১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

‘দর্শকদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি’

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৯:০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮
  • 186

৩৬৫ দিন হতে এখনো বাকি তিন মাস। এই সময়ে মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জের। এরপরও দেশের প্রথম শিশুতোষ টেলিভিশন চ্যানেল ‘দুরন্ত টিভি’ দর্শকদের কাছাকাছি যেতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী হায়দার।

১২ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে বনানীতে দুরন্ত টিভির কার্যালয়ে নতুন মৌসুমের তিনটি ধারাবাহিক নাটকের সম্প্রচার শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় চ্যানেলটির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন অনুষ্ঠানপ্রধান।

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর চ্যানেলটি পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রচার শুরু করে। তখন থেকেই এর অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

টিভি চ্যানেলটির সার্বিক বিষয় নিয়ে আলী হায়দার বলেন, ‘দর্শকদের কাছ থেকে আমরা অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এখন আমরা বলতে পারি, ১২ বছরের নিচে যেসব বাসায় শিশু আছে, তারা আমাদের চ্যানেলটি দেখছে। নির্ভরতার একটা জায়গা তৈরি করেছে ‘‘দুরন্ত টিভি’’। অভিভাবকরা মনে করেন, দুরন্ত টেলিভিশন শিশুদের নির্ভয়ে-নিশ্চিন্তে দেখতে দেওয়া যায়।

এ জায়গাটা আমার মনে হয় বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। সে জন্য দর্শকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করছি, সে ধারা অব্যাহত থাকবে। শিশুদের কনটেন্ট তৈরি করা খুব কঠিন কাজ। বাংলাদেশে শিশুদের কনটেন্ট তৈরি করার মানুষও খুব কম।’

এ টিভি চ্যানেলটির অনুষ্ঠানপ্রধান জানান, যারা এক সময় বিটিভিতে শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর’-এর সঙ্গে ছিলেন, তাদের কয়েকজন দুরন্ত টিভির সঙ্গে যুক্ত।

আলী হায়দার বলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন শিশুদের জন্য বেশ ভালো ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ করত। এর একটা সময় পর আর সেভাবে শত ভাগ গবেষণা করে কোনো প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেনি। আমরা গত নয় মাসে শিশুদের জন্য অনেক ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছি। আর আমরা যে অনুষ্ঠানগুলো নির্মাণ করি, সেটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, যাতে সেটি বারবার দেখানো যায়। শিশুদের একটা অভ্যাস আছে, রিপিট জিনিস দেখতে খুব পছন্দ করে আর অভ্যস্ত।

আর আমরা আসলে শিক্ষা দিই না। কারণ আমরা তো স্কুল না। আমরা হচ্ছে বিনোদনের মানুষ। এরপর যদি কোনো অনুষ্ঠানের সাবলাইনে যদি কোনো শিক্ষা থাকে, সেটা শিশুরা শিখে যায়। অনেক অভিভাবক বলে, অামাদের অনুষ্ঠানটা শিক্ষণীয়। কিন্তু আমরা তা কখনোই বলি না। তবে আমরা আমাদের কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, যার কারণেই এত দূর আসা সম্ভব হয়েছে। আর প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

ঘোষণা দেওয়া তিনটি নাটক হলো ‘শহর থেকে দূরে’, ‘পঞ্চভুজ’ ও ‘খাট্টা মিঠা’।

‘শহর থেকে দূরে’

সাঈদ রিংকু নাটকটি নির্মাণ করেছেন। কামাল বায়েজিদের গল্প অবলম্বনে রাফি মোহাম্মদ ও আলমগীর কবির এটি রচনা করেছেন। এটি ১৫ জুলাই থেকে রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটা এবং পুনঃপ্রচারিত হবে সকাল ৮টা ও সন্ধ্যা ৬টায়। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলভী, ইরফান, তমালিকা কর্মকার, অভিজিৎ সেনগুপ্ত, ফারজানা চুমকি, আবিদ রেহান, আলমগীর কবির, সুদীপ ব্যানার্জি, সুমন সরকার, জাহাঙ্গীর হাসান ও রমিজ রাজু।

এ বিষয়ে নির্মাতা সাঈদ রিংকু বলেন, ‘আমরা ১২-১৩ বছর বয়সের দুটি শিশুকে নিয়ে সমুদ্রে শুটিং করেছি। এটা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। সমুদ্রে গিয়ে শুটিং করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। যদিও এর আগে বেশ কয়েকবার ঘুরতে গিয়েছি। সে দিক থেকে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে।

সমুদ্র এবং পাহাড়-দুই দিকেই কাজ করতে হয়েছে। সেদিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা এই বাচ্চাদের নিয়ে ৭০০ ফিট উপর একটি পাহাড়ে গিয়ে কাজ করেছি। সেখানে ত্রিপুরাদের একটা আদিবাসী পল্লি ছিল, সেখানে কাজ করেছি। আর শিশুরা আমাদের এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করেছে।’

‘পঞ্চভুজ’

পাঁচ বন্ধুর মজার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক নাটকটি। প্রতিটি পর্বেই থাকবে বন্ধুদের নতুন নতুন চমক, উদ্ভাবন ও অভিযান। একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া দোতলা বাসে তাদের আস্তানা। এখানেই তৈরি হয় নতুন আবিষ্কার আর নতুন অভিযানের পরিকল্পনা। এসবের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাহায্য করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনন্দ, তমাল, মৈত্রি, সুধা, নিলাভ্র, মৌটুসি বিশ্বাস, মম, রাশেদ খান ও নৈরিত।

আবু রেজওয়ান ইউরেকা পরিচালিত এ ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত সাড়ে আটটায়। পুনঃপ্রচারিত হবে সকাল ৮টা ও সন্ধ্যা ৬টায়। ধারাবাহিকটির সম্প্রচার শুরু হবে ২০ জুলাই।

নাটকের বিষয়ে আবু রেজওয়ান ইউরেকা বলেন, ‘বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে কাজ করার সুযোগটা কম। যদিও আমাদের অনেকদিন থেকেই ইচ্ছে ছিল এ ধরনের কাজ করার। আমরা অনেকগুলো প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের বলা হলো, এ কাজটা ভালো, আপনারা এটা করতে পারেন। কাজটা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। শিশুদের গল্প, তাদের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলা খুব জরুরি।’

নাটকটির বিষয়ে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানপ্রধান মোহাম্মদ আলী হায়দার জানান, কাজ করতে গিয়ে তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দোতালা বিআরটিসির একটা বাস ম্যানেজ করা। তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির মহাপরিচালক আমাকে বলেন, ‘‘আপনি বুঝতে পারেন, সরকারি জিনিস ভাঙাচোরা আছে। কিন্তু যদি নষ্ট হয়, ৫০-৬০ লাখ টাকার মামলা হয়ে যাবে’’।

তারপর বললাম, বিআরটিসিতে শুটিং করি। তিনি বললেন, ‘‘না’’। তারপর আমরা অনেক জায়গায় চেষ্টা করে জায়গা ম্যানেজ করি। একটা কলোনি দরকার ছিল। কয়েকটা কলোনির লোকজন শুটিং করতে দিতে রাজি। কিন্তু বাস ভেতরে রাখতে দিবে না। যাই হোক, অনেক কষ্টে শেরে বাংলা নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ার্টারের লোকজনকে রাজি করে কাজটি করি।’

‘খাট্টা মিঠা’…

নাটকটির গবেষণায় কাজ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. রশীদ হারুন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল আমার নিজের অ্যাকাডেমিক গবেষণার বিষয়। আমি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি যে, এটা অসম্ভবকে সম্ভব করার একটি শিল্পকলা। মানুষ যা এমনিতে পারে না, পুতুল দিয়ে তা করিয়ে নেওয়া যায়।

যেহেতু নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করি, তাই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কাজটি শুরু করি। কাজটি করা বেশ কঠিন। আমরা চেষ্টা করেছি পুতুলগুলো দেখার পর যাতে মনে হয়, এগুলো আমাদের। পোশাকগুলোতে চেষ্টা করেছি আমাদের আইডেন্টিটি তৈরি করার। আমি কাজটি করতে গিয়ে দারুণ কিছু বিষয় শিখেছি।’

নাটকটি পরিচালনা করেছেন মিথুন হাসান ও মোহাম্মদ আলী। এর মধ্যে মিথুন হাসান বলেন, ‘আমাদের যে উদ্দেশ্যটা ছিল, বাংলাদেশের শিশুদের জন্য লোকাল একটা ক্যারেকটার তৈরি করা। কারণ তারা তো দেশের বাইরের বিভিন্ন চরিত্র দেখে তার মতো হতে চায়। সেটা কতটুকু সফল হয়েছি, তা এখনো জানি না। শুরুতে আমাদের এত সাহস ছিল না। ‘‘দুরন্ত টেলিভিশন’’ আমাদের ভীষণ সহযোগিতা করেছে। তা না হলে কাজটি করার সম্ভব হতো না।’

প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নাটকটি প্রচারিত হবে। এটির পুনঃপ্রচার হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। ২০ জুলাই থেকে নাটকটির প্রচার শুরু হবে।

সূত্র : প্রিয়.কম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু আজ

‘দর্শকদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি’

প্রকাশিত : ০৯:০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮

৩৬৫ দিন হতে এখনো বাকি তিন মাস। এই সময়ে মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জের। এরপরও দেশের প্রথম শিশুতোষ টেলিভিশন চ্যানেল ‘দুরন্ত টিভি’ দর্শকদের কাছাকাছি যেতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী হায়দার।

১২ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে বনানীতে দুরন্ত টিভির কার্যালয়ে নতুন মৌসুমের তিনটি ধারাবাহিক নাটকের সম্প্রচার শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় চ্যানেলটির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন অনুষ্ঠানপ্রধান।

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর চ্যানেলটি পরীক্ষামূলকভাবে সম্প্রচার শুরু করে। তখন থেকেই এর অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

টিভি চ্যানেলটির সার্বিক বিষয় নিয়ে আলী হায়দার বলেন, ‘দর্শকদের কাছ থেকে আমরা অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এখন আমরা বলতে পারি, ১২ বছরের নিচে যেসব বাসায় শিশু আছে, তারা আমাদের চ্যানেলটি দেখছে। নির্ভরতার একটা জায়গা তৈরি করেছে ‘‘দুরন্ত টিভি’’। অভিভাবকরা মনে করেন, দুরন্ত টেলিভিশন শিশুদের নির্ভয়ে-নিশ্চিন্তে দেখতে দেওয়া যায়।

এ জায়গাটা আমার মনে হয় বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। সে জন্য দর্শকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করছি, সে ধারা অব্যাহত থাকবে। শিশুদের কনটেন্ট তৈরি করা খুব কঠিন কাজ। বাংলাদেশে শিশুদের কনটেন্ট তৈরি করার মানুষও খুব কম।’

এ টিভি চ্যানেলটির অনুষ্ঠানপ্রধান জানান, যারা এক সময় বিটিভিতে শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সিসিমপুর’-এর সঙ্গে ছিলেন, তাদের কয়েকজন দুরন্ত টিভির সঙ্গে যুক্ত।

আলী হায়দার বলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন শিশুদের জন্য বেশ ভালো ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ করত। এর একটা সময় পর আর সেভাবে শত ভাগ গবেষণা করে কোনো প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেনি। আমরা গত নয় মাসে শিশুদের জন্য অনেক ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছি। আর আমরা যে অনুষ্ঠানগুলো নির্মাণ করি, সেটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, যাতে সেটি বারবার দেখানো যায়। শিশুদের একটা অভ্যাস আছে, রিপিট জিনিস দেখতে খুব পছন্দ করে আর অভ্যস্ত।

আর আমরা আসলে শিক্ষা দিই না। কারণ আমরা তো স্কুল না। আমরা হচ্ছে বিনোদনের মানুষ। এরপর যদি কোনো অনুষ্ঠানের সাবলাইনে যদি কোনো শিক্ষা থাকে, সেটা শিশুরা শিখে যায়। অনেক অভিভাবক বলে, অামাদের অনুষ্ঠানটা শিক্ষণীয়। কিন্তু আমরা তা কখনোই বলি না। তবে আমরা আমাদের কাজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, যার কারণেই এত দূর আসা সম্ভব হয়েছে। আর প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

ঘোষণা দেওয়া তিনটি নাটক হলো ‘শহর থেকে দূরে’, ‘পঞ্চভুজ’ ও ‘খাট্টা মিঠা’।

‘শহর থেকে দূরে’

সাঈদ রিংকু নাটকটি নির্মাণ করেছেন। কামাল বায়েজিদের গল্প অবলম্বনে রাফি মোহাম্মদ ও আলমগীর কবির এটি রচনা করেছেন। এটি ১৫ জুলাই থেকে রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটা এবং পুনঃপ্রচারিত হবে সকাল ৮টা ও সন্ধ্যা ৬টায়। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলভী, ইরফান, তমালিকা কর্মকার, অভিজিৎ সেনগুপ্ত, ফারজানা চুমকি, আবিদ রেহান, আলমগীর কবির, সুদীপ ব্যানার্জি, সুমন সরকার, জাহাঙ্গীর হাসান ও রমিজ রাজু।

এ বিষয়ে নির্মাতা সাঈদ রিংকু বলেন, ‘আমরা ১২-১৩ বছর বয়সের দুটি শিশুকে নিয়ে সমুদ্রে শুটিং করেছি। এটা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। সমুদ্রে গিয়ে শুটিং করার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। যদিও এর আগে বেশ কয়েকবার ঘুরতে গিয়েছি। সে দিক থেকে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে।

সমুদ্র এবং পাহাড়-দুই দিকেই কাজ করতে হয়েছে। সেদিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা এই বাচ্চাদের নিয়ে ৭০০ ফিট উপর একটি পাহাড়ে গিয়ে কাজ করেছি। সেখানে ত্রিপুরাদের একটা আদিবাসী পল্লি ছিল, সেখানে কাজ করেছি। আর শিশুরা আমাদের এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করেছে।’

‘পঞ্চভুজ’

পাঁচ বন্ধুর মজার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক নাটকটি। প্রতিটি পর্বেই থাকবে বন্ধুদের নতুন নতুন চমক, উদ্ভাবন ও অভিযান। একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া দোতলা বাসে তাদের আস্তানা। এখানেই তৈরি হয় নতুন আবিষ্কার আর নতুন অভিযানের পরিকল্পনা। এসবের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাহায্য করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনন্দ, তমাল, মৈত্রি, সুধা, নিলাভ্র, মৌটুসি বিশ্বাস, মম, রাশেদ খান ও নৈরিত।

আবু রেজওয়ান ইউরেকা পরিচালিত এ ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত সাড়ে আটটায়। পুনঃপ্রচারিত হবে সকাল ৮টা ও সন্ধ্যা ৬টায়। ধারাবাহিকটির সম্প্রচার শুরু হবে ২০ জুলাই।

নাটকের বিষয়ে আবু রেজওয়ান ইউরেকা বলেন, ‘বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে কাজ করার সুযোগটা কম। যদিও আমাদের অনেকদিন থেকেই ইচ্ছে ছিল এ ধরনের কাজ করার। আমরা অনেকগুলো প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের বলা হলো, এ কাজটা ভালো, আপনারা এটা করতে পারেন। কাজটা করা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। শিশুদের গল্প, তাদের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলা খুব জরুরি।’

নাটকটির বিষয়ে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানপ্রধান মোহাম্মদ আলী হায়দার জানান, কাজ করতে গিয়ে তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দোতালা বিআরটিসির একটা বাস ম্যানেজ করা। তিনি বলেন, ‘বিআরটিসির মহাপরিচালক আমাকে বলেন, ‘‘আপনি বুঝতে পারেন, সরকারি জিনিস ভাঙাচোরা আছে। কিন্তু যদি নষ্ট হয়, ৫০-৬০ লাখ টাকার মামলা হয়ে যাবে’’।

তারপর বললাম, বিআরটিসিতে শুটিং করি। তিনি বললেন, ‘‘না’’। তারপর আমরা অনেক জায়গায় চেষ্টা করে জায়গা ম্যানেজ করি। একটা কলোনি দরকার ছিল। কয়েকটা কলোনির লোকজন শুটিং করতে দিতে রাজি। কিন্তু বাস ভেতরে রাখতে দিবে না। যাই হোক, অনেক কষ্টে শেরে বাংলা নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ার্টারের লোকজনকে রাজি করে কাজটি করি।’

‘খাট্টা মিঠা’…

নাটকটির গবেষণায় কাজ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ড. রশীদ হারুন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল আমার নিজের অ্যাকাডেমিক গবেষণার বিষয়। আমি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি যে, এটা অসম্ভবকে সম্ভব করার একটি শিল্পকলা। মানুষ যা এমনিতে পারে না, পুতুল দিয়ে তা করিয়ে নেওয়া যায়।

যেহেতু নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা করি, তাই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কাজটি শুরু করি। কাজটি করা বেশ কঠিন। আমরা চেষ্টা করেছি পুতুলগুলো দেখার পর যাতে মনে হয়, এগুলো আমাদের। পোশাকগুলোতে চেষ্টা করেছি আমাদের আইডেন্টিটি তৈরি করার। আমি কাজটি করতে গিয়ে দারুণ কিছু বিষয় শিখেছি।’

নাটকটি পরিচালনা করেছেন মিথুন হাসান ও মোহাম্মদ আলী। এর মধ্যে মিথুন হাসান বলেন, ‘আমাদের যে উদ্দেশ্যটা ছিল, বাংলাদেশের শিশুদের জন্য লোকাল একটা ক্যারেকটার তৈরি করা। কারণ তারা তো দেশের বাইরের বিভিন্ন চরিত্র দেখে তার মতো হতে চায়। সেটা কতটুকু সফল হয়েছি, তা এখনো জানি না। শুরুতে আমাদের এত সাহস ছিল না। ‘‘দুরন্ত টেলিভিশন’’ আমাদের ভীষণ সহযোগিতা করেছে। তা না হলে কাজটি করার সম্ভব হতো না।’

প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নাটকটি প্রচারিত হবে। এটির পুনঃপ্রচার হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। ২০ জুলাই থেকে নাটকটির প্রচার শুরু হবে।

সূত্র : প্রিয়.কম