বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নাভিমার-৩ কার্গো ও মারমেইড-৩ লাইটার নামে দুটি জাহাজ তীরে এসে আটকে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা সমুদ্র সৈকতের উঠান মাঝির ঘাট এলাকায় দিবাগত রাতের জাহাজ দুটি কূলে এসে আটকে যায়।এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে জাহাজগুলো দেখতে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর মহেশখালী থেকে আসার পথে প্রবল বাতাস ও সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে জাহাজ দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীরে উঠে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘জাহাজটি ৫০-৬০ ফুট বালির নিচে ঢুকে গেছে। যদি স্রোতে বেড়িবাঁধের দিকে সরে আসে তাহলে মসজিদসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’
জাহাজে দায়িত্বে থাকা ওয়াচম্যান মিসকাতুর রহমান বলেন, ‘বাঁশখালীর গণ্ডামারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা খালাস শেষে ফেরার পথে ঝড়ে কবলে পড়ি। পরে উপকূলের চরে আটকা পড়ি।’
জাহাজ দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মালিকানাধীন এক কোম্পানির বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার পরপরই কোস্ট গার্ড সাঙ্গু স্টেশন ও বারআউলিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কায়সার হামিদ বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি।’
কোস্ট গার্ডের সাঙ্গু স্টেশনের ইনচার্জ এম আবুল কালাম বলেন, ‘রাতেই রায়পুর উপকূলে পৌঁছে আমরা দায়িত্ব পালন শুরু করি।’
অন্যদিকে একই রাতেই সাগরের জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা উপকূলে আটকে পড়েছে এমভি আল-হেরেম ও বিএলপিজি সুফিয়া নামে আরও দুটি জাহাজ।
স্থানীয়রা জানান, জাহাজগুলোতে থাকা কর্মীরা নিরাপদে উপকূলে নেমে আসেন। কোনো ধরনের প্রাণহানি বা মালামাল ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার (৩০ মে) সকালে এসব জাহাজ দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে, ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ।
ডিএস./




















