০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শক্তি’র হুংকারে কাঁপছে উপকূলের মানুষ

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ধেয়ে আসার খবরে ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ উপকূলের সাগর পাড়ের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় জনবসতিপূর্ণ এসব দ্বীপের অর্ধ লাখ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

নদী ও সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় বুধবার বিকেল থেকে এসব দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখন্ডের সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে দ্বীপগুলোতে আটকে পড়া মানুষের নিরাপদে মূল ভূখন্ডে সরে আসার সুযোগও নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া, জেলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীতে জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভোর রাত থেকে চরফ্যাশন উপজেলাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কখনো মুষলধারে আবার কখনো থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।

এদিকে, ‘শক্তি’র সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্রীম প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাসনা শারমিন মিথি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় দূর্যোগকালে আশ্রয় গ্রহণের জন্য উপজেলার ২৬৫টি স্কুল কাম আশ্রয়কেন্দ্র খুলে রাখতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আপদকালীন খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার মজুদ এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়াও, উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১৬৫টি ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তত রাখা হয়েছে।

জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বুধবার বিকেল থেকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকরা প্রচার শুরু করেছেন।

এদিকে, বুধবার রাতে প্রথম জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৩ ফুট উচ্চতার জোয়ারে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঢালচর, কুকরীসহ চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন ও দ্বীপগুলো অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। রাতে জোয়ারের পানির উচ্চতা আরও বাড়বে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো নিয়ে জেলেরা ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন।

ঢালচর ঘাটের জেলে জয়নাল আবেদীন জানান, সাগরে থাকা কাছের সব জেলেরা ঘাটে ফিরেছে। তবে দূর সাগরে অবস্থান করা জেলেরা এখনো ঘাটে ফেরেননি। তারা আদৌ নিজ নিজ ঘাটে ফিরবেন কি না এ নিয়ে সংশয় আছে।

এদিকে, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় দক্ষিণ উপকূলের দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর এবং কুকরী মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। বুধবার থেকে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপ থেকে কারো সরে যাওয়ার উপায় নেই। বুধবার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ফুট উচ্চতার জোয়ারে ঢালচর প্লাবিত হয়েছে।

এই দ্বীপ ইউনিয়নের ১৫ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। যাতে সর্বোচ্চ ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ধেয়ে আসার খবরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অপর ইউনিয়ন কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের ১৭ হাজার মানুষের জন্য মাত্র আটটি স্কুল কাম আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। যেগুলোতে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। দিনের জোয়ারে দ্বীপের উপরি ভাগ স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় রাত এগিয়ে আসার সাথে বাড়ছে আতংক।

তেতুলিয়া পাড়ের মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮ হাজার মানুষের জন্য আছে পাঁচটি স্কুল কাম আশ্রয় কেন্দ্র। মুজিব নগর ইউনিয়নের লোকজন, ঘুর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ধেয়ে আসার খবরে দ্বীপের মানুষ সরে যেতে শুরু করেছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

শক্তি’র হুংকারে কাঁপছে উপকূলের মানুষ

প্রকাশিত : ০৬:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ধেয়ে আসার খবরে ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ উপকূলের সাগর পাড়ের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় জনবসতিপূর্ণ এসব দ্বীপের অর্ধ লাখ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।

নদী ও সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় বুধবার বিকেল থেকে এসব দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখন্ডের সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে দ্বীপগুলোতে আটকে পড়া মানুষের নিরাপদে মূল ভূখন্ডে সরে আসার সুযোগও নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া, জেলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীতে জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভোর রাত থেকে চরফ্যাশন উপজেলাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কখনো মুষলধারে আবার কখনো থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।

এদিকে, ‘শক্তি’র সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্রীম প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাসনা শারমিন মিথি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় দূর্যোগকালে আশ্রয় গ্রহণের জন্য উপজেলার ২৬৫টি স্কুল কাম আশ্রয়কেন্দ্র খুলে রাখতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আপদকালীন খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার মজুদ এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়াও, উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১৬৫টি ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তত রাখা হয়েছে।

জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বুধবার বিকেল থেকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকরা প্রচার শুরু করেছেন।

এদিকে, বুধবার রাতে প্রথম জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৩ ফুট উচ্চতার জোয়ারে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঢালচর, কুকরীসহ চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন ও দ্বীপগুলো অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। রাতে জোয়ারের পানির উচ্চতা আরও বাড়বে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো নিয়ে জেলেরা ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন।

ঢালচর ঘাটের জেলে জয়নাল আবেদীন জানান, সাগরে থাকা কাছের সব জেলেরা ঘাটে ফিরেছে। তবে দূর সাগরে অবস্থান করা জেলেরা এখনো ঘাটে ফেরেননি। তারা আদৌ নিজ নিজ ঘাটে ফিরবেন কি না এ নিয়ে সংশয় আছে।

এদিকে, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় দক্ষিণ উপকূলের দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর এবং কুকরী মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। বুধবার থেকে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপ থেকে কারো সরে যাওয়ার উপায় নেই। বুধবার রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ফুট উচ্চতার জোয়ারে ঢালচর প্লাবিত হয়েছে।

এই দ্বীপ ইউনিয়নের ১৫ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। যাতে সর্বোচ্চ ৫০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ধেয়ে আসার খবরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অপর ইউনিয়ন কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের ১৭ হাজার মানুষের জন্য মাত্র আটটি স্কুল কাম আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। যেগুলোতে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। দিনের জোয়ারে দ্বীপের উপরি ভাগ স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় রাত এগিয়ে আসার সাথে বাড়ছে আতংক।

তেতুলিয়া পাড়ের মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮ হাজার মানুষের জন্য আছে পাঁচটি স্কুল কাম আশ্রয় কেন্দ্র। মুজিব নগর ইউনিয়নের লোকজন, ঘুর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ধেয়ে আসার খবরে দ্বীপের মানুষ সরে যেতে শুরু করেছে।

ডিএস./