০৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঠান্ডায় জুবুথুবু লালমনিরহাট!লেপ তোশক কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন

লালমনিরহাটে কয়েক দিনের শৈত্য প্রবাহ ও কনকনে ঠান্ডার কারনে বাড়ছে লেপ, তোশক, জাজিমসহ কম্বলের কদর। ফলে এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ কারীগররা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী হরেক রকমের তুলা দিয়ে ছোট বড় লেপ তোশক জাজিম তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে কারীগরদের ব্যস্ততার সঙ্গে ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে। দোকানীরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন, অর্ডার নিচ্ছেন। কারীগররা তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজের লেপ তোশক ও জাজিম। জেলার শহরের লেপ তোশক তৈরির প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মযজ্ঞ চলছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। বাজারে সব রকম পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ তোশক তৈরির উপকরণের খরচও অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে লেপ তোশকের কারীগর শরিফুল ইসলাম (২২) বলেন, ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপ ও বাড়ছে। এখন রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেও মালিকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। সকল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি। আরও এক কারীগর মাসুদ (৩৫) বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আগে ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেপ-তোশক তৈরির কাজ চলে আমাদের। একটি লেপ তৈরি করলে আকারভেদে ২ শত টাকা থেকে ২ শত ৫০ টাকা এবং তোশক তৈরি করতে পারলে প্রতিজন ১শত ৫০ থেকে ৩ শত টাকা মজুরি পাই।

ক্রেতা আকবর মিয়া (৫৪) বলেন, লেপের জন্য দোকানে গিয়ে অর্ডার দিচ্ছি ২টি লেপের। এতে মোট খরচ পড়েছে ৪ হাজার ৪ শত টাকা। রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ে। কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ হয় না। এ কারণে অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।

প্রবীণ কারীগর আমজাদ হোসেন (৬০) বলেন, বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের বসে থাকতে হয়। শীতের তিন মাস ব্যবসার সিজন, এ সময়ে ব্যস্ততা বেশি থাকে। এবারে আগে ভাগেই মৌসুম চলে এসেছে। লেপ তোশক তৈরির কাজের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা মতো ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। একেকজন কারীগর প্রতিদিন গড়ে ৪-৫টি করে লেপ বানাতে পারে। এতে ৫ শত থেকে ৬ শত টাকা আয় হয়। বর্তমানে এ আয় দিয়ে চলতেও হিমশিম খেতে হয়।

শহরের বিডিআর গেট তুলার দোকান ব্যবসায়ী বাদল সরকার বলেন, এবার প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড়ের দাম প্রকার ভেদে ৫০-৬০ টাকা, তোশকের প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৪৫-৫০ টাকা এবং প্রতি গজ জাজিম তৈরির কাপড়ের দাম রাখা হচ্ছে ১ শত ২০ থেকে ১ শত ৫০ টাকা করে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা ৫০ থেকে ১শত টাকা, ফোম তুলা ২শত টাকা, শিমুল তুলা ৩শত থেকে ৫শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি জুটের দাম রাখা হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা করে। এ বছরের প্রায় সব ধরনের তুলার কেজিতে ২০ থেকে ১ শত টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এবারে এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে প্রাশ ৯ শত থেকে ২ হাজার টাকা, তোশক বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে ১ হাজার ৭শত টাকা। এছাড়া জাজিম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫ শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বালিশ বিক্রি হচ্ছে ১শত থেকে ২শত টাকায়।

ডিএস//

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঠান্ডায় জুবুথুবু লালমনিরহাট!লেপ তোশক কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন

প্রকাশিত : ০৫:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪

লালমনিরহাটে কয়েক দিনের শৈত্য প্রবাহ ও কনকনে ঠান্ডার কারনে বাড়ছে লেপ, তোশক, জাজিমসহ কম্বলের কদর। ফলে এসব সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ কারীগররা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী হরেক রকমের তুলা দিয়ে ছোট বড় লেপ তোশক জাজিম তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে কারীগরদের ব্যস্ততার সঙ্গে ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে। দোকানীরা ক্রেতাদের বিভিন্ন মানের কাপড় ও তুলা দেখাচ্ছেন, অর্ডার নিচ্ছেন। কারীগররা তৈরি করছেন বিভিন্ন সাইজের লেপ তোশক ও জাজিম। জেলার শহরের লেপ তোশক তৈরির প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মযজ্ঞ চলছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। বাজারে সব রকম পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ তোশক তৈরির উপকরণের খরচও অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাটের বড়বাড়ী বাজারে লেপ তোশকের কারীগর শরিফুল ইসলাম (২২) বলেন, ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপ ও বাড়ছে। এখন রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেও মালিকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। সকল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি। আরও এক কারীগর মাসুদ (৩৫) বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের আগে ব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেপ-তোশক তৈরির কাজ চলে আমাদের। একটি লেপ তৈরি করলে আকারভেদে ২ শত টাকা থেকে ২ শত ৫০ টাকা এবং তোশক তৈরি করতে পারলে প্রতিজন ১শত ৫০ থেকে ৩ শত টাকা মজুরি পাই।

ক্রেতা আকবর মিয়া (৫৪) বলেন, লেপের জন্য দোকানে গিয়ে অর্ডার দিচ্ছি ২টি লেপের। এতে মোট খরচ পড়েছে ৪ হাজার ৪ শত টাকা। রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ে। কাঁথা দিয়ে শীত নিবারণ হয় না। এ কারণে অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।

প্রবীণ কারীগর আমজাদ হোসেন (৬০) বলেন, বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের বসে থাকতে হয়। শীতের তিন মাস ব্যবসার সিজন, এ সময়ে ব্যস্ততা বেশি থাকে। এবারে আগে ভাগেই মৌসুম চলে এসেছে। লেপ তোশক তৈরির কাজের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা মতো ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। একেকজন কারীগর প্রতিদিন গড়ে ৪-৫টি করে লেপ বানাতে পারে। এতে ৫ শত থেকে ৬ শত টাকা আয় হয়। বর্তমানে এ আয় দিয়ে চলতেও হিমশিম খেতে হয়।

শহরের বিডিআর গেট তুলার দোকান ব্যবসায়ী বাদল সরকার বলেন, এবার প্রতি গজ লেপ তৈরির কাপড়ের দাম প্রকার ভেদে ৫০-৬০ টাকা, তোশকের প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৪৫-৫০ টাকা এবং প্রতি গজ জাজিম তৈরির কাপড়ের দাম রাখা হচ্ছে ১ শত ২০ থেকে ১ শত ৫০ টাকা করে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা ৫০ থেকে ১শত টাকা, ফোম তুলা ২শত টাকা, শিমুল তুলা ৩শত থেকে ৫শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি জুটের দাম রাখা হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা করে। এ বছরের প্রায় সব ধরনের তুলার কেজিতে ২০ থেকে ১ শত টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এবারে এক পিস রেডিমেট লেপ বিক্রি হচ্ছে প্রাশ ৯ শত থেকে ২ হাজার টাকা, তোশক বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে ১ হাজার ৭শত টাকা। এছাড়া জাজিম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫ শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বালিশ বিক্রি হচ্ছে ১শত থেকে ২শত টাকায়।

ডিএস//