সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাঁড়াদহ ইউনিয়নের পুরাণ টেপরি গ্রামে শতাধিক পরিবারই হলো কৃষক।প্রায় দশ বছর ধরে কৃষকেরা বাণিজ্যিক ভাবে নিজস্ব জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে মৌসুমি টমেটো,শিম, বরবটি,করলা,ফুল কপি,বাঁধাকপি,লাউ, ঝিঙ্গা,বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করে লাভবান কৃষকেরা।টেপরি গ্রামে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজি চাষের পরিমান।
এক সময় এই গ্রামের লোকজন ধান চাষের উপর নির্ভর ছিল।ঝড় বৃষ্টি বন্যাসহ নানা প্রতিকুলতায় প্রতি বছর ধান চাষে লোকসান হওয়ায় ধান চাষ ছেড়ে দিয়ে সবাই সবজি চাষে মোনযোগী হন। শাক সবজি চাষে কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে এখন অনেকেই লাখপতি হয়েছেন। এ ছাড়াও অনেকেই নিজেদের অভাব অনটন ঘুছিয়েছেন।বর্তমানে এখানকার সবজি এই উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে।সবজি বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা।পুরাণ টেপরি গ্রামে সবজি চাষ করে না এমন পরিবার খুজে পাওয়া দুস্কার।পুরাণ টেপরি গ্রামটি সবজি গ্রাম নামে উপজেলার মধ্যে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে।
এক সময় ক্ষুদ্র পরিসরে করা হলেও এখন বছর জুরে চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন এখানকার কৃষকেরা।এখন শীতের সবজির মৌসুম হওয়ায় মাঠ জুরে শুধু সবজি আর সবজি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা সবজি পরিচর্যাসহ বাজার জাত করতে সবজ্বি তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।সবজি বিক্রির জন্য মশিপুর সরিষাকোল মাদ্রাসা বাজারে পাইকারি বিক্রির ধুম পরে।
সবজি চাষি মোঃ লিটন জানান, প্রায় ৬ বিঘা জমিতে শীত কালিন ফুলকপি, বাঁধাকপি,মুলা, লাল শাক, পালন শাক, পুইশাকসহ নানা জাতের সবজ্বি চাষ করেছেন।
তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে খরচ বাদে আশা করি তিন চার লাখ টাকা এর মত আয় হবে। ধান চাষ করে ৫০ থেকে ৮০ হাজারের বেশি পাওয়া যেত না তাই ধান ছেরে সবজি চাষ করছি।
সবজি চাষি ফরহাদ আলি জানান, ৫ বিঘা জমিতে ফুল কফি,মিষ্টি কুমড়ো,চাল কুমড়ো আবাদ করেছি।প্রতিটি ফুল কফি ২কেজি করে ওজন হয়েছে।এবার আবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে।প্রতি বিঘা জমিতে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পাবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ নাহিদুল ইসলাম বলেন,শাহজাদপুর উপজেলায় গত অর্থ বছরে ৮০০ হেক্টর জমিতে শাক সবজ্বির লক্ষ্যমাত্রা ছিল।গত বছর ৮০০ হেক্টর অর্জিত হয়েছে।এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ হেক্টর। তবে এ বছর প্রায় ১০০৫ হেক্টর জমিতে শাক সবজির আবাদ করতে সক্ষম হয়েছি।এর মধ্যে প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে।ফুল কপি প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে,বাঁধাকপি প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে।এছাড়াও লাউ, মুলা, লালশাক, এগুলো গত বছর ১০ হেক্টর, এ বছর ২৫ হেক্টর প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।আমাদের একান্ত প্রচেষ্টায় আমাদের মাঠকর্মীদের একান্ত প্রচেষ্টায় শাহজাদপুর উপজেলায় আমরা শাক সবজিতে আরও সমৃদ্ধ হওয়ার চেষ্টায় আছি।
ডিএস../























