আশুলিয়ায় জীবিত স্বামী আল-আমীনকে মৃত দেখিয়ে শেখ হাসিনা সহ ১৩০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন কুলসুম নামের এক নারী। বিষয়টি কিছুদিন পর বিভিন্ন মিডিয়া সংবাদ প্রকাশের পর আশুলিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য মামলার বাদীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের আলেকজাহান এসএম পাড়ার মোস্তাক আহমেদের বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে স্বামী আল-আমীনকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা মামলার কথা স্বীকার করেছেন কুলসুম।
আটক অন্যরা হলো- মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার টেপড়া গ্রামের মেছের আলীর ছেলে শফিকুর রহমান ও একই জেলার ঘিওর থানার ফুলহারা গ্রামের মৃত মাসুম আলীর ছেলে রুহুল আমীন।
মামলার বাদী কুলসুম বেগম বলেন, শফিকুর রহমান আমার পূর্ব পরিচিত। তিনি চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার নিকট থেকে জন্ম নিবন্ধন চেয়ে নেয়। পরে একদিন রুহুল আমীনকে সাথে নিয়ে শফিকুর রহমান সাভারের সেনা শপিং কমপ্লেক্সে আমাকে ডেকে নেয়। পরে তারা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে মামলা প্রস্তুত করেছে বলে আমাকে জানায়। আমি রাজি না হলে তারা আমাকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। পরে তারা আমাকে আদালতে নিয়ে উকিলের সামনে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। রুহুল আমীন ও শফিকুর রহমান আমাকে বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে যা বলেছে তাই করতে বাধ্য করেছে।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ তারা আমাকে কক্সবাজারের একটি গ্রামে বাসা ভাড়া করে দিয়ে থাকতে বলে। আমি সেখানেই থাকি, গত ১৯ নভেম্বর কক্সবাজার শফিক আসে। ২১ নভেম্বর পুলিশ রুহুল আমীনসহ কক্সবাজার এসে শফিককে আটক করে।
স্বামী জীবিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে কুলসুম বলেন, জীবিত আল-আমীনই আমার স্বামী। তিনি বেঁচে আছেন। আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে মিথ্যা মামলার বাদী বানিয়েছেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান বলেন, কুলসুমের সাথে আমার গাড়িতে পরিচয় হয়। এরপরে একটি ছেলেকে বিয়ে করবে বলে আমাকে কক্সবাজারে ডেকে নেয়। পুলিশ সেখান থেকে আমাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এর বেশি আমি কিছু জানি না।
এব্যাপারে রুহুল আমীন বলেন, কুলসুম আমার নিকট মামলার করার জন্য সহযোগিতা চান। আমি কোনো সহযোগিতা করতে পারবো না বলে তাকে জানিয়ে দেই। পরে সে মিথ্যা মামলায় দায়ের করে। পুলিশের নিকট আটক হয়ে আমার নামে মিথ্যা বলছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় বাদীসহ তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস





















