০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মধ্যে সেবায় শীর্ষস্থানে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস

চট্টগ্রাম জেলায় ভূমি সেবায় শীর্ষস্থানে রয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা ভূমি অফিস। নজিরবিহীন গ্রাহক সেবার মধ্য দিয়ে গত তিন মাস আগে জেলার অন্য ২০টি অফিসকে পেছনে ফেলে এ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয় ভূমি অফিসটি। এরপর অদ্যবদি পর্যন্ত সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস শীর্ষ এ অবস্থানটি ধরে রেখেছে। শনিবার (৩১ মে) দৈনিক সাঙ্গুকে এই তথ্য জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে ২৮ দিনের মধ্যে নামজারী সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে মাত্র দশ দিনে ৬৮ শতাংশ নামজারী সম্পন্ন করে থাকে। অথচ সমপরিমাণ নামজারী নিষ্পত্তিতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সন্দ্বীপে সময় লাগে ৩৮ দিন অর্থাৎ পাঁচ গুণ বেশী সময়। এমনকি সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে গড়ে প্রতিদিন ৩২ টি নামজারী সম্পন্ন হয়। সে হিসেবে গত ত্রিশ দিনে এক হাজার ৬৪ টি নামজারী নিস্পত্তি হয়েছে।

চারদিনে নামজারী খতিয়ান হাতে পেয়েছেন এমন সেবা গ্রহীতার সংখ্যাও এখানে কম নয়। উত্তর সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিম তাদেরই একজন। তিনি জানান, ঘরে বসে অনলাইনে নামজারী আবেদনের চারদিন পর মোবাইলে নামজারী সম্পন্নের বার্তা পেয়েছি এবং এটি কোন ধরনের তদবির ছাড়াই। একই কথা বলেছেন সেবা গ্রহীতা হাসিনা বেগম ও বৃদ্ধ আবুল কালাম।

তবে একেবারেই ভিন্ন কথা জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড পৌরসদরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা এস এম নুরুল গণি। তিনি বলেন, জাতীয় ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে গত সোমবার সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে এসে অনলাইন ডেস্কে নামজারী আবেদন করি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই মঙ্গলবার বিকেলে ভূমি অফিস থেকে আমাকে ফোনে জানানো হয় আমার নামজারী সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু বিকেলে যখন আসলাম এসিল্যান্ড সাহেব নিজেই আমাকে নামজারী খতিয়ানটি হাতে তুলে দেন।

এছাড়া মিছ মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টিও ওঠে আসে অনুসন্ধানে। দেখা যায়, সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে গত চার মাসে প্রায় ৪শ জটিল মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যেগুলো গত ৪/৫ বছর ধরে বিবাদমান ছিল। এ বিষয়ে ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, আমার দায়েরকৃত ২০২০ সালের একটি মিছ মামলা সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, গত ৭ মাস ধরে মামলাটির নিয়মিত শুনানি হয়েছে। অথচ এর আগে দীর্ঘ ২/৩ মাস পর শুনানির তারিখ পড়তো। আবার তারিখ অনুযায়ী শুনানিও হতো না।

এদিকে দ্রুততম সময়ে নামজারী আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নয় মাস আগে আমি সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে যোগদান করি তখন প্রায় হাজার খানেক নামজারী আবেদন জমা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশের বেশী আবেদন ছিল ২৮ দিন আগের। অথচ এখন ২৮ দিনের মধ্যে ৯৯ শতাংশ নামজারীই নিস্পত্তি হয়। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য আমি কানুনগো, সকল তহসিলদার ও সার্ভেয়ারকে প্রতিটি নামজারীর জন্য সময় বেঁধে দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে তারা সেবা গ্রহীতাদের আবেদন হয় মঞ্জুর করবেন নতুবা খারিজ করবেন। এ সময় বেঁধে দেয়ায় সুফল পাচ্ছে সেবা গ্রহীতারা।

তিনি আরো বলেন, আমি সীতাকুণ্ডের ভূমি মালিকদের উদ্দেশ্যে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই, আপনাদের কাঙ্খিত সেবা দেয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। কোথাও সেবা পেতে বিলম্ব হলে সরাসরি আমাকে জানান। আমি আপনাদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করব।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

চট্টগ্রামের মধ্যে সেবায় শীর্ষস্থানে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস

প্রকাশিত : ০৫:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

চট্টগ্রাম জেলায় ভূমি সেবায় শীর্ষস্থানে রয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা ভূমি অফিস। নজিরবিহীন গ্রাহক সেবার মধ্য দিয়ে গত তিন মাস আগে জেলার অন্য ২০টি অফিসকে পেছনে ফেলে এ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয় ভূমি অফিসটি। এরপর অদ্যবদি পর্যন্ত সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস শীর্ষ এ অবস্থানটি ধরে রেখেছে। শনিবার (৩১ মে) দৈনিক সাঙ্গুকে এই তথ্য জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে ২৮ দিনের মধ্যে নামজারী সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে মাত্র দশ দিনে ৬৮ শতাংশ নামজারী সম্পন্ন করে থাকে। অথচ সমপরিমাণ নামজারী নিষ্পত্তিতে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সন্দ্বীপে সময় লাগে ৩৮ দিন অর্থাৎ পাঁচ গুণ বেশী সময়। এমনকি সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে গড়ে প্রতিদিন ৩২ টি নামজারী সম্পন্ন হয়। সে হিসেবে গত ত্রিশ দিনে এক হাজার ৬৪ টি নামজারী নিস্পত্তি হয়েছে।

চারদিনে নামজারী খতিয়ান হাতে পেয়েছেন এমন সেবা গ্রহীতার সংখ্যাও এখানে কম নয়। উত্তর সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিম তাদেরই একজন। তিনি জানান, ঘরে বসে অনলাইনে নামজারী আবেদনের চারদিন পর মোবাইলে নামজারী সম্পন্নের বার্তা পেয়েছি এবং এটি কোন ধরনের তদবির ছাড়াই। একই কথা বলেছেন সেবা গ্রহীতা হাসিনা বেগম ও বৃদ্ধ আবুল কালাম।

তবে একেবারেই ভিন্ন কথা জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড পৌরসদরের আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা এস এম নুরুল গণি। তিনি বলেন, জাতীয় ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে গত সোমবার সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে এসে অনলাইন ডেস্কে নামজারী আবেদন করি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই মঙ্গলবার বিকেলে ভূমি অফিস থেকে আমাকে ফোনে জানানো হয় আমার নামজারী সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি। কিন্তু বিকেলে যখন আসলাম এসিল্যান্ড সাহেব নিজেই আমাকে নামজারী খতিয়ানটি হাতে তুলে দেন।

এছাড়া মিছ মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টিও ওঠে আসে অনুসন্ধানে। দেখা যায়, সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে গত চার মাসে প্রায় ৪শ জটিল মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যেগুলো গত ৪/৫ বছর ধরে বিবাদমান ছিল। এ বিষয়ে ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, আমার দায়েরকৃত ২০২০ সালের একটি মিছ মামলা সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, গত ৭ মাস ধরে মামলাটির নিয়মিত শুনানি হয়েছে। অথচ এর আগে দীর্ঘ ২/৩ মাস পর শুনানির তারিখ পড়তো। আবার তারিখ অনুযায়ী শুনানিও হতো না।

এদিকে দ্রুততম সময়ে নামজারী আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নয় মাস আগে আমি সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে যোগদান করি তখন প্রায় হাজার খানেক নামজারী আবেদন জমা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশের বেশী আবেদন ছিল ২৮ দিন আগের। অথচ এখন ২৮ দিনের মধ্যে ৯৯ শতাংশ নামজারীই নিস্পত্তি হয়। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য আমি কানুনগো, সকল তহসিলদার ও সার্ভেয়ারকে প্রতিটি নামজারীর জন্য সময় বেঁধে দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে তারা সেবা গ্রহীতাদের আবেদন হয় মঞ্জুর করবেন নতুবা খারিজ করবেন। এ সময় বেঁধে দেয়ায় সুফল পাচ্ছে সেবা গ্রহীতারা।

তিনি আরো বলেন, আমি সীতাকুণ্ডের ভূমি মালিকদের উদ্দেশ্যে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই, আপনাদের কাঙ্খিত সেবা দেয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। কোথাও সেবা পেতে বিলম্ব হলে সরাসরি আমাকে জানান। আমি আপনাদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করব।

ডিএস./