০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

দুই দলসহ স্বতন্ত্র ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল, বৈধ ৫৯

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতি, ঋণ খেলাপিসহ নানা অভিযোগে টাঙ্গাইলের আটটি আসনে দুই দলসহ স্বতন্ত্র ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার ও রোববার সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাইকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম তাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন।
মনোননয়ন পত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হচ্ছেন, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা রহমান খান ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের জাসদ (ইনু) প্রার্থী এস এম আবু মোস্তফা, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্রী প্রার্থী খন্দকার আহসান হাবীব ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেনিগার হোসেন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে স্বতন্ত্রী প্রার্থী নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, মো. আব্দুল হাফেজ বিলাস, সৈয়দ মাহমুদুল ইলাহ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিএনএমের প্রার্থী খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাফিউর রহমান ইউসুফজাই।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যাচাই বাছাইয়ের প্রথম দিন শনিবার টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী), টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। রোববার টাঙ্গাইল-৫ (সদর), টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার), টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে নয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা রিটানিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতী অভিযোগে ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ও ফরিদা রহমান খান, খন্দকার আহসান হাবীব, মেহেনিগার হোসেন, জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, মো. আব্দুল হাফেজ বিলাস, সৈয়দ মাহমুদুল ইলাহ, তারেক শামস খান, রাফিউর রহমান ইউসুফজাই ঋণ খেলাপির অভিযোগে খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ এবং জাসদের মনোনয়ন পত্রে সভাপতির স্বাক্ষর না মিল না থাকায় এস এম আবু মোস্তফার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আমার ৭১ টি মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করেছিলাম। এরপর নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া সময় সূচি মোতাবেক দুই দিনে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই করেছি। যাচাই বাছাইকালে পুলিশ, বিদ্যুৎ, বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্যাস, পানিসহ সরকারের বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছি। মামলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। যাচাই বাছাইকালে যে সমস্ত প্রার্থীর মনোনয়ন সঠিক পেয়েছি, এরকম ৫৯টি মনোনয়ন গ্রহণ করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন ভুলের কারনে ১২ টি বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা ৫ থেকে ৯ তারিখে মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
তিনি আও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসারের সকল টিম, নির্বাচন অফিসের টিম, পুলিশের কর্মকর্তা এবং আটটি আসনের জন্য আটটি অনুসন্ধ্যান টিম এক যোগে কাজ করে যাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্বাচনী বিধিমালা মানতে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

দুই দলসহ স্বতন্ত্র ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল, বৈধ ৫৯

প্রকাশিত : ০৭:০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতি, ঋণ খেলাপিসহ নানা অভিযোগে টাঙ্গাইলের আটটি আসনে দুই দলসহ স্বতন্ত্র ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার ও রোববার সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাইকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম তাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন।
মনোননয়ন পত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হচ্ছেন, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা রহমান খান ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের জাসদ (ইনু) প্রার্থী এস এম আবু মোস্তফা, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্রী প্রার্থী খন্দকার আহসান হাবীব ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেনিগার হোসেন, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে স্বতন্ত্রী প্রার্থী নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, মো. আব্দুল হাফেজ বিলাস, সৈয়দ মাহমুদুল ইলাহ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিএনএমের প্রার্থী খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাফিউর রহমান ইউসুফজাই।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যাচাই বাছাইয়ের প্রথম দিন শনিবার টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী), টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। রোববার টাঙ্গাইল-৫ (সদর), টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার), টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে নয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা রিটানিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতী অভিযোগে ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু ও ফরিদা রহমান খান, খন্দকার আহসান হাবীব, মেহেনিগার হোসেন, জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, মো. আব্দুল হাফেজ বিলাস, সৈয়দ মাহমুদুল ইলাহ, তারেক শামস খান, রাফিউর রহমান ইউসুফজাই ঋণ খেলাপির অভিযোগে খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ এবং জাসদের মনোনয়ন পত্রে সভাপতির স্বাক্ষর না মিল না থাকায় এস এম আবু মোস্তফার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আমার ৭১ টি মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করেছিলাম। এরপর নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া সময় সূচি মোতাবেক দুই দিনে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই করেছি। যাচাই বাছাইকালে পুলিশ, বিদ্যুৎ, বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্যাস, পানিসহ সরকারের বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার তথ্য সংগ্রহ করেছি। মামলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। যাচাই বাছাইকালে যে সমস্ত প্রার্থীর মনোনয়ন সঠিক পেয়েছি, এরকম ৫৯টি মনোনয়ন গ্রহণ করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন ভুলের কারনে ১২ টি বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা ৫ থেকে ৯ তারিখে মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
তিনি আও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য জেলা রিটার্নিং অফিসারের সকল টিম, নির্বাচন অফিসের টিম, পুলিশের কর্মকর্তা এবং আটটি আসনের জন্য আটটি অনুসন্ধ্যান টিম এক যোগে কাজ করে যাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নির্বাচনী বিধিমালা মানতে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh