প্রবাসীদের ভোটার করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে ।
এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কার্যক্রম হাতে নেওয়ার আগে আর্থিক ব্যয়, প্রক্রিয়া এবং কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে আলাদা আলাদা পাঁচটি কমিটি গঠন করেছে ইসি। সব কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইসির উপপরিচালকদের। কমিটিকে সব কার্যক্রম শেষ করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
নির্বাচন কশিনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রাপাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে এসব নাগরিককে ভোটার করে তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে চায় ইসি। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই । সংসদ নির্বাচন আগে প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম শুরু হবে। আমরা সংলাপসহ অনেক কার্যক্রম শেষ করেছি। এখন বিষটি চূড়ান্ত স্টেপে রয়েছে।
প্রসাসীরা ভোটার হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে এমন প্রশ্নে- শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ভোটার করলেও আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা বিদেশে বসে ভোট দিতে পারবেন কি না আমি এখন বলতে পারব না। এটা কমিশন সিদ্ধান্ত নিবে। তবে আমি বলতে পরি প্রবাসী যেসব ভাইয়েরা ভোটার হবেন তারা দেশে এসে ভোট দিতে পারবেন। এতে কোন সন্দেহ নেই।
ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) আবদুল বাতেন বলেন, প্রবাসীদের ভোটার হওয়া তাদের নাগরিক অধিকার। দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে তাদের ভোটার করতে কমবেশি সরকার কিংবা কমিশন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এই কমিশনের আগে বাংলা ভাষাভাষীদের ভোটার করার উদ্যোগটি এত সফলভাবে অতীতের কেউ আয়োজন করতে পারেনি। এবার সব পক্ষকে এক ছাতার তলায় এনে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় শিগগিরই প্রবাসীদের ভোটার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, আর্থিক ব্যয়, প্রক্রিয়া এবং কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে পাঁচটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে; ওই কমিটি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেবে। সেখানে ভোটার করতে কত ব্যয় হবে, ভোটার করার পদ্ধতি কী হবে এবং কী ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে, সেসব বিষয়া ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
জানাজায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সৌদি আরবসহ দু-একটি দেশে টিম পাঠিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কাজ শুরু করার। নানা সীমাবদ্ধতায় সেটি করতে পারেনি কমিশন। পরে গত বৃহস্পতিবার এ নিয়ে একটি সভাতে বসে কমিশন; লক্ষ্য ছিল চূড়ান্তভাবে চলতি মাসেই টিম পাঠিয়ে ভোটার প্রক্রিয়া শুরু করার।
কিন্তু সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নানা ধরনের জটিলতার বিষয় তুলে এনে পরিকল্পনামাফিক মাঠে নামার পরামর্শ দেন। পরে কর্তৃপক্ষ পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। ইস্যুসমূহের মধ্যে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট দেয়; সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা, পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ এবং দূতবাসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে কীভাবে তাদের ভোটার করা যায়, সেখানে গিয়ে ভোটার করার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় কত হবে তার একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা এবং প্রবাসীদের ভোটার করা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে প্রচার চালানোর পদ্ধতি কী, তা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া।

























