পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকার পাবনা সেচ উন্নয়ন প্রকল্প। প্রধান ক্যানেল কচুরীপানায় আচ্ছাদিত, সংযোগ খালগুলো দখল করে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে ব্যহত হচ্ছে শত শত হেক্টর জমির চাষাবাদ।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সাঁথিয়ার তলট গ্রামে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল বর্তমানে কচুরী পানায় ঢাকা একটি জলাশয়ে রুপ নিয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় প্রায় ৪২ কিলোমিটার আয়তনের এ খালটির অধিকাংশই এখন প্রায় ভরাট হয়ে এমন দুরবস্থায়। এছাড়া বেড়ার পেঁচাকোলা, হরিরামপুর, বায়া, পানশাইলসহ অনেক এলাকায় সেচ ক্যানেল মাটির সাথে মিশে গেছে। কোথাও ক্যানেল ভরাট করে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩৪ হেক্টর কৃষি জমি সেচের আওতায় নিতে ১৯৯২ সালে ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চালু হয় পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প। বেড়া উপজেলার বৃশালিখায় হুরাসাগর নদ ও কৈটোলায় যমুনা নদীর পাড়ে পানি উত্তোলন ও নিষ্কাশনে নির্মাণ করা হয় দুটি পাম্পস্টেশন। নির্মাণ করা হয় ছোট-বড় সেচ খাল, নিষ্কাশন খাল, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ¯øুইসগেট, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পে পাম্প হাউজের মাধ্যমে হুরাসাগর নদী থেকে প্রধান সেচ খালের মাধ্যমে পানি যাওয়ার কথা ১৯টি সেকেন্ডিয়ারী খালে। যার ৮টি সম্পুর্ণ বন্ধ। ৪৭টি টারশিয়ারী খালের মধ্যে ৩০টিই অকেজো। ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে শুরুতে সাড়ে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হলেও বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় গেল ৩০ বছরে অতিরিক্ত পাঁচশ কোটি টাকা ব্যয় হলেও, এখন মাত্র সাতশ হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্প।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্পের সেচ ক্যানেলগুলো দিন দিন অকার্যকর হয়ে পড়ায় কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ক্যানেল সংস্কারের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থাকলেও নেয়া হচ্ছে না তেমন কোনো উদ্যোগই। অন্যদিকে প্রধান খালের সাথে সংযুক্ত সেকেন্ডিয়ারি সেচ খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালীরা। বেড় জাল সুতি জাল সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় বন্ধ করা পানির প্রবাহ পথ। শত শত হেক্টর জমিতে সম্ভব হচ্ছেনা সেচ কাজ ও পানি নিস্কাশন। জলাবদ্ধতায় রবিশস্য আবাদ করতে পারছেন তা কৃষকেরা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা, কমছে ফসলের উৎপাদন।
এব্যাপারে বেড়ার পেঁচাকোলা গ্রামের কৃষক হালিম জানান, সেচ ক্যানেল ভেঙে মিশে গেছে। এগুলো ঠিক করার নাকি টাকা আসে, তবুও এগুলো ভালো করে ঠিক করা হয় না। প্রভাবশালীরা খালে বাধ দিয়ে পানি আটকে মাছ চাষ করে। অথচ সেচের জন্য পানি থাকে না। এভাবেই এই প্রকল্প চলছে।
পানি ব্যবহারকারী সমিতির সভাপতি আনছার আলী জানান, এখান থেকে অতি অল্প খরচে কৃষকেরা জমিতে সেচ দিতে পারেন। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক কম পড়ে। কিন্তু এই সেচ সুবিধাপ্রাপ্তের সংখ্যা আরো বেশি হবার কথা থকলেও বাস্তবে তা বাড়ার বিপরীতে তা আরো কমেছে। সেচ বঞ্চিত অন্যান্য কৃষকদেরও যদি এই সেচের আওতায় আনা যায়, তবে চাষাবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে।
এব্যাপারে পাবনার বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ক্যানেলগুলো পরিচর্যার যে ব্যয় আসে সে অনুযায়ী সংস্কার করা হয়ে থাকে। তবে এ সংস্কার পর্যাপ্ত নয়। সম্প্রতি একটি প্রকল্প আমরা হাতে পাচ্ছি, সেটি বাস্তবায়ন হলে আশানুরুপ সেচ সুবিধা মেলা সম্ভব হবে। এছাড়া বাধ দিয়ে মাছ চাষের মত কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















