১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ

রংপুরে কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বায়না সূত্রে কেনা জমির মালিকের খাবার হোটেল ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা দাবি করা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি এবং ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা তিনটার দিকে রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম। এসময় তার ছেলে মামুন মিয়া, ছেলের বউ লাইজু বেগম এবং আত্নীয় সুলতানা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগকারী মাহমুদা বেগম রংপুর মহানগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাগ (চকিহাটি) এলাকার মৃত জমির উদ্দিনের স্ত্রী। লিখিত বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১৯৯৭ সালে জনৈক সৌরেন্দ্রনাথ চন্দ্রের কাছ হতে তিন শতক জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্য বায়না করেন। বায়নাপত্র সম্পাদন করার কিছুদিন পর জমি বিক্রেতা সৌরেন্দ্রনাথ চন্দ্র মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার কোন ওয়ারিশ না থাকায় বায়নাকৃত ওই জমিতে একটি খাবার হোটেল স্থাপন করেন। গত ৩০ বছর ধরে পরিবারসহ সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছেন।

মাহমুদা আরো জানান, এ বছরের ১১ জুন কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের মাধ্যমে তাকে বসবাস করা জমি থেকে বাড়িঘর ও হোটেল অপসারণের জন্য বলা হয়। এরপর একাধিকবার কারমাইকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জমির কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কারমাইকেল কলেজ প্রশাসনের কতিপয় অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি স্কাবাটার মেশিন নিয়ে এসে তার খাবার হোটেল ভাংচুর করেন।

তিনি আরো বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় তিনি নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করলে (মামলা নং: ৫৫১/২০২৩, তারিখ: ০২/১১/২০২৩) আদালত গত ২১ নভেম্বর কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষকে অবহিতকরণ একটি নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ প্রাপ্তির পর অধ্যক্ষ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং জোরপূর্বক ওই জমিতে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে পুনরায় বিজ্ঞ আদালতের সরণাপন্ন হলে গত ১ ডিসেম্বর কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর নির্মাণ কাজ বন্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৬ ডিসেম্বর সকালে কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ওই জমিতে আবার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দেয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অজ্ঞাতরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি ও ভীতি প্রদর্শন করে।

এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম। নির্মাণ কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে মাহমুদা বলেছেন, বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন কলেজের কৃষিজমি সংরক্ষণ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

পরে কৃষি কমিটির তানজিউর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সার্ভেয়ার সম্প্রতি কারমাইকেল কলেজের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করছে। যেখানে অাদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন আলী। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছিলেন। ওই ঘটনাটি স্থানীয় কাউন্সিলর ও কলেজ অধ্যক্ষ বসে আলোচনা করার কথা ছিল। এটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, একারণে আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৫:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

রংপুরে কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বায়না সূত্রে কেনা জমির মালিকের খাবার হোটেল ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা দাবি করা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি এবং ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা তিনটার দিকে রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম। এসময় তার ছেলে মামুন মিয়া, ছেলের বউ লাইজু বেগম এবং আত্নীয় সুলতানা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগকারী মাহমুদা বেগম রংপুর মহানগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাগ (চকিহাটি) এলাকার মৃত জমির উদ্দিনের স্ত্রী। লিখিত বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১৯৯৭ সালে জনৈক সৌরেন্দ্রনাথ চন্দ্রের কাছ হতে তিন শতক জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্য বায়না করেন। বায়নাপত্র সম্পাদন করার কিছুদিন পর জমি বিক্রেতা সৌরেন্দ্রনাথ চন্দ্র মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার কোন ওয়ারিশ না থাকায় বায়নাকৃত ওই জমিতে একটি খাবার হোটেল স্থাপন করেন। গত ৩০ বছর ধরে পরিবারসহ সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছেন।

মাহমুদা আরো জানান, এ বছরের ১১ জুন কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের মাধ্যমে তাকে বসবাস করা জমি থেকে বাড়িঘর ও হোটেল অপসারণের জন্য বলা হয়। এরপর একাধিকবার কারমাইকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জমির কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কারমাইকেল কলেজ প্রশাসনের কতিপয় অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি স্কাবাটার মেশিন নিয়ে এসে তার খাবার হোটেল ভাংচুর করেন।

তিনি আরো বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় তিনি নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করলে (মামলা নং: ৫৫১/২০২৩, তারিখ: ০২/১১/২০২৩) আদালত গত ২১ নভেম্বর কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষকে অবহিতকরণ একটি নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ প্রাপ্তির পর অধ্যক্ষ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং জোরপূর্বক ওই জমিতে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ পরিস্থিতিতে পুনরায় বিজ্ঞ আদালতের সরণাপন্ন হলে গত ১ ডিসেম্বর কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর নির্মাণ কাজ বন্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৬ ডিসেম্বর সকালে কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ওই জমিতে আবার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দেয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অজ্ঞাতরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি ও ভীতি প্রদর্শন করে।

এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম। নির্মাণ কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে মাহমুদা বলেছেন, বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন কলেজের কৃষিজমি সংরক্ষণ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

পরে কৃষি কমিটির তানজিউর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সার্ভেয়ার সম্প্রতি কারমাইকেল কলেজের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করছে। যেখানে অাদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন আলী। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছিলেন। ওই ঘটনাটি স্থানীয় কাউন্সিলর ও কলেজ অধ্যক্ষ বসে আলোচনা করার কথা ছিল। এটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, একারণে আমরা তাকে আদালতের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি