১২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। এছাড়া এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে মাদক, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রবিবার রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

উভয় মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১২টির বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মে মাসে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর প্রায় প্রতি রাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘মাদক বিক্রেতাদের’ নিহত হওয়ার খবর দিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ধরনের ঘটনায় গত দুই মাসে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শহরতলীতে পুলিশের হাত থেকে পলাতক আসামি আহসান উল্লাহ খান নোমান (৪০) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। রবিবার রাত সোয়া ২টার দিকে সদর উপজেলার ৭নং চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, নোমান নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৪টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়াও সে পুলিশের কাছ থেকে পলাতক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলো। নোমান নগরীর সেনবাড়ী এলাকার মঞ্জুরুল হক খানের ছেলে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নোমান উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নোমানের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথাড়ি গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

একপর্যায়ে উভয়ের পক্ষের গুলাগুলির মাঝে পরে নোমান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নোমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানার তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র দুটি চাপতি, একটি চাইনিজ ছুড়ি ও ৪৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।

এদিকে, কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শহর আলী (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ পিস ইয়াবা, তিনটি গুলি, তিনটি গুলির খোসা ও একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। রবিবার রাত ২টার দিকে শহরের কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ছাব্বিরুল ইসলাম জানান, তারা গোপনে জানতে পারেন হরিপুর সেতুর নিচে এক দল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে। পরে ডিবি পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে, এতে পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলে।

পরে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে এক মাদক ব্যবসায়ী শহর আলীকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় কত্যর্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শহর আলী কুষ্টিয়া শহরের পুর্ব মজমপুরের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এক ডজন মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

প্রকাশিত : ১০:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮

ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। এছাড়া এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে মাদক, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রবিবার রাতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

উভয় মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১২টির বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মে মাসে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর প্রায় প্রতি রাতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘মাদক বিক্রেতাদের’ নিহত হওয়ার খবর দিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ধরনের ঘটনায় গত দুই মাসে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শহরতলীতে পুলিশের হাত থেকে পলাতক আসামি আহসান উল্লাহ খান নোমান (৪০) ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। রবিবার রাত সোয়া ২টার দিকে সদর উপজেলার ৭নং চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, নোমান নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৪টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়াও সে পুলিশের কাছ থেকে পলাতক এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলো। নোমান নগরীর সেনবাড়ী এলাকার মঞ্জুরুল হক খানের ছেলে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নোমান উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নোমানের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাথাড়ি গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

একপর্যায়ে উভয়ের পক্ষের গুলাগুলির মাঝে পরে নোমান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নোমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানার তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র দুটি চাপতি, একটি চাইনিজ ছুড়ি ও ৪৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।

এদিকে, কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শহর আলী (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ পিস ইয়াবা, তিনটি গুলি, তিনটি গুলির খোসা ও একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। রবিবার রাত ২টার দিকে শহরের কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ছাব্বিরুল ইসলাম জানান, তারা গোপনে জানতে পারেন হরিপুর সেতুর নিচে এক দল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে। পরে ডিবি পুলিশের একটি টিম সেখানে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে, এতে পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলে।

পরে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে এক মাদক ব্যবসায়ী শহর আলীকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় কত্যর্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শহর আলী কুষ্টিয়া শহরের পুর্ব মজমপুরের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এক ডজন মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। আহত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।