০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শাহজাদপুরে শীতকালিন সবজি চাষে ভাগ্য বদল

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাঁড়াদহ ইউনিয়নের পুরাণ টেপরি গ্রামে শতাধিক পরিবার বসবার করছেন। তবে এই শতাধিক পরিবারই হলো কৃষক।

প্রায় দশ বছরের বেশী সময় ধরে কৃষকেরা বাণিজ্যিক ভাবে নিজস্ব জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে মৌসুমি টমেটো, শিম, বরবটি,করলা, ফুল কপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ,পুইশাক, লাল শাক,ঢেঢ়স,ঝিঙ্গা,বেগুনসহ নানা প্রকার সবজ্বি চাষ করছেন।

এই গ্রামে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজ্বি চাষের পরিমান। এক সময় এই গ্রামের লোকজন ধান চাষের উপর নির্ভর ছিল। ঝড় বৃষ্টি বন্যাসহ নানা প্রতিকুলতায় প্রতি বছর ধান চাষে লোকসান হওয়ায় ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে সবই সবজ্বি চাষে মোনযোগী হন। শাক সবজ্বি চাষে কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে এখন অনেকেই লাখপতি হয়েছেন। তা ছাড়া অনেকেই নিজেদের অভাব অনটন ঘুছিয়েন।বর্তমানে এখানকার সবজ্বি এই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। সবজ্বি বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। পুরাণ টেপরি গ্রামে সবজ্বি চাষ করে না এমন পরিবার খুজে পাওয়া দুস্কার।পুরাণ টেপরি গ্রামটি সবজ্বি গ্রাম নামে উপজেলার মধ্যে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে।

এক সময় ক্ষুদ্র পরিসরে করা হলেও এখন বছর জুরে চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন এখানকার কৃষকেরা।এখন শীতের সবজ্বির মৌসুম হওয়ায় মাঠ জুরে শুধু সবজ্বি আর সবজ্বি।যে দিকে চোখ যায় সবজ্বি আর সবজ্বি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা সবজ্বি পরিচর্যাসহ বাজার জাত করতে সবজ্বি তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।সবজ্বি বিক্রির জন্য মশিপুর সরিষাকোল মাদ্রাসা বাজারে পাইকারি বিক্রির ধুম পরে।

সবজ্বি চাষি মোঃ লিটন জানান, প্রায় ৬ বিঘা জমিতে শীত কালিন ফুলকপি, বাঁধাকপি,মুলা, লাল শাক, পালন শাক, পুইশাকসহ নানা জাতের সবজ্বি চাষ করেছেন।
তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে খরচ বাদে আশা করি তিন চার লাখ টাকা এর মত আয় হবে। ধান চাষ করে ৫০ থেকে ৮০ হাজারের বেশি পাওয়া যেত না তাই ধান ছেরে সবজ্বি চাষ করছি।

সবজ্বি চাষি ফরহাদ আলি জানান, ৫ বিঘা জমিতে ফুল কফি,মিষ্টি কুমড়ো,চাল কুমড়ো আবাদ করেছি।প্রতিটি ফুল কফি ২কেজি করে ওজন হয়েছে।এবার আবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে।প্রতি বিঘা জমিতে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পাবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জেরিন আহমেদ বলেন,শাহজাদপুর উপজেলায় চলতি বছরে ৮০০ হেক্টর জমিতে শাক সবজ্বির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এবং ৭৭০ হেক্টর অর্জন করেছি।আমরা আশা করছি ৮০০ হেক্টর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আমরা অতিক্রম করতে পারবো।গাঁড়াদহ ইউনিয়নের পুরান টেপরি গ্রাম সবজ্বি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকরা নানা জাতের শাকসবজ্বি চাষ করছেন। তিনি আরো বলেন,উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষক দিয়ে সার বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরকারী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই আরো নতুন করে কৃষকরা বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধার আওতায় আসবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

শাহজাদপুরে শীতকালিন সবজি চাষে ভাগ্য বদল

প্রকাশিত : ০৩:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাঁড়াদহ ইউনিয়নের পুরাণ টেপরি গ্রামে শতাধিক পরিবার বসবার করছেন। তবে এই শতাধিক পরিবারই হলো কৃষক।

প্রায় দশ বছরের বেশী সময় ধরে কৃষকেরা বাণিজ্যিক ভাবে নিজস্ব জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে মৌসুমি টমেটো, শিম, বরবটি,করলা, ফুল কপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাউ,পুইশাক, লাল শাক,ঢেঢ়স,ঝিঙ্গা,বেগুনসহ নানা প্রকার সবজ্বি চাষ করছেন।

এই গ্রামে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজ্বি চাষের পরিমান। এক সময় এই গ্রামের লোকজন ধান চাষের উপর নির্ভর ছিল। ঝড় বৃষ্টি বন্যাসহ নানা প্রতিকুলতায় প্রতি বছর ধান চাষে লোকসান হওয়ায় ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে সবই সবজ্বি চাষে মোনযোগী হন। শাক সবজ্বি চাষে কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে এখন অনেকেই লাখপতি হয়েছেন। তা ছাড়া অনেকেই নিজেদের অভাব অনটন ঘুছিয়েন।বর্তমানে এখানকার সবজ্বি এই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। সবজ্বি বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। পুরাণ টেপরি গ্রামে সবজ্বি চাষ করে না এমন পরিবার খুজে পাওয়া দুস্কার।পুরাণ টেপরি গ্রামটি সবজ্বি গ্রাম নামে উপজেলার মধ্যে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে।

এক সময় ক্ষুদ্র পরিসরে করা হলেও এখন বছর জুরে চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন এখানকার কৃষকেরা।এখন শীতের সবজ্বির মৌসুম হওয়ায় মাঠ জুরে শুধু সবজ্বি আর সবজ্বি।যে দিকে চোখ যায় সবজ্বি আর সবজ্বি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা সবজ্বি পরিচর্যাসহ বাজার জাত করতে সবজ্বি তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।সবজ্বি বিক্রির জন্য মশিপুর সরিষাকোল মাদ্রাসা বাজারে পাইকারি বিক্রির ধুম পরে।

সবজ্বি চাষি মোঃ লিটন জানান, প্রায় ৬ বিঘা জমিতে শীত কালিন ফুলকপি, বাঁধাকপি,মুলা, লাল শাক, পালন শাক, পুইশাকসহ নানা জাতের সবজ্বি চাষ করেছেন।
তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে খরচ বাদে আশা করি তিন চার লাখ টাকা এর মত আয় হবে। ধান চাষ করে ৫০ থেকে ৮০ হাজারের বেশি পাওয়া যেত না তাই ধান ছেরে সবজ্বি চাষ করছি।

সবজ্বি চাষি ফরহাদ আলি জানান, ৫ বিঘা জমিতে ফুল কফি,মিষ্টি কুমড়ো,চাল কুমড়ো আবাদ করেছি।প্রতিটি ফুল কফি ২কেজি করে ওজন হয়েছে।এবার আবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে।প্রতি বিঘা জমিতে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পাবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জেরিন আহমেদ বলেন,শাহজাদপুর উপজেলায় চলতি বছরে ৮০০ হেক্টর জমিতে শাক সবজ্বির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এবং ৭৭০ হেক্টর অর্জন করেছি।আমরা আশা করছি ৮০০ হেক্টর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আমরা অতিক্রম করতে পারবো।গাঁড়াদহ ইউনিয়নের পুরান টেপরি গ্রাম সবজ্বি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকরা নানা জাতের শাকসবজ্বি চাষ করছেন। তিনি আরো বলেন,উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষক দিয়ে সার বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন সরকারী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই আরো নতুন করে কৃষকরা বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধার আওতায় আসবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে