০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

এমপি আনারকে হত্যা ও হাড়-মাংস আলাদা করার দায়িত্বে ছিল যারা

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যা এবং লাশ থেকে হাড়-মাংস আলাদা করার কাজে কারা জড়িত ছিল, তা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (৩১ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভূঁইয়া ও সেলেষ্টি রহমান ওরফে শিলাস্তি রহমানকে আট দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুনরায় আট দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি হত্যায় জড়িত ছিল। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাত এক-দুজন সরাসরি জড়িত ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের আট দিনের রিমান্ডে পেয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভূঁইয়া জানায়, সে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। সে খুলনা, ঝিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলে গোপনীয়ভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। শিমুল ভূঁইয়ার দলের আদর্শের সঙ্গে ভিকটিম ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। অপরদিকে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আকতারুজ্জামান শাহীনের সাথে ভিকটিমের ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। এজন্য শিমুল ভূঁইয়া ও আকতারুজ্জামান শাহীন দীর্ঘদিন ধরে এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আসামিরা গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুইবার ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়।

আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আকতারুজ্জামান শাহীন ভারতের কলকাতার অভিজাত এলাকা নিউটাউনে গত ২৫ এপ্রিল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় এবং পরিকল্পনা মোতাবেক ৩০ এপ্রিল শিমুল ও শিলাস্তিসহ বাংলাদেশ থেকে গিয়ে সেখানে ওঠে। অন্য আসামিদের সঙ্গে মিটিং করে এমপি আনারকে হত্যার দায়িত্ব দিয়ে ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসে শিমুল। পরে শিমুল ও শাহীনের পরামর্শ মোতাবেক অন্য আসামিরা ভিকটিমকে সুকৌশলে ব্যবসার কথা বলে কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শিমুল অন্য আসামিদের সহায়তায় ভিকটিমকে হত্যা করে এবং তার হাড়-মাংস আলাদা করে। মাংস ছোট ছোট টুকরো করে ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে দিয়ে ফ্ল্যাশ করে এবং হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার নিউটাউন থেকে বেশ দূরে একটি খালে ফেলে দেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শিমুলের দেওয়া তথ্য কলকাতার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-কে জানানো হয়। পরে কলকাতার সিআইডি ওই ফ্ল্যাটের সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে সেপটিক ট্যাংকে জমা হওয়া মানুষের মাংস সদৃশ বস্তু গত ২৯ মে উদ্ধার করে। তা আনোয়ারুল আজিম আনারের দেহাংশ কি না, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে মর্মে কলকাতার সিআইডি মৌখিকভাবে জানায়। কলকাতায় উদ্ধারকৃত মাংস সদৃশ বস্তুর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। শিমুল ভূঁইয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এমপি আনারকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড়-মাংস আলাদা করার কাজে ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিল। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাত ২-১ জন জড়িত ছিল। জিহাদকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। আসামি তানভীর ঘটনার সময় শিমুলের সঙ্গে কলকাতা ছিল এবং তাকে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শিলাস্তি রহমান এমপি আনারকে হত্যার সময় কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে ছিল। কলকাতায় এমপি আনারকে রিসিভ করার দায়িত্বে ছিল শিলাস্তি।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিকটিমের লাশের অনেক অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আকতারুজ্জামান শাহীন, সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজসহ অজ্ঞাত অন্য আসামিদের শনাক্ত, সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও মূল পরিকল্পনাকারী আকতারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার জন্য এবং আসামি সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজসহ অন্য আসামিদের শনাক্ত, সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমের লাশের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারের জন্য আসামিদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালত তাদের পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে ২৪ মে তাদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এমপি আনারকে হত্যা ও হাড়-মাংস আলাদা করার দায়িত্বে ছিল যারা

প্রকাশিত : ০৭:০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যা এবং লাশ থেকে হাড়-মাংস আলাদা করার কাজে কারা জড়িত ছিল, তা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (৩১ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভূঁইয়া ও সেলেষ্টি রহমান ওরফে শিলাস্তি রহমানকে আট দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুনরায় আট দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি হত্যায় জড়িত ছিল। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাত এক-দুজন সরাসরি জড়িত ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের আট দিনের রিমান্ডে পেয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভূঁইয়া জানায়, সে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষস্থানীয় নেতা। সে খুলনা, ঝিনাইদহ, যশোরসহ দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলে গোপনীয়ভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। শিমুল ভূঁইয়ার দলের আদর্শের সঙ্গে ভিকটিম ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। অপরদিকে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আকতারুজ্জামান শাহীনের সাথে ভিকটিমের ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। এজন্য শিমুল ভূঁইয়া ও আকতারুজ্জামান শাহীন দীর্ঘদিন ধরে এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আসামিরা গত জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুইবার ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়।

আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আকতারুজ্জামান শাহীন ভারতের কলকাতার অভিজাত এলাকা নিউটাউনে গত ২৫ এপ্রিল একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় এবং পরিকল্পনা মোতাবেক ৩০ এপ্রিল শিমুল ও শিলাস্তিসহ বাংলাদেশ থেকে গিয়ে সেখানে ওঠে। অন্য আসামিদের সঙ্গে মিটিং করে এমপি আনারকে হত্যার দায়িত্ব দিয়ে ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসে শিমুল। পরে শিমুল ও শাহীনের পরামর্শ মোতাবেক অন্য আসামিরা ভিকটিমকে সুকৌশলে ব্যবসার কথা বলে কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শিমুল অন্য আসামিদের সহায়তায় ভিকটিমকে হত্যা করে এবং তার হাড়-মাংস আলাদা করে। মাংস ছোট ছোট টুকরো করে ফ্ল্যাটের টয়লেটের কমোডে ফেলে দিয়ে ফ্ল্যাশ করে এবং হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশ ট্রলিব্যাগে করে কলকাতার নিউটাউন থেকে বেশ দূরে একটি খালে ফেলে দেয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, শিমুলের দেওয়া তথ্য কলকাতার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-কে জানানো হয়। পরে কলকাতার সিআইডি ওই ফ্ল্যাটের সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে সেপটিক ট্যাংকে জমা হওয়া মানুষের মাংস সদৃশ বস্তু গত ২৯ মে উদ্ধার করে। তা আনোয়ারুল আজিম আনারের দেহাংশ কি না, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে মর্মে কলকাতার সিআইডি মৌখিকভাবে জানায়। কলকাতায় উদ্ধারকৃত মাংস সদৃশ বস্তুর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। শিমুল ভূঁইয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এমপি আনারকে হত্যা করা ও লাশ থেকে হাড়-মাংস আলাদা করার কাজে ফয়সাল, মোস্তাফিজ ও জিহাদ সরাসরি জড়িত ছিল। হাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশ দূরে ফেলে দেওয়ার কাজে সিয়ামসহ অজ্ঞাত ২-১ জন জড়িত ছিল। জিহাদকে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। আসামি তানভীর ঘটনার সময় শিমুলের সঙ্গে কলকাতা ছিল এবং তাকে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শিলাস্তি রহমান এমপি আনারকে হত্যার সময় কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে ছিল। কলকাতায় এমপি আনারকে রিসিভ করার দায়িত্বে ছিল শিলাস্তি।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভিকটিমের লাশের অনেক অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আকতারুজ্জামান শাহীন, সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজসহ অজ্ঞাত অন্য আসামিদের শনাক্ত, সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও মূল পরিকল্পনাকারী আকতারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার জন্য এবং আসামি সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজসহ অন্য আসামিদের শনাক্ত, সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমের লাশের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারের জন্য আসামিদের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালত তাদের পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে ২৪ মে তাদের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS