাদের মতো অন্তত ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিশুরা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিশুরা দাখিল মাদ্রাসা, বলারবাড়ি মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিপুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সাঁকোটি দিয়ে যাতায়াত করে। পাঁচটি গ্রামের কৃষক, শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে গেছে সেতু না থাকায়। উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের বলারবাড়ি, মাটিকাটা, পিপুলবাড়িয়া, মহিশুরা ও বানিয়াগাতি দুর্গম এলাকা। এসব গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তাটি বলারবাড়ি খালের কারণে বিভক্ত হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি শুকিয়ে গেলে তিন-চার মাস সহজে চলাচল করা যায়। তবে বর্ষায় খালে অনেক পানি থাকায় সাত-আট মাস দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পিপুলবাড়িয়ার গোলাম রব্বানী জানান, চলাচলের একমাত্র রাস্তায় সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কাজ হয়নি। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে তারা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। এলাকাটি কৃষিপ্রধান জানিয়ে বলারবাড়ি গ্রামের ফিরোজ তালুকদার বলেন, অধিকাংশ মানুষের আয়ের উৎস কৃষি। কৃষক মামুন মিয়া বলেন, সেতু না থাকায় তারা সময়মতো কৃষি উপকরণ, সার, বীজ ও কীটনাশক আনতে পারেন না। উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া ও সাইদুল ইসলাম জানান, গোপালনগর ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস ও মহিশুরা বাজারে যেতে বলারবাড়ি খাল পার হতে হয়। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে এ পথ ব্যবহার হচ্ছে। সেতু নির্মাণে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় দাবি তুলেও লাভ হয়নি বলে জানান গোপালনগর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের ভাষ্য, বলারবাড়ি খালে সেতু নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পৃথক চাহিদাপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে উপযুক্ত রাস্তা থাকলে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের ভাষ্য, তদন্ত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ক্যাটেগরির আওতায় পড়লে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চিকিৎসা শুধু ব্যবসা নয়, মানবসেবাও — প্রমাণ করলেন এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী

সাইকেল কাঁধে সাঁকো পার হয়ে কলেজে

প্রকাশিত : ০৩:১৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৩

বগুড়ার ধুনটের গোপালনগর ইউনিয়নের বলারবাড়ি গ্রামের কলেজছাত্র তাজমুর হক। স্থানীয় পাঁচথুপি হাজী কাজেম টেকনিক্যাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সে। প্রতিদিন শার্ট-প্যান্ট সঙ্গে নিয়ে লুঙ্গি পরে বাইসাইকেল কাঁধে তুলে সাঁকো পার হয়। এরপর পোশাক পরিবর্তন করে যায় কলেজে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পাশের মহিশুরা ও মথুরাপুর বাজারে যেতে হলেও বাইসাইকেল কাঁধে নিয়েই খাল পার হতে হয়।

বলারবাড়ি-পিপুলবাড়িয়া রাস্তার বলারবাড়ি খালের ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের এভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। তাজমুরের সহপাঠী রবিউল শেখ বলছিল, কবে এ দুর্ভোগ লাঘব হবে সে আশায় আছে তারা। তাদের মতো অন্তত ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিশুরা উচ্চ বিদ্যালয়, মহিশুরা দাখিল মাদ্রাসা, বলারবাড়ি মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিপুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সাঁকোটি দিয়ে যাতায়াত করে। পাঁচটি গ্রামের কৃষক, শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে গেছে সেতু না থাকায়। উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের বলারবাড়ি, মাটিকাটা, পিপুলবাড়িয়া, মহিশুরা ও বানিয়াগাতি দুর্গম এলাকা। এসব গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তাটি বলারবাড়ি খালের কারণে বিভক্ত হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি শুকিয়ে গেলে তিন-চার মাস সহজে চলাচল করা যায়। তবে বর্ষায় খালে অনেক পানি থাকায় সাত-আট মাস দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পিপুলবাড়িয়ার গোলাম রব্বানী জানান, চলাচলের একমাত্র রাস্তায় সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কাজ হয়নি। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে তারা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। এলাকাটি কৃষিপ্রধান জানিয়ে বলারবাড়ি গ্রামের ফিরোজ তালুকদার বলেন, অধিকাংশ মানুষের আয়ের উৎস কৃষি। কৃষক মামুন মিয়া বলেন, সেতু না থাকায় তারা সময়মতো কৃষি উপকরণ, সার, বীজ ও কীটনাশক আনতে পারেন না। উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া ও সাইদুল ইসলাম জানান, গোপালনগর ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস ও মহিশুরা বাজারে যেতে বলারবাড়ি খাল পার হতে হয়। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতে এ পথ ব্যবহার হচ্ছে। সেতু নির্মাণে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় দাবি তুলেও লাভ হয়নি বলে জানান গোপালনগর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের ভাষ্য, বলারবাড়ি খালে সেতু নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পৃথক চাহিদাপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে উপযুক্ত রাস্তা থাকলে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আলীমের ভাষ্য, তদন্ত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ক্যাটেগরির আওতায় পড়লে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।