১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্দেশে লুটপাট হয়েছে কোটি কোটি টাকা

আওয়ামী সরকারের ১৫ বছরের দুর্নীতির শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র। সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্দেশে লুটপাট হয়েছে কোটি কোটি টাকা। যার ভাগ নিয়েছেন মিথ্যাবাদী কুলাঙ্গা হাসান মাহমুদ ও তার পিএস থেকে শুরু করে সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এইসব দুর্নীতিরমুল হোতা ছিলেন স্বয়ং চট্টগ্রাম বিটিভির জিএম নুর আনোয়ার হোসেন রঞ্জু। সহযোগিতা করেছেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন। এই দুই কর্মকর্তার নিয়োগ দাতা পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ ইমাম, হাসানুল হক ইনু,ড.হাসান মাহমুদ। তারা দুই কর্মকর্তা থেকে নিয়েছেন নানা অনৈতিক সুবিধা। অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উপকরণ ক্রয় ভুয়া অনুষ্ঠান ও শিল্পী সম্মানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা ।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানাযায়, ডিজাইন শাখায় গত দুই অর্থবছরে ২১-২২-২৩ এ ক্রয় খাতে ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে।ভুয়া টেন্ডারের মাধ্যমে ভুয়া প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে টাকা উত্তোলন করে ও সরাসরি ক্রয় বিল ভাউচার সঠিক দেখালেও মালামাল স্টোর পর্যন্ত পৌঁছেনি। মুজিব শত বর্ষের নামে হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু, প্রজন্মের ভাবনা, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা শেখ শওকত ইকবাল, শাহজাহান কবির ও জি এম নূর আনোয়ার হোসেন রঞ্জু ভাগাভাগি করে। এছাড়াও বাংলাদেশ দিপ দর্পণ, ভ্রমণ বাংলাদেশ সহ অসংখ্য অনুষ্ঠান পূর্ণ প্রচার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। প্রত্যেক অনুষ্ঠানের নাম্বার প্রদানের কথা থাকলেও সিডিউল ও প্রচারের কোন নাম্বার না থাকায় ওই অনুষ্ঠান বার বার প্রচার করা হতো। প্রশাসনে মাল ক্রয় এর নিয়ম থাকলেও মাল গ্রহণ না করে ভুয়া বিল ও ভাউচার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটতো। অন্যদিকে প্রত্যেক মাসে জ্বালানি বিল বাবদ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা খরচ করার নিয়ম থাকলেও জুন ২০২৪ এ খরচ করত ৪০ লক্ষ টাকা এ নিয়ে অডিট টিম ও আপত্তি তোলে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ‘রান্না কথন’ নামে ২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও আলোচক ছিলেন একজন করে। অথচ ওই অনুষ্ঠানের বিল করা হয়েছে ১২ জনের নামে। যার মধ্যে আলোচক দেখানো হয়েছে আটজন। যা অবাস্তব বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ২ হাজার টাকা, আলোচক ৩ হাজার ও অনুষ্ঠান সহকারী দু’জন ৪ হাজার ৩৩২ টাকা সম্মানী পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এই অনুষ্ঠানে সর্বমোট ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিল করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩২ টাকা। একইভাবে গত ২ আগস্ট মহেশখালীর ধলঘাটা দ্বীপ নিয়ে ‘দ্বীপ দর্পণ’ অনুষ্ঠানের প্রচার হয়। যার বাজেট দেখানো হয়েছে ৯৯ হাজার ৪১০ টাকা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক, নেপথ্যে ধারা বর্ণনাকারী ছাড়াও সাক্ষাৎকার প্রদানকারী হিসেবে ১৮ জনের নামে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। বাজেটে ‘দ্বীপ দর্পণ’ অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি ২৫ মিনিট উল্লেখ থাকলেও প্রচারিত অনুষ্ঠানের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৫.১৭ মিনিট। ৫ মিনিটের অনুষ্ঠানে ১৮ জনের সাক্ষাৎকার প্রচারও অবাস্তব বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিয়মিত অনুষ্ঠান ধারণ ও প্রচার প্রায় বন্ধ থাকলেও ২ কোটি ২০ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেড় কোটি টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে। এভাবে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক জিএম আনোয়ার হোসেন রঞ্জু ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন সিন্ডিকেট গত দেড় বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। যা অনুষ্ঠানমালার বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ।

২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্মিত অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে অভিনেতা জায়েদ খানসহ বিভিন্ন শিল্পীকে আনা হয়। এক দিনের অনুষ্ঠানে বাজেট দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এ থেকে অন্তত ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জনপ্রিয় শিল্পী কল্যাণী ঘোষ বলেন, ‘চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা থেকে শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করা হয়েছে, অথচ চট্টগ্রামের কোনো গুণী শিল্পীকে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের শিল্পীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ১৪ ঘন্টা চ্যানেল হলেও কোন কোন দিন একটি মাত্র অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে অন্য অনুষ্ঠান পূর্ণ প্রচার দিয়ে চালিয়ে দিত। কিন্তু প্রত্যেক দিন ১০ থেকে ১৫ টি অনুষ্ঠানের বিল জমা করে উত্তোলন করা হত।
কম্পিউটার প্রিন্টার সহ যাবতীয় ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বড় রকমের দুর্নীতি করেছে জিএম রন্জু।এই ক্ষেত্রে প্রতিবছর বরাদ্দ ছিল ৫৬ লক্ষ টাকা। এখানে কি পরিমান দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্ত করতে ইতিমধ্যে ইনভেন্টরি কমিটির গঠন করা হয়। হাসান মাহমুদের পিএস ক্যান্টিন বরাদ্দ দেওয়ার পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন সাবেক জি এম রঞ্জু। তিনি আইন বহির্ভূতভাবে এই চুক্তিটি করেন। এছাড়াও জিএম রঞ্জু ক্যান্টিনের সামনে আরেকটি কাবাব ঘর স্থাপন করে ভাড়া দিয়ে ভাড়া গুলো তিনি নিজেই নিতেন।

২০২৪ সালের ৭ই ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে হাসান মাহমুদের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন জিএম রঞ্জু। তার সময় প্রতি মাসে শিল্পীদের সম্মানী হিসেবে এক কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ করা হতো। বর্তমানে শিল্পী সম্মানী খরচ হয় আশি লক্ষ টাকা। গত দুই অর্থবছরে শিল্পী সম্মানীর আটাশ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এইসব লুটের ভাগ যেত হাসান মাহমুদ ও তার পিএস রাশেদ ও ইনুর কাছে। আর কিছু যেত আওয়ামী লীগের লিপ্টন,সংকর সহ নেতাদের কাছে। এক পথ থেকে আরেক পথ ভাগিয়ে পরপর তিনটি অবৈধ প্রমোশন নিয়েছেন জিএম রঞ্জু। তিনি এইচটি ইমাম ও হাসান মাহমুদকে ব্যবহার করতেন সবসময়। বিটিভি ১৪ জন কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলেও গঠিত কমিটির এখনো কোন রিপোর্ট জমা দেয়নি। জানা গেছে সাবেক এ জিএম মন্ত্রণালয়ে সবাইকে মেনেজ করে এই রিপোর্ট দিতে দেরি করাচ্ছেন।

এছাড়া ও রঞ্জু ঢাকা কেন্দ্রে অবস্থান করার সুবাদে আওয়ামী সমর্থিত সংস্কৃতি কর্মী ও শিল্পীদের তিনি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের এখন একটি পরিকল্পনা বিটিভি চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রে স্থিতিশীল।অন্যদিকে আওয়ামী দোষর হিসেবে পরিচিত বাদ পড়া শিল্পিদের দিয়ে মামলা করার পরিকল্পনা করছে বলে জানাগেছে। এছাড়াও হাছান মাহমুদের রিপোর্টার তুলনা অর্পণ, সাখাওয়াত মিন্টু, আপরোজা চৌধুরী, বাবু মাতর্বরকে টাকা দিয়ে হাইকোর্টে রিট করার জন্য পরিকল্পনা করেছে বলে জানাগেছে।

১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। গত ১৬ বছরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য ও মাহফুজা আক্তার, মনোজ সেন গুপ্ত, জাঁ নেসার ওসমানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। মাহফুজার বিরুদ্ধে ২১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ডিএস//

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্দেশে লুটপাট হয়েছে কোটি কোটি টাকা

প্রকাশিত : ০২:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

আওয়ামী সরকারের ১৫ বছরের দুর্নীতির শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র। সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নির্দেশে লুটপাট হয়েছে কোটি কোটি টাকা। যার ভাগ নিয়েছেন মিথ্যাবাদী কুলাঙ্গা হাসান মাহমুদ ও তার পিএস থেকে শুরু করে সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এইসব দুর্নীতিরমুল হোতা ছিলেন স্বয়ং চট্টগ্রাম বিটিভির জিএম নুর আনোয়ার হোসেন রঞ্জু। সহযোগিতা করেছেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন। এই দুই কর্মকর্তার নিয়োগ দাতা পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ ইমাম, হাসানুল হক ইনু,ড.হাসান মাহমুদ। তারা দুই কর্মকর্তা থেকে নিয়েছেন নানা অনৈতিক সুবিধা। অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উপকরণ ক্রয় ভুয়া অনুষ্ঠান ও শিল্পী সম্মানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা ।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানাযায়, ডিজাইন শাখায় গত দুই অর্থবছরে ২১-২২-২৩ এ ক্রয় খাতে ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে।ভুয়া টেন্ডারের মাধ্যমে ভুয়া প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে টাকা উত্তোলন করে ও সরাসরি ক্রয় বিল ভাউচার সঠিক দেখালেও মালামাল স্টোর পর্যন্ত পৌঁছেনি। মুজিব শত বর্ষের নামে হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু, প্রজন্মের ভাবনা, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা শেখ শওকত ইকবাল, শাহজাহান কবির ও জি এম নূর আনোয়ার হোসেন রঞ্জু ভাগাভাগি করে। এছাড়াও বাংলাদেশ দিপ দর্পণ, ভ্রমণ বাংলাদেশ সহ অসংখ্য অনুষ্ঠান পূর্ণ প্রচার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। প্রত্যেক অনুষ্ঠানের নাম্বার প্রদানের কথা থাকলেও সিডিউল ও প্রচারের কোন নাম্বার না থাকায় ওই অনুষ্ঠান বার বার প্রচার করা হতো। প্রশাসনে মাল ক্রয় এর নিয়ম থাকলেও মাল গ্রহণ না করে ভুয়া বিল ও ভাউচার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটতো। অন্যদিকে প্রত্যেক মাসে জ্বালানি বিল বাবদ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা খরচ করার নিয়ম থাকলেও জুন ২০২৪ এ খরচ করত ৪০ লক্ষ টাকা এ নিয়ে অডিট টিম ও আপত্তি তোলে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ‘রান্না কথন’ নামে ২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও আলোচক ছিলেন একজন করে। অথচ ওই অনুষ্ঠানের বিল করা হয়েছে ১২ জনের নামে। যার মধ্যে আলোচক দেখানো হয়েছে আটজন। যা অবাস্তব বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ২ হাজার টাকা, আলোচক ৩ হাজার ও অনুষ্ঠান সহকারী দু’জন ৪ হাজার ৩৩২ টাকা সম্মানী পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এই অনুষ্ঠানে সর্বমোট ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিল করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩২ টাকা। একইভাবে গত ২ আগস্ট মহেশখালীর ধলঘাটা দ্বীপ নিয়ে ‘দ্বীপ দর্পণ’ অনুষ্ঠানের প্রচার হয়। যার বাজেট দেখানো হয়েছে ৯৯ হাজার ৪১০ টাকা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক, নেপথ্যে ধারা বর্ণনাকারী ছাড়াও সাক্ষাৎকার প্রদানকারী হিসেবে ১৮ জনের নামে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। বাজেটে ‘দ্বীপ দর্পণ’ অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি ২৫ মিনিট উল্লেখ থাকলেও প্রচারিত অনুষ্ঠানের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৫.১৭ মিনিট। ৫ মিনিটের অনুষ্ঠানে ১৮ জনের সাক্ষাৎকার প্রচারও অবাস্তব বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিয়মিত অনুষ্ঠান ধারণ ও প্রচার প্রায় বন্ধ থাকলেও ২ কোটি ২০ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেড় কোটি টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে। এভাবে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক জিএম আনোয়ার হোসেন রঞ্জু ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোমানা শারমিন সিন্ডিকেট গত দেড় বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। যা অনুষ্ঠানমালার বাজেটের এক-তৃতীয়াংশ।

২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্মিত অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে অভিনেতা জায়েদ খানসহ বিভিন্ন শিল্পীকে আনা হয়। এক দিনের অনুষ্ঠানে বাজেট দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এ থেকে অন্তত ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের জনপ্রিয় শিল্পী কল্যাণী ঘোষ বলেন, ‘চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা থেকে শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করা হয়েছে, অথচ চট্টগ্রামের কোনো গুণী শিল্পীকে দাওয়াতও দেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের শিল্পীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ১৪ ঘন্টা চ্যানেল হলেও কোন কোন দিন একটি মাত্র অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে অন্য অনুষ্ঠান পূর্ণ প্রচার দিয়ে চালিয়ে দিত। কিন্তু প্রত্যেক দিন ১০ থেকে ১৫ টি অনুষ্ঠানের বিল জমা করে উত্তোলন করা হত।
কম্পিউটার প্রিন্টার সহ যাবতীয় ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বড় রকমের দুর্নীতি করেছে জিএম রন্জু।এই ক্ষেত্রে প্রতিবছর বরাদ্দ ছিল ৫৬ লক্ষ টাকা। এখানে কি পরিমান দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্ত করতে ইতিমধ্যে ইনভেন্টরি কমিটির গঠন করা হয়। হাসান মাহমুদের পিএস ক্যান্টিন বরাদ্দ দেওয়ার পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন সাবেক জি এম রঞ্জু। তিনি আইন বহির্ভূতভাবে এই চুক্তিটি করেন। এছাড়াও জিএম রঞ্জু ক্যান্টিনের সামনে আরেকটি কাবাব ঘর স্থাপন করে ভাড়া দিয়ে ভাড়া গুলো তিনি নিজেই নিতেন।

২০২৪ সালের ৭ই ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে হাসান মাহমুদের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন জিএম রঞ্জু। তার সময় প্রতি মাসে শিল্পীদের সম্মানী হিসেবে এক কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ করা হতো। বর্তমানে শিল্পী সম্মানী খরচ হয় আশি লক্ষ টাকা। গত দুই অর্থবছরে শিল্পী সম্মানীর আটাশ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এইসব লুটের ভাগ যেত হাসান মাহমুদ ও তার পিএস রাশেদ ও ইনুর কাছে। আর কিছু যেত আওয়ামী লীগের লিপ্টন,সংকর সহ নেতাদের কাছে। এক পথ থেকে আরেক পথ ভাগিয়ে পরপর তিনটি অবৈধ প্রমোশন নিয়েছেন জিএম রঞ্জু। তিনি এইচটি ইমাম ও হাসান মাহমুদকে ব্যবহার করতেন সবসময়। বিটিভি ১৪ জন কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলেও গঠিত কমিটির এখনো কোন রিপোর্ট জমা দেয়নি। জানা গেছে সাবেক এ জিএম মন্ত্রণালয়ে সবাইকে মেনেজ করে এই রিপোর্ট দিতে দেরি করাচ্ছেন।

এছাড়া ও রঞ্জু ঢাকা কেন্দ্রে অবস্থান করার সুবাদে আওয়ামী সমর্থিত সংস্কৃতি কর্মী ও শিল্পীদের তিনি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের এখন একটি পরিকল্পনা বিটিভি চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রে স্থিতিশীল।অন্যদিকে আওয়ামী দোষর হিসেবে পরিচিত বাদ পড়া শিল্পিদের দিয়ে মামলা করার পরিকল্পনা করছে বলে জানাগেছে। এছাড়াও হাছান মাহমুদের রিপোর্টার তুলনা অর্পণ, সাখাওয়াত মিন্টু, আপরোজা চৌধুরী, বাবু মাতর্বরকে টাকা দিয়ে হাইকোর্টে রিট করার জন্য পরিকল্পনা করেছে বলে জানাগেছে।

১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। গত ১৬ বছরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য ও মাহফুজা আক্তার, মনোজ সেন গুপ্ত, জাঁ নেসার ওসমানের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। মাহফুজার বিরুদ্ধে ২১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ডিএস//