১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাপা পিঠা বিক্রি করে চলে শেফালীর সংসার

বেঁচে থাকার জন্যই জীবন যুদ্ধ আর এ জীবন যুদ্ধ করতে হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য। দুমুটো ভাত পেটে দিতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয় শ্রমজীবী কাজে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিদ্ধ চাউল পানিতে ভিজিয়ে তারপর ডেকিতে গুঁড়ো করে প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রি করেন ভাপা পিঠা। পিঠা বিক্রি করে শীতের আনন্দ নিতে আসা পিঠা প্রেমীদের মনের খোরাক মেটান শেফালী খাতুন।

শেফালী খাতুন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাতিয়ারপাড়া গ্রামের ফরজ সরদারের স্ত্রী। তিনি রাস্তার পাশে ভাপা পিঠা বানিয়ে মানুষের মনের খোরাক মেটাচ্ছেন। মাটির চুলায় ভাপা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকেন তিনি।

শেফালী খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে সবাইকে বিয়ে সাদী দিয়েছি। ছেলেরা আমাদের ভাত কাপড় দেয় না তাই স্বামিকে নিয়ে রাস্তার পাশে একটি চুলা ও পাতিল নিয়ে ভাপা পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে কোন মতে সংসার চালাচ্ছি।

দেখা যায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেককেই পিঠা খেতে। আর শীতের পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি মেটাতে গিয়ে দূর দূরান্ত থেকে ছুটি আছে এই ভাপা পিঠে খেতে। নিজেরা খেয়ে বাড়ির সদস্যদের জন্যও পিঠা কিনে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, শীতকালে প্রচুর মানুষ পিঠা খেতে আসেন। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি চাউলের গুড়ার ভাপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করি। সাথে থাকে গুড় প্রতি পিস ভাপা পিঠা ৫ টাকা ও ১০ টাকা।

ইট ভাটার শ্রমিক হায়দার বলেন, প্রতিদিন ভোরে গরম গরম ধোয়া উঠা ভাপা পিঠা খাই, তখন শীতের যে একটি আমেজ আছে সেইটা পরিপূর্ণ মনে হয়।

বাতিয়ারপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা অনেকেই একসাথে আড্ডা দিয়ে শেফালীর কাছে ভাপা পিঠা খেতে বসি। পরিষ্কার ও পরিছন্নতা ভাবে ভাপা পিঠা বানিয়ে ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। তাই উনার হাতে বানানো ভাপা পিঠা দিয়ে সকালের নাস্তা শুরু করি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

ভাপা পিঠা বিক্রি করে চলে শেফালীর সংসার

প্রকাশিত : ০৪:৪১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

বেঁচে থাকার জন্যই জীবন যুদ্ধ আর এ জীবন যুদ্ধ করতে হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য। দুমুটো ভাত পেটে দিতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয় শ্রমজীবী কাজে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিদ্ধ চাউল পানিতে ভিজিয়ে তারপর ডেকিতে গুঁড়ো করে প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রি করেন ভাপা পিঠা। পিঠা বিক্রি করে শীতের আনন্দ নিতে আসা পিঠা প্রেমীদের মনের খোরাক মেটান শেফালী খাতুন।

শেফালী খাতুন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাতিয়ারপাড়া গ্রামের ফরজ সরদারের স্ত্রী। তিনি রাস্তার পাশে ভাপা পিঠা বানিয়ে মানুষের মনের খোরাক মেটাচ্ছেন। মাটির চুলায় ভাপা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকেন তিনি।

শেফালী খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে সবাইকে বিয়ে সাদী দিয়েছি। ছেলেরা আমাদের ভাত কাপড় দেয় না তাই স্বামিকে নিয়ে রাস্তার পাশে একটি চুলা ও পাতিল নিয়ে ভাপা পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে কোন মতে সংসার চালাচ্ছি।

দেখা যায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেককেই পিঠা খেতে। আর শীতের পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি মেটাতে গিয়ে দূর দূরান্ত থেকে ছুটি আছে এই ভাপা পিঠে খেতে। নিজেরা খেয়ে বাড়ির সদস্যদের জন্যও পিঠা কিনে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, শীতকালে প্রচুর মানুষ পিঠা খেতে আসেন। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি চাউলের গুড়ার ভাপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করি। সাথে থাকে গুড় প্রতি পিস ভাপা পিঠা ৫ টাকা ও ১০ টাকা।

ইট ভাটার শ্রমিক হায়দার বলেন, প্রতিদিন ভোরে গরম গরম ধোয়া উঠা ভাপা পিঠা খাই, তখন শীতের যে একটি আমেজ আছে সেইটা পরিপূর্ণ মনে হয়।

বাতিয়ারপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা অনেকেই একসাথে আড্ডা দিয়ে শেফালীর কাছে ভাপা পিঠা খেতে বসি। পরিষ্কার ও পরিছন্নতা ভাবে ভাপা পিঠা বানিয়ে ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে সুনামের সাথে ব্যবসা করছেন। তাই উনার হাতে বানানো ভাপা পিঠা দিয়ে সকালের নাস্তা শুরু করি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস