০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

৪ আসনে আ.লীগের প্রায় ১ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী, প্রতিযোগিতা ৫ আসনেও

কয়েকদিনের মধ্যেই ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এবিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে অবহিতকরণ ও পরামর্শমূলক আলাপও সেরেছে নির্বাচন কমিশন। এরও দেড়/দুই মাস আগে থেকেই পাবনার বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী মাঠ গরম করে চলেছে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

দিনরাত উঠান বৈঠক, কর্মীসভা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অব্যাহত রেখেছেন কর্মী ও জনসংযোগ। পাবনার নির্বাচনী আসনগুলোর মধ্যে পাবনা-৪ আসনে আ.লীগের প্রায় একডজনের বেশি মনোয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। তবে পাবনা-৫ আসনে এর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে উভয় আসনেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় তাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। কিন্তু এ অবস্থাতেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না বিএনপি প্রার্থীদের। কেবল হরতাল অবরোধের মত আন্দোলনে সহমত অবস্থানে রয়েছেন তারা। হরতাল বা অবরোধ পালনে ঈশ^রদী ব্যতীত পাবনার অন্য কোনো এলাকায় বিএনপি নেতাদের তেমন কোনো ভুমিকাও নিতে দেখা যায়নি। নির্বাচন প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার নাহলেও কেন্দ্রের ঘোষণার দিকে তাকিয়ে তারা। অন্যদিকে আইনি জটিলতায় নিবন্ধন হারানো দল জামাতের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকেই অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। পাবনার নির্বাচনী হালচাল এর ২য় পর্বে থাকছে পাবনা ৪ ও ৫ আসনের গল্প-

পাবনা- ৪ (জাতীয়- ৭১)
জেলার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৯ জন ভোটার নিয়ে এ আসন গঠিত। এ আসনটি বরাবরই আ.লীগের দখলে। কেবলমাত্র ১৯৯১ সালে বিএনপির হয়ে সিরাজুল ইসলাম সরদার বিজয় লাভ করেছিলেন। এরপর স্থানীয় বিএনপির কোন্দলে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা পাঁচবার আ.লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী। তার মত্যুর পর এ আসনের উপনির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস বর্তমান এমপি নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তিনিও আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া আত্মকোন্দলে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রীর পরিবারে দেখা দিয়েছে বিভাজন। তার ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ ও মেয়ে জামাই আবুল কালাম আজাদ মিন্টুসহ এই পরিবারের অন্তত পাঁচজন এবার আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া জেলা আ.লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল ও আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম রতনসহ এ আসনে আ.লীগের প্রায় এক ডজন প্রার্থী রয়েছে। তবে এ আসনে আ.লীগের বাইরেও বিএনপি জামাতের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রার্থী হতে পারতেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের ৪ কারাদণ্ড হওয়ায় তাতে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর বাইরে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজ সরদার। অন্যদিকে শক্ত অবস্থান রয়েছে জামাতেরও।

পাবনা- ৫ (জাতীয়- ৭২)
জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা পাবনা সদর নিয়ে এ আসন গঠিত। ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ জন। এ আসনের বড় আলেনাচনার বিষয় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছেলে আরশাদ আদনান রনি। বাবার সমর্থনে তিনি পাবনায় নির্বাচনী ফিল্ড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন চাইবেন তিনি। তবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সও। তিনি জেলা আ.লীগের টানা কয়েকবারের সাধারণ সম্পাদক। শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয় উঠান বৈঠক, কর্মীসভা ও মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে সারা বছরই তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল চোষে বেড়ান বলে দাবি তার সমর্থকদের। তাছাড়া এই আসনে তার বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে বলেও দাবি সমর্থকদের। ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আ.লীগের মনোনয়নে টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। এছাড়া এবারের নির্বাচনে জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মিন্টুও আ.লীগের মনোনয়ন চাইবেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি থেকে আ.লীগে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে দলীয় কর্মসূচী ও নির্দেশনা পালনে বেশ তৎপর দেখা গেছে তাকে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও নির্বাচনী ফিল্ড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া আরো কয়েকজন আ.লীগ নেতাও মনোনয়ন ফরম কিনবেন বলে জানা গেছে। তবে আ.লীগের বাইরেও এ আসনে বিএনপি জামাতেরও বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। জামাত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন এ আসনে জামাতের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে আসলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এড. শিমুল বিশ্বাস ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুন্নবী স্বপনও।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

৪ আসনে আ.লীগের প্রায় ১ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী, প্রতিযোগিতা ৫ আসনেও

প্রকাশিত : ০১:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩

কয়েকদিনের মধ্যেই ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এবিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে অবহিতকরণ ও পরামর্শমূলক আলাপও সেরেছে নির্বাচন কমিশন। এরও দেড়/দুই মাস আগে থেকেই পাবনার বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী মাঠ গরম করে চলেছে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

দিনরাত উঠান বৈঠক, কর্মীসভা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অব্যাহত রেখেছেন কর্মী ও জনসংযোগ। পাবনার নির্বাচনী আসনগুলোর মধ্যে পাবনা-৪ আসনে আ.লীগের প্রায় একডজনের বেশি মনোয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। তবে পাবনা-৫ আসনে এর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে উভয় আসনেই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় তাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। কিন্তু এ অবস্থাতেও মাঠে দেখা যাচ্ছে না বিএনপি প্রার্থীদের। কেবল হরতাল অবরোধের মত আন্দোলনে সহমত অবস্থানে রয়েছেন তারা। হরতাল বা অবরোধ পালনে ঈশ^রদী ব্যতীত পাবনার অন্য কোনো এলাকায় বিএনপি নেতাদের তেমন কোনো ভুমিকাও নিতে দেখা যায়নি। নির্বাচন প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার নাহলেও কেন্দ্রের ঘোষণার দিকে তাকিয়ে তারা। অন্যদিকে আইনি জটিলতায় নিবন্ধন হারানো দল জামাতের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকেই অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। পাবনার নির্বাচনী হালচাল এর ২য় পর্বে থাকছে পাবনা ৪ ও ৫ আসনের গল্প-

পাবনা- ৪ (জাতীয়- ৭১)
জেলার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৯ জন ভোটার নিয়ে এ আসন গঠিত। এ আসনটি বরাবরই আ.লীগের দখলে। কেবলমাত্র ১৯৯১ সালে বিএনপির হয়ে সিরাজুল ইসলাম সরদার বিজয় লাভ করেছিলেন। এরপর স্থানীয় বিএনপির কোন্দলে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা পাঁচবার আ.লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী। তার মত্যুর পর এ আসনের উপনির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস বর্তমান এমপি নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তিনিও আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া আত্মকোন্দলে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রীর পরিবারে দেখা দিয়েছে বিভাজন। তার ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ ও মেয়ে জামাই আবুল কালাম আজাদ মিন্টুসহ এই পরিবারের অন্তত পাঁচজন এবার আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া জেলা আ.লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল ও আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম রতনসহ এ আসনে আ.লীগের প্রায় এক ডজন প্রার্থী রয়েছে। তবে এ আসনে আ.লীগের বাইরেও বিএনপি জামাতের বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রার্থী হতে পারতেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের ৪ কারাদণ্ড হওয়ায় তাতে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর বাইরে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজ সরদার। অন্যদিকে শক্ত অবস্থান রয়েছে জামাতেরও।

পাবনা- ৫ (জাতীয়- ৭২)
জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা পাবনা সদর নিয়ে এ আসন গঠিত। ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ জন। এ আসনের বড় আলেনাচনার বিষয় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছেলে আরশাদ আদনান রনি। বাবার সমর্থনে তিনি পাবনায় নির্বাচনী ফিল্ড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন চাইবেন তিনি। তবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সও। তিনি জেলা আ.লীগের টানা কয়েকবারের সাধারণ সম্পাদক। শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয় উঠান বৈঠক, কর্মীসভা ও মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে সারা বছরই তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল চোষে বেড়ান বলে দাবি তার সমর্থকদের। তাছাড়া এই আসনে তার বড় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে বলেও দাবি সমর্থকদের। ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আ.লীগের মনোনয়নে টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। এছাড়া এবারের নির্বাচনে জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মিন্টুও আ.লীগের মনোনয়ন চাইবেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি থেকে আ.লীগে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকে দলীয় কর্মসূচী ও নির্দেশনা পালনে বেশ তৎপর দেখা গেছে তাকে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনিও নির্বাচনী ফিল্ড তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া আরো কয়েকজন আ.লীগ নেতাও মনোনয়ন ফরম কিনবেন বলে জানা গেছে। তবে আ.লীগের বাইরেও এ আসনে বিএনপি জামাতেরও বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। জামাত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন এ আসনে জামাতের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে আসলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এড. শিমুল বিশ্বাস ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুন্নবী স্বপনও।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh