১১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের গরু-ছাগলে জমজমাট সবচেয়ে বড় পশুর হাট আমরাইদ বাজার

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল থেকে উপজেলার আমরাইদ বাজারে পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু, মহিষ আসতে শুরু করে। দুপুরে হাট কোরবানির পশুতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাটে বড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের প্রচুর গরু উঠলেও দাম চড়া থাকায় অনেক ক্রেতা গরু না কিনেই বাড়ি ফিরেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকার ও দালাল থাকায় স্থানীয় ক্রেতারা পছন্দমতো গরু কিনতে পারেননি।

জানা গেছে, কাপাসিয়া আমরাইদ এলাকায় অবস্থিত পশুর ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এর মধ্যে বৃহত্তম হাট হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহে মঙ্গরবার ও শুক্রবার হাট বসলেও শুধু মঙ্গলবার গবাদি পশু কেনাবেচা হয়ে থাকে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুই হাটবারেই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া কেনাবেচা চলছে।

হাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর কোরবানির পশু হাটে উঠেছে। মোটামুটি কেনাবেচা হয়েছে বলে, ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে হাটে দেশীয় মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি ছিল। তাই এ জাতের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। হাটে সবচেয়ে বড় গরুর দাম হাঁকা হয়েছিল ৫ লাখ টাকা।

কথা হয় শ্রীপুর থেকে হাটে গরু নিয়ে আসা মালেম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি বড় ষাঁড়ের দাম হেঁকেছেন সাড়ে চার লাখ টাকা। ক্রেতারা তিন লাখ ১০ হাজার টাকা বলেছেন।

গফরগাঁও দত্তের বাজারের ইব্রাহিম হোসেন ও ইউনুছ আলী জানান, তারা কোরবানির জন্য দেশি জাতের মাঝারি গরু কিনতে এসেছেন। কিন্তু বড় গরুর তুলনায় এ ধরনের গরুর দাম বেশি। তাই তাদের মতো অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন। আগামী দিন অন্য কোনও হাটে যাবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বাজারে গেয়ে দেখা গেছে, হাজারো গরু মহিষ ষাঁড় বলদ নিয়ে সারি সারি ভাবে দাড়িয়ে আছে বিক্রেতারা যদিও হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা দেখা গেছে মাঠে।

রোদে পোড়ে বিক্রেতাদের ভীড় থাকলে ক্রেতাদের গরু কেনার আগ্রহ দেখা যায়নি। এতে দূর থেকে আসা বিক্রেতাদের মাঝে কিছুটা হতাশার কথা বলতে শোনা গেছে।
সপ্তাহে একদিন এই বাজারের তার মাঝে আজকে একটা।ঈদের আগে আরো একটি বাজার পাবে বলে জানিয়েছেন বাজার ইজারাদার তৌকির সিকদার।

রাজশাহী এলাকার মহিষ বেপারি হারুণ মিয়া বলেন, দুই দিন হলো বাজারে এসেছি। আমার ৬০ টি মহিষ আছে। ভেবেছিলাম আবারো মহিষ আনবো। কিন্তু এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। তবে আজকে বিকাল থেকে বিক্রি শুরু হতে পারে। আরো দুইটি বাজার আছে। তবে আমাদেরকে মহিষ বিক্রি করতেই হবে। কারণ প্রতিদিনই অনেক খরচ।

ভুয়াপুর থেকে এসেছেন মনসুর আলী। তিনি বলেন, আমার ২০০ ষাঁড় ও বলদ গরু আছে। এসব বিক্রি করতে হবে। আমরা গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসব গরু কিনে নিয়ে আসছি। আমরা জানি গাজীপুরের আমরাইদ বাজার বড় একটি বাজার।

ইজারাদার তৌকির সিকদার জানান, আমরা পাঁচজনে এই পশুর হাটেের ৫ কোটি পরিশোধ করেছি। ইতিমধ্যে বাজারের দূর থেকে আগত ব্যবসায়ীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজারে ১৩ টি কাউন্টারের মাধ্যমে খাজনা উঠানো হবে। মহিষ খাজনা ক্রেতা ১২০০ টাকা, বিক্রেতা ৩০০ টাকা। ষাঁড়ের খাজনা ক্রেতা ৮০০ টাকা, বিক্রেতা ২০০, ছাগলের খাজনা ক্রেতা ৩০০ টাকা, বিক্রেতা ১০০ টাকা।

দুই ঘন্টা গরুর হাটে ঘুরে দেখা যায়, হাটে ক্রেতা নেই, কিন্তু দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সবাই ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন, কিন্তু তেমন কেউ কিনেছেন না। দরদাম করছেন, কিন্তু তেমন কেউ কিনছেন না। কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি।

অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার লিপি রানী বসাক জানান, জেলায় সকল বাজারে তিনজন করে মনিটরিং টিম থাকবে।

কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে ২৬৫৯৮ টি পশু। তবে চাহিদা রয়েছে ২৭৫২০টি। তিনি বলেন, কাপাসিয়ায়র ১০২২ টি গবাদি পশুর।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

গাজীপুরের গরু-ছাগলে জমজমাট সবচেয়ে বড় পশুর হাট আমরাইদ বাজার

প্রকাশিত : ০৪:২৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল থেকে উপজেলার আমরাইদ বাজারে পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু, মহিষ আসতে শুরু করে। দুপুরে হাট কোরবানির পশুতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাটে বড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের প্রচুর গরু উঠলেও দাম চড়া থাকায় অনেক ক্রেতা গরু না কিনেই বাড়ি ফিরেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকার ও দালাল থাকায় স্থানীয় ক্রেতারা পছন্দমতো গরু কিনতে পারেননি।

জানা গেছে, কাপাসিয়া আমরাইদ এলাকায় অবস্থিত পশুর ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এর মধ্যে বৃহত্তম হাট হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহে মঙ্গরবার ও শুক্রবার হাট বসলেও শুধু মঙ্গলবার গবাদি পশু কেনাবেচা হয়ে থাকে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দুই হাটবারেই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া কেনাবেচা চলছে।

হাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর কোরবানির পশু হাটে উঠেছে। মোটামুটি কেনাবেচা হয়েছে বলে, ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে হাটে দেশীয় মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি ছিল। তাই এ জাতের গরুর দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। হাটে সবচেয়ে বড় গরুর দাম হাঁকা হয়েছিল ৫ লাখ টাকা।

কথা হয় শ্রীপুর থেকে হাটে গরু নিয়ে আসা মালেম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি বড় ষাঁড়ের দাম হেঁকেছেন সাড়ে চার লাখ টাকা। ক্রেতারা তিন লাখ ১০ হাজার টাকা বলেছেন।

গফরগাঁও দত্তের বাজারের ইব্রাহিম হোসেন ও ইউনুছ আলী জানান, তারা কোরবানির জন্য দেশি জাতের মাঝারি গরু কিনতে এসেছেন। কিন্তু বড় গরুর তুলনায় এ ধরনের গরুর দাম বেশি। তাই তাদের মতো অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন। আগামী দিন অন্য কোনও হাটে যাবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বাজারে গেয়ে দেখা গেছে, হাজারো গরু মহিষ ষাঁড় বলদ নিয়ে সারি সারি ভাবে দাড়িয়ে আছে বিক্রেতারা যদিও হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা দেখা গেছে মাঠে।

রোদে পোড়ে বিক্রেতাদের ভীড় থাকলে ক্রেতাদের গরু কেনার আগ্রহ দেখা যায়নি। এতে দূর থেকে আসা বিক্রেতাদের মাঝে কিছুটা হতাশার কথা বলতে শোনা গেছে।
সপ্তাহে একদিন এই বাজারের তার মাঝে আজকে একটা।ঈদের আগে আরো একটি বাজার পাবে বলে জানিয়েছেন বাজার ইজারাদার তৌকির সিকদার।

রাজশাহী এলাকার মহিষ বেপারি হারুণ মিয়া বলেন, দুই দিন হলো বাজারে এসেছি। আমার ৬০ টি মহিষ আছে। ভেবেছিলাম আবারো মহিষ আনবো। কিন্তু এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। তবে আজকে বিকাল থেকে বিক্রি শুরু হতে পারে। আরো দুইটি বাজার আছে। তবে আমাদেরকে মহিষ বিক্রি করতেই হবে। কারণ প্রতিদিনই অনেক খরচ।

ভুয়াপুর থেকে এসেছেন মনসুর আলী। তিনি বলেন, আমার ২০০ ষাঁড় ও বলদ গরু আছে। এসব বিক্রি করতে হবে। আমরা গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসব গরু কিনে নিয়ে আসছি। আমরা জানি গাজীপুরের আমরাইদ বাজার বড় একটি বাজার।

ইজারাদার তৌকির সিকদার জানান, আমরা পাঁচজনে এই পশুর হাটেের ৫ কোটি পরিশোধ করেছি। ইতিমধ্যে বাজারের দূর থেকে আগত ব্যবসায়ীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজারে ১৩ টি কাউন্টারের মাধ্যমে খাজনা উঠানো হবে। মহিষ খাজনা ক্রেতা ১২০০ টাকা, বিক্রেতা ৩০০ টাকা। ষাঁড়ের খাজনা ক্রেতা ৮০০ টাকা, বিক্রেতা ২০০, ছাগলের খাজনা ক্রেতা ৩০০ টাকা, বিক্রেতা ১০০ টাকা।

দুই ঘন্টা গরুর হাটে ঘুরে দেখা যায়, হাটে ক্রেতা নেই, কিন্তু দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সবাই ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন, কিন্তু তেমন কেউ কিনেছেন না। দরদাম করছেন, কিন্তু তেমন কেউ কিনছেন না। কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি।

অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার লিপি রানী বসাক জানান, জেলায় সকল বাজারে তিনজন করে মনিটরিং টিম থাকবে।

কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে ২৬৫৯৮ টি পশু। তবে চাহিদা রয়েছে ২৭৫২০টি। তিনি বলেন, কাপাসিয়ায়র ১০২২ টি গবাদি পশুর।

ডিএস./