০৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪

আগস্টে জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তাপস বলেন, আমরা যে খালগুলো ওয়াসার কাছ থেকে পেয়েছি তার মধ্যে জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর এবং কালুনগর খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি খাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একনেকে আমাদের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) উদ্যোগে বাংলামোটরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে খাল পুনরুদ্ধারের ভূমিকা’ শীর্ষক ডুরা সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, খালগুলো পাওয়ার পর ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করি। তখন আমরা দেখেছি, শ্যামপুর খালের একটি অংশ ১০০ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে আমরা পেয়েছি ৮ ফুটের একটি নালা। এরকম চিত্র কিন্তু প্রায় সব জায়গায়। এখন আমরা এই প্রকল্পের আওতায় সিএস, আরএস, এসএ নকশা, বিষদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং পানি আইন অনুযায়ী এই ৪ খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।

আগামী মাস থেকে ব্যাপকভাবে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করব। এখানে আমরা কঠোরভাবে দখলমুক্ত করব। এ কাজে অনেক প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেক চাপ, প্রভাব রয়েছে। সেই চাপ, প্রভাব, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আমি গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, নগর পরিকল্পনাবিদ, ঢাকাবাসীর সোচ্চার ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা চূড়ান্তভাবে খালের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি সকল অবৈধ দখলদারদের কবল হতে খালগুলো মুক্ত করব- ইনশাআল্লাহ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ৪ বছরে গৃহীত ও বাস্তবায়িত নানা উদ্যোগ তুলে ধরে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর যেসব জায়গায় আধাঘণ্টার বেশি বৃষ্টির পানি জমা থাকে সেসব জায়গা ও স্থানকে জলাবদ্ধ বলে আমরা চিহ্নিত করছি। ২০২০ সালের পর হতে আমরা এ রকম ১৬১টি জায়গা-স্থান চিহ্নিত করেছি এবং ইতোমধ্যে ১৩৬টি জায়গা ও স্থানে আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি জায়গাগুলোতে কাজ চলমান রয়েছে।

বিগত দিনে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার নানা অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে এবং সেসব অসঙ্গতি মোকাবিলার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে শেখ তাপস বলেন, পুরাতন ঢাকার মূল জায়গা বংশাল, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া। বংশালে দীর্ঘ ৪০ বছর কোনো কাজ হয়নি। অনেক জায়গায় আমরা দেখেছি, নিকটবর্তী স্থান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার ঘুরিয়ে দূরবর্তী স্থান দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বংশাল এলাকার পানি ফুলবাড়িয়া হয়ে নর্থ-সাউথ সড়ক দিয়ে ধোলাইখাল হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশিত হতো। আমরা সেটি ৬ ফুট ব্যাসের নর্দমার মাধ্যমে সরাসরি বাবুবাজার সড়ক দিয়ে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ৩০ বছরেও সেখানে আর জলাবদ্ধতা হবে না।

একইভাবে শিক্ষা বোর্ডের সামনে গতবছর আমরা জলাবদ্ধতা পেয়েছি। সেখানেও দেখলাম, শিক্ষা বোর্ড বকশিবাজার হতে আজিমপুর হয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সেটা সরাসরি বকশিবাজার হতে চকবাজার হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। কারণ, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী নিকটবর্তী স্থান দিয়েই পানি নিষ্কাশন হবে। কিন্তু দূরবর্তী স্থান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে তা ধীর হয়ে যায়। আর যত ধীর হবে তত বেশি জলাবদ্ধতা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এরকম অনেক অসঙ্গতি আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী উপহার দিতে আমরা সেটা করে চলেছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, যারা খাল দখল করেছেন তারা কিন্তু কম শক্তিশালী না। দখলদারদের নামগুলো দেখলেই বুঝবেন তারাও কতটা শক্তিশালী। সুতরাং এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে যে, আমরা উদ্ধার কাজটাও করবো, একই সঙ্গে স্থায়ী সংরক্ষণের একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এজন্য সরকারের কমিটমেন্ট দরকার।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, খাল উদ্ধার করে কি করবেন? রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তো খালের পাড়ে ১৪ তলা ভবনের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। এখানে সিটি করপোরেশন কি করবে? সিটি করপোরেশন কি ভাঙতে পারবে?

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করে হাতিরঝিলে ২০০ কোটি টাকার বিজিইএমইএ ভবন ভাঙিয়েছে। কিন্তু সেখানে এখন যা হচ্ছে তা বন্ধে কোনো পরিবেশবাদীদেরকে দেখি না। উল্টো শুনছি- সেই প্রকল্পে তারা পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করছেন। তাহলে খাল উদ্ধার করে লাভ কি?

খাল বেদখলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা শহরের খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাতে হস্তান্তর হয়েছে। নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

আমরা সবাই জানি, ঢাকা শহরের খালগুলোর মালিকানা নগরীর বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত আছে। প্রধানত জেলা প্রশাসনের কাছে সব খালের মালিকানা থাকলেও অন্যান্য সংস্থা যেমন ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশনগুলো, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রভৃতি সংস্থা ঢাকা শহরের খালগুলোর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন নিয়োজিত থাকলেও খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে নগর সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসমন্বয় ছিল না এবং খালগুলোর প্রকৃত অভিভাবক কেউ ছিল না।

ঢাকা মহানগরের বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে খালগুলোকে কেন্দ্র করে যে নগর পরিকল্পনার সম্ভাবনা ছিল, সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিয়ে অব্যাহত দখল আর দূষণের মাধ্যমে খাল ও জলাশয়গুলোকে আমরা উন্নয়নের নামে ক্রমাগত ধ্বংস করেছি। ফলে একদিকে যেমন নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস হয়েছে, ঠিক তেমনি নগরায়ণের চাপে শহরের খালগুলো ক্রমান্বয়ে দখলের শিকার হয়েছে। একই সঙ্গে খালগুলোর দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার নেটওয়ার্ক হিসেবে নগরের খালগুলো তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে বহুলাংশে।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের আন্তরিকতা থাকলে খালগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। পাশাপাশি খালগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনামাফিক প্রকল্প হাতে নিলে খালগুলোর অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং খালের মধ্যে বৃষ্টির পানির ধারণক্ষমতা এবং পানিপ্রবাহের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

ডুরার সভাপতি ওবায়দুর মাসুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ, সংরক্ষিত আসনের নারগীস মাহতাবসহ অনেকে।

আগস্টে জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ

প্রকাশিত : ০৭:০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তাপস বলেন, আমরা যে খালগুলো ওয়াসার কাছ থেকে পেয়েছি তার মধ্যে জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর এবং কালুনগর খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি খাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একনেকে আমাদের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুলাই) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) উদ্যোগে বাংলামোটরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে খাল পুনরুদ্ধারের ভূমিকা’ শীর্ষক ডুরা সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, খালগুলো পাওয়ার পর ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করি। তখন আমরা দেখেছি, শ্যামপুর খালের একটি অংশ ১০০ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে আমরা পেয়েছি ৮ ফুটের একটি নালা। এরকম চিত্র কিন্তু প্রায় সব জায়গায়। এখন আমরা এই প্রকল্পের আওতায় সিএস, আরএস, এসএ নকশা, বিষদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং পানি আইন অনুযায়ী এই ৪ খালের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।

আগামী মাস থেকে ব্যাপকভাবে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করব। এখানে আমরা কঠোরভাবে দখলমুক্ত করব। এ কাজে অনেক প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেক চাপ, প্রভাব রয়েছে। সেই চাপ, প্রভাব, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আমি গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, নগর পরিকল্পনাবিদ, ঢাকাবাসীর সোচ্চার ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা চূড়ান্তভাবে খালের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি সকল অবৈধ দখলদারদের কবল হতে খালগুলো মুক্ত করব- ইনশাআল্লাহ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ৪ বছরে গৃহীত ও বাস্তবায়িত নানা উদ্যোগ তুলে ধরে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর যেসব জায়গায় আধাঘণ্টার বেশি বৃষ্টির পানি জমা থাকে সেসব জায়গা ও স্থানকে জলাবদ্ধ বলে আমরা চিহ্নিত করছি। ২০২০ সালের পর হতে আমরা এ রকম ১৬১টি জায়গা-স্থান চিহ্নিত করেছি এবং ইতোমধ্যে ১৩৬টি জায়গা ও স্থানে আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি জায়গাগুলোতে কাজ চলমান রয়েছে।

বিগত দিনে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার নানা অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে এবং সেসব অসঙ্গতি মোকাবিলার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে শেখ তাপস বলেন, পুরাতন ঢাকার মূল জায়গা বংশাল, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া। বংশালে দীর্ঘ ৪০ বছর কোনো কাজ হয়নি। অনেক জায়গায় আমরা দেখেছি, নিকটবর্তী স্থান দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রায় এক-দেড় কিলোমিটার ঘুরিয়ে দূরবর্তী স্থান দিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বংশাল এলাকার পানি ফুলবাড়িয়া হয়ে নর্থ-সাউথ সড়ক দিয়ে ধোলাইখাল হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশিত হতো। আমরা সেটি ৬ ফুট ব্যাসের নর্দমার মাধ্যমে সরাসরি বাবুবাজার সড়ক দিয়ে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ৩০ বছরেও সেখানে আর জলাবদ্ধতা হবে না।

একইভাবে শিক্ষা বোর্ডের সামনে গতবছর আমরা জলাবদ্ধতা পেয়েছি। সেখানেও দেখলাম, শিক্ষা বোর্ড বকশিবাজার হতে আজিমপুর হয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সেটা সরাসরি বকশিবাজার হতে চকবাজার হয়ে বুড়িগঙ্গায় নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। কারণ, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী নিকটবর্তী স্থান দিয়েই পানি নিষ্কাশন হবে। কিন্তু দূরবর্তী স্থান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে তা ধীর হয়ে যায়। আর যত ধীর হবে তত বেশি জলাবদ্ধতা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এরকম অনেক অসঙ্গতি আমাদেরকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী উপহার দিতে আমরা সেটা করে চলেছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, যারা খাল দখল করেছেন তারা কিন্তু কম শক্তিশালী না। দখলদারদের নামগুলো দেখলেই বুঝবেন তারাও কতটা শক্তিশালী। সুতরাং এখানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে যে, আমরা উদ্ধার কাজটাও করবো, একই সঙ্গে স্থায়ী সংরক্ষণের একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এজন্য সরকারের কমিটমেন্ট দরকার।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, খাল উদ্ধার করে কি করবেন? রাজউকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তো খালের পাড়ে ১৪ তলা ভবনের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। এখানে সিটি করপোরেশন কি করবে? সিটি করপোরেশন কি ভাঙতে পারবে?

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করে হাতিরঝিলে ২০০ কোটি টাকার বিজিইএমইএ ভবন ভাঙিয়েছে। কিন্তু সেখানে এখন যা হচ্ছে তা বন্ধে কোনো পরিবেশবাদীদেরকে দেখি না। উল্টো শুনছি- সেই প্রকল্পে তারা পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করছেন। তাহলে খাল উদ্ধার করে লাভ কি?

খাল বেদখলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা শহরের খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাতে হস্তান্তর হয়েছে। নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

আমরা সবাই জানি, ঢাকা শহরের খালগুলোর মালিকানা নগরীর বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত আছে। প্রধানত জেলা প্রশাসনের কাছে সব খালের মালিকানা থাকলেও অন্যান্য সংস্থা যেমন ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশনগুলো, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রভৃতি সংস্থা ঢাকা শহরের খালগুলোর তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন নিয়োজিত থাকলেও খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে নগর সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসমন্বয় ছিল না এবং খালগুলোর প্রকৃত অভিভাবক কেউ ছিল না।

ঢাকা মহানগরের বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে খালগুলোকে কেন্দ্র করে যে নগর পরিকল্পনার সম্ভাবনা ছিল, সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিয়ে অব্যাহত দখল আর দূষণের মাধ্যমে খাল ও জলাশয়গুলোকে আমরা উন্নয়নের নামে ক্রমাগত ধ্বংস করেছি। ফলে একদিকে যেমন নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস হয়েছে, ঠিক তেমনি নগরায়ণের চাপে শহরের খালগুলো ক্রমান্বয়ে দখলের শিকার হয়েছে। একই সঙ্গে খালগুলোর দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার নেটওয়ার্ক হিসেবে নগরের খালগুলো তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে বহুলাংশে।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের আন্তরিকতা থাকলে খালগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। পাশাপাশি খালগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনামাফিক প্রকল্প হাতে নিলে খালগুলোর অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং খালের মধ্যে বৃষ্টির পানির ধারণক্ষমতা এবং পানিপ্রবাহের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

ডুরার সভাপতি ওবায়দুর মাসুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ, সংরক্ষিত আসনের নারগীস মাহতাবসহ অনেকে।