সোমবার মাঝ রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল শহরে পরিবারের লোকজন নিয়ে ফিরছিলেন যুবক মাসুদ রানা। এ সময় কয়েক জন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের বহনকৃত ব্যাটারি অটোরিকশাটি গতিরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও একটি ল্যাপটব নিয়ে যাবে। এ ঘটনায় মাসুদ রানা মঙ্গলবার টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
মাসুদ রানা বলেন, ঈদকে ঘিরে আবার ডাকাতরা সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।শুধু মাসুদ রানা নয়, তার মতো হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ ঈদকে ঘিরে ডাকাত আতঙ্কে রয়েছেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গসহ আশ পাশের ২৩ জেলার ২২-২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে করে। এর আগে গত ২০ মে মহাসড়কে আল ইমরান পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট করে। ঘটে শ্লীলতাহানির ঘটনাও। এ ঘটনার পর থেকে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আরও আতঙ্ক বেড়ে যায়। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে গোলচত্বর পর্যন্ত এবং মির্জাপুরের পাকুল্যা থেকে টাঙ্গাইল শহরের রাবনা বাইপাস পর্যন্ত ডাকাতি হচ্ছে। ফলে দুটি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছুদিন পর পর মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এতে করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বগুড়াগামী চালক আজগর আলী বলেন, টেলিভিশন ও ফেসবুকে আমরা মাঝে মধ্যেই দেখতে পাই এই মহাসড়কে ডাকাতি হচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। এখন মানুষের নিরাপত্তা খুবই কম। রাতে ও দিনে সড়ক মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতি হচ্ছে। প্রশাসন যদি মহাসড়কে আরও জোরালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
যাত্রী হেলেনা বেগম বলেন, ঈদে যাতে আমরা নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌছাতে পারি সরকারের কাছে তাই আশা করছি।
বাস চালক ইকবাল হোসেন বলেন, খবরের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি ডাকাতরা যাত্রী বেশে বাসে উঠে। কে ডাকাত ও সাধারণ যাত্রী তা বোঝা যায় না। মহাসড়ক ফাঁকা পেলেই ডাকাতি শুরু করা হয়। সব মিলিয়ে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।
জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক বলেন, ডাকাতদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হলে ডাকাতি রোধ করা সম্ভব। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, ডাকাতি প্রতিরোধে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার আগে প্রতিটি বাসেই সবার ছবি তুলে রাখার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও ওই ভিডিও বা ছবিগুলো ডাকাত ধরার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় ফেরত আসার সময় বাসে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী কম থাকে। এসব কম যাত্রীবাহী গাড়িতে নারী যাত্রী রয়েছে কি না তা চেক করতে হবে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ডাকাতি প্রতিরোধে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগের তুলনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রাতে যেসব এলাকায় আলো কম রয়েছে সেসব স্থানে টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে মহাসড়কে পুলিশের টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। মহাসড়ক দিয়ে যাতে যাত্রীরা নিরাপত্তায় বাড়িতে যেতে পারে, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছি।
ডিএস../




















