০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌসুমী ফল লিচুর দাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাহিরে প্রতি ‘শ’ বিক্রি হচ্ছে ৫’শ-৬’শ টাকায়

Oplus_131072

মৌসুমি ফল লিচুর আগমন ঘটেছে সারা দেশে। গ্রীষ্মকালীন এই রসালো ফল শুধু স্বাদই ভরপুর নয়, পুষ্টিগুণও আছে যথেষ্ট পরিমাণ। গ্রীষ্মকালীন এই রসালো ফল খুব কম সময়ের জন্য আসে। বিক্রি হয় গণনা করে। তীব্র গরমে স্বস্তি এনে দেওয়া রসালো ফল লিচু এখন কুমিল্লার বাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি বছরের তুলনায় এবার লিচুর দাম যেমন বেশি, তেমনি অপরিপক্ক লিচু দিয়ে ঠকানো হচেছ ক্রেতাদের।

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, শাসন গাছা, রানির বাজার, চকবাজার, টমছম ব্রিজ, এবং পাশ্ববর্তী উপজেলার লাকসামের কয়েকটি বাজার ও সর্ববৃহৎ পাইকারী সবজির বাজার ‘নিমসার বাজার’ ঘুরে দেখা গেছে, এবার সিজনের শুরু থেকেই জেলার বাজারগুলোতে প্রচুর লিচু ফলন হয়েছে।

এদিকে, সিজনের শুরুতেই এ জেলায় লিচু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে, সিজনের মাঝামাঝি সময় এখন চললেও, লিচুর দাম কমার কোনো লক্ষণই দেখা মিলছে না। সাধারণ মানুষের জন্য রসালো ফল লিচু এখন স্বাদ থাকলে স্বাধ্যের বাইরে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক ও ব্যস্ততম এলাকা কান্দিরপাড়ে প্রতি শত লিচু বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সিজনের মাঝামাঝিতে এসেও লিচুর এমন দাম থাকায় ক্ষুদ্ধ ক্রেতারা।

প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তা অধিদপ্তরের তদারকি নিয়ে। অন্যদিকে, একই দিনে লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একই আকারের প্রতি শত লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আবার, নিমসার বাজারেও খুচরা মূল্য লিচু প্রতি শ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। একই জেলায় একেক বাজারে লিচুর একেক রকম দাম, এটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাইপাস মোড়ে কথা হয় স্কুল শিক্ষক জাকির হোসেনের সঙ্গে। লিচুর ব্যাগ হাতে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বলেন, কুমিল্লায় গিয়েছিলাম একটি কাজে। মেয়ে বায়না ধরেছে লিচু খাওয়ার জন্য। কুমিল্লা কান্দিরপাড় থেকে ১০০ লিচু কিনেছি ৫০০ টাকা দিয়ে। এইমাত্র লাকসাম পৌছালাম। কিন্তু এখানে এসে লিচুর দাম জানতে চাইলে বিক্রেতারা বললেন একদাম ৩০০ টাকা। একই সাইজের লিচু দুই জায়গায় দুই রকম দাম। জেলা শহরে তো দাম আরো কম হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে উল্টো। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে লিচু কিনতে এসে নাজনীন সুলতানা বলেন,মেয়ে বায়না করেন বাসায় যাওয়ার সময় লিচু নিয়ে যেতে কিন্তু চড়া দাম, যা নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। বাজারে প্রচুর লিচু উঠলেও তার বেশিরভাগই ছিলো অপরিপক্ক। এখন সিজনের মাঝামাঝি সময় এসে লিচুর পরিপক্কতা হলেও আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ নামের এক গণমাধ্যম কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১০০ লিচু কিনতেই আমাকে ৫০০ টাকা দিতে হলো। অথচ দুদিন আগে আমার বন্ধু নিমসার থেকে ৩৫০ টাকায় ১০০ লিচু এনেছে। শহরের বাজারের পরিস্থিতি কেউ দেখার নেই, দাম যা খুশি তাই চাইছে।”

বিক্রেতারা প্রাথমিকভাবে লিচু রাজশাহী ও দিনাজপুর, ইশ্বরদী থেকে আসার কারণে দাম বেশি বলে দাবি করলেও, অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বেশিরভাগ লিচুই কুমিল্লার আশেপাশের জেলা থেকেই আনা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লিচু বিক্রেতা জানান, “কিছু কিছু দোকানদার রাজশাহীর নাম করে দাম বাড়ায়। তবে আসলে ৬০-৭০ শতাংশ লিচুই আশেপাশের জেলার। নিমসার বাজার থেকে এনে শহরে বিক্রি করে। এদিকে, দাম বাড়ার পাশাপাশি লিচুর গুণগত মান নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে।

শহরের বেশিরভাগ বাজারেই দেখা যাচ্ছে, লিচুর আঁটির উপরের সারিতে বড় ও লালচে লিচু সাজিয়ে রাখা হলেও, নিচের সারিতে ছোট ও প্রায় কাঁচা লিচু রাখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খোসা ভালো দেখা গেলেও ভিতরে ফল রসালো না হয়ে শুকনো বা টক। এছাড়াও, এক আঁটিতে ১০০ লিচু থাকে এমন বলে ক্রেতাকে ব্যাগে ঢুকিয়ে দেওয়া হলেও, পরে বাড়িতে গিয়ে কখনোই ১০০ লিচু পান না বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ক্রেতা।

নগরীর কান্দিরপাড়ের এক ফলের দোকানে লিচু কিনে ঠকেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সৈকত। তিনি বলেন, “বোনের বাড়িতে লিচু কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। দেখে মনে হলো খুব ভালো, তাই ৫০০ টাকা দিয়ে ১০০ লিচু কিনেছিলাম। আমি গুণে নিতে চাইলাম, কিন্তু তারা আমাকে ৫টি লিচু আলাদা দিয়ে বললো গুণে দেখার দরকার নাই স্যার ১০০ টা ই আছে ‘ইনশাআল্লাহ’। পরে বাসায় গিয়ে গুণে দেখি লিচু ৮০ টা। ২০ টা লিচু কম মানে ১০০ টাকা গায়েব। ঠকেই গেলাম।”

লিচুর দাম নিয়ে স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা। সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে, তবে বিক্রেতারা এই অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ। কান্দিরপাড়ের বিক্রেতা মাহে আলমের দাবি, “আমরা রাজশাহী থেকে লিচু আনি। পরিবহন খরচ বেশী। তাই দামও বেশী। আমরা চেষ্টা করি মান ঠিক রাখতে। আবার অনেক সময় বাগান থেকেই এমন লিচু আসে, আমাদের কিছু করার থাকে না। আর গুণে লিচু বিক্রি করলে আমাদের সময় চলে যায়। আমরা চেষ্টা করি অতিরিক্ত কিছু লিচু দিয়ে ভোক্তাকে খুশী রাখতে। কিন্তু তাও লিচু ঝরে যাওয়ার কারণে কিছু কম হয়।”

এদিকে, লিচু বাজারে এমন অনিয়ন্ত্রিত দাম ও মানের অভাব প্রসঙ্গে কুমিল্লা ভোক্তা অধিকার
সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার মিয়া বলেন, “নিমসারের সাথে কুমিল্লা শহরের লিচুর দাম মিলালে হবে না। ওটা পাইকারী বাজার। লিচুর ক্যাটাগরী ভেদে দামের ভিন্নতা থাকতে পারে ভাউচার দেখে দামগুলো নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন একাধিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি , আমরা তারপরেও অভিযান পরিচালনা করবো।”

এদিকে, ভোক্তারা বলছেন, কেবল ভোক্তা অধিদপ্তরই নয়, বাজার ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। লিচুর দাম নির্ধারণে একটি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করা এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। অন্যদিকে, জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রেজা শাহবাজ হাদী বলেন, “লিচুর দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি খুব শীঘ্রই এনিয়ে আলোচনা করে নির্ধারণ করে দিবো।

ডিএস

 

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

মৌসুমী ফল লিচুর দাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাহিরে প্রতি ‘শ’ বিক্রি হচ্ছে ৫’শ-৬’শ টাকায়

প্রকাশিত : ০৬:০২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

মৌসুমি ফল লিচুর আগমন ঘটেছে সারা দেশে। গ্রীষ্মকালীন এই রসালো ফল শুধু স্বাদই ভরপুর নয়, পুষ্টিগুণও আছে যথেষ্ট পরিমাণ। গ্রীষ্মকালীন এই রসালো ফল খুব কম সময়ের জন্য আসে। বিক্রি হয় গণনা করে। তীব্র গরমে স্বস্তি এনে দেওয়া রসালো ফল লিচু এখন কুমিল্লার বাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি বছরের তুলনায় এবার লিচুর দাম যেমন বেশি, তেমনি অপরিপক্ক লিচু দিয়ে ঠকানো হচেছ ক্রেতাদের।

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, শাসন গাছা, রানির বাজার, চকবাজার, টমছম ব্রিজ, এবং পাশ্ববর্তী উপজেলার লাকসামের কয়েকটি বাজার ও সর্ববৃহৎ পাইকারী সবজির বাজার ‘নিমসার বাজার’ ঘুরে দেখা গেছে, এবার সিজনের শুরু থেকেই জেলার বাজারগুলোতে প্রচুর লিচু ফলন হয়েছে।

এদিকে, সিজনের শুরুতেই এ জেলায় লিচু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে, সিজনের মাঝামাঝি সময় এখন চললেও, লিচুর দাম কমার কোনো লক্ষণই দেখা মিলছে না। সাধারণ মানুষের জন্য রসালো ফল লিচু এখন স্বাদ থাকলে স্বাধ্যের বাইরে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক ও ব্যস্ততম এলাকা কান্দিরপাড়ে প্রতি শত লিচু বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সিজনের মাঝামাঝিতে এসেও লিচুর এমন দাম থাকায় ক্ষুদ্ধ ক্রেতারা।

প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তা অধিদপ্তরের তদারকি নিয়ে। অন্যদিকে, একই দিনে লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একই আকারের প্রতি শত লিচু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আবার, নিমসার বাজারেও খুচরা মূল্য লিচু প্রতি শ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। একই জেলায় একেক বাজারে লিচুর একেক রকম দাম, এটা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাইপাস মোড়ে কথা হয় স্কুল শিক্ষক জাকির হোসেনের সঙ্গে। লিচুর ব্যাগ হাতে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বলেন, কুমিল্লায় গিয়েছিলাম একটি কাজে। মেয়ে বায়না ধরেছে লিচু খাওয়ার জন্য। কুমিল্লা কান্দিরপাড় থেকে ১০০ লিচু কিনেছি ৫০০ টাকা দিয়ে। এইমাত্র লাকসাম পৌছালাম। কিন্তু এখানে এসে লিচুর দাম জানতে চাইলে বিক্রেতারা বললেন একদাম ৩০০ টাকা। একই সাইজের লিচু দুই জায়গায় দুই রকম দাম। জেলা শহরে তো দাম আরো কম হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে উল্টো। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে লিচু কিনতে এসে নাজনীন সুলতানা বলেন,মেয়ে বায়না করেন বাসায় যাওয়ার সময় লিচু নিয়ে যেতে কিন্তু চড়া দাম, যা নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। বাজারে প্রচুর লিচু উঠলেও তার বেশিরভাগই ছিলো অপরিপক্ক। এখন সিজনের মাঝামাঝি সময় এসে লিচুর পরিপক্কতা হলেও আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ নামের এক গণমাধ্যম কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১০০ লিচু কিনতেই আমাকে ৫০০ টাকা দিতে হলো। অথচ দুদিন আগে আমার বন্ধু নিমসার থেকে ৩৫০ টাকায় ১০০ লিচু এনেছে। শহরের বাজারের পরিস্থিতি কেউ দেখার নেই, দাম যা খুশি তাই চাইছে।”

বিক্রেতারা প্রাথমিকভাবে লিচু রাজশাহী ও দিনাজপুর, ইশ্বরদী থেকে আসার কারণে দাম বেশি বলে দাবি করলেও, অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বেশিরভাগ লিচুই কুমিল্লার আশেপাশের জেলা থেকেই আনা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লিচু বিক্রেতা জানান, “কিছু কিছু দোকানদার রাজশাহীর নাম করে দাম বাড়ায়। তবে আসলে ৬০-৭০ শতাংশ লিচুই আশেপাশের জেলার। নিমসার বাজার থেকে এনে শহরে বিক্রি করে। এদিকে, দাম বাড়ার পাশাপাশি লিচুর গুণগত মান নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে।

শহরের বেশিরভাগ বাজারেই দেখা যাচ্ছে, লিচুর আঁটির উপরের সারিতে বড় ও লালচে লিচু সাজিয়ে রাখা হলেও, নিচের সারিতে ছোট ও প্রায় কাঁচা লিচু রাখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খোসা ভালো দেখা গেলেও ভিতরে ফল রসালো না হয়ে শুকনো বা টক। এছাড়াও, এক আঁটিতে ১০০ লিচু থাকে এমন বলে ক্রেতাকে ব্যাগে ঢুকিয়ে দেওয়া হলেও, পরে বাড়িতে গিয়ে কখনোই ১০০ লিচু পান না বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ক্রেতা।

নগরীর কান্দিরপাড়ের এক ফলের দোকানে লিচু কিনে ঠকেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সৈকত। তিনি বলেন, “বোনের বাড়িতে লিচু কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। দেখে মনে হলো খুব ভালো, তাই ৫০০ টাকা দিয়ে ১০০ লিচু কিনেছিলাম। আমি গুণে নিতে চাইলাম, কিন্তু তারা আমাকে ৫টি লিচু আলাদা দিয়ে বললো গুণে দেখার দরকার নাই স্যার ১০০ টা ই আছে ‘ইনশাআল্লাহ’। পরে বাসায় গিয়ে গুণে দেখি লিচু ৮০ টা। ২০ টা লিচু কম মানে ১০০ টাকা গায়েব। ঠকেই গেলাম।”

লিচুর দাম নিয়ে স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা। সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে, তবে বিক্রেতারা এই অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ। কান্দিরপাড়ের বিক্রেতা মাহে আলমের দাবি, “আমরা রাজশাহী থেকে লিচু আনি। পরিবহন খরচ বেশী। তাই দামও বেশী। আমরা চেষ্টা করি মান ঠিক রাখতে। আবার অনেক সময় বাগান থেকেই এমন লিচু আসে, আমাদের কিছু করার থাকে না। আর গুণে লিচু বিক্রি করলে আমাদের সময় চলে যায়। আমরা চেষ্টা করি অতিরিক্ত কিছু লিচু দিয়ে ভোক্তাকে খুশী রাখতে। কিন্তু তাও লিচু ঝরে যাওয়ার কারণে কিছু কম হয়।”

এদিকে, লিচু বাজারে এমন অনিয়ন্ত্রিত দাম ও মানের অভাব প্রসঙ্গে কুমিল্লা ভোক্তা অধিকার
সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার মিয়া বলেন, “নিমসারের সাথে কুমিল্লা শহরের লিচুর দাম মিলালে হবে না। ওটা পাইকারী বাজার। লিচুর ক্যাটাগরী ভেদে দামের ভিন্নতা থাকতে পারে ভাউচার দেখে দামগুলো নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন একাধিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি , আমরা তারপরেও অভিযান পরিচালনা করবো।”

এদিকে, ভোক্তারা বলছেন, কেবল ভোক্তা অধিদপ্তরই নয়, বাজার ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। লিচুর দাম নির্ধারণে একটি সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করা এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। অন্যদিকে, জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রেজা শাহবাজ হাদী বলেন, “লিচুর দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি খুব শীঘ্রই এনিয়ে আলোচনা করে নির্ধারণ করে দিবো।

ডিএস