আসন্ন ঈদুল আজহা কে সামনে রেখে শেষ সময়ে বেড়েছে কামারপল্লীতে ব্যস্ততা, আর মাত্র দুইদিন বৃহস্পতিবার শুক্রবার পরেই দিন শনিবারেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা।
এই ঈদ উৎযাপনের অন্যতম উপকরণ দা,বটি, ছুরি, চাপাতিসহ পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুুতের নানা হাতিয়ার। তাই চলছে পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুুতের এইসব হাতিয়ার তৈরির কাজ।
পশু জবাই কাজে ব্যবহারের জন্য ভালো মানের দা, ছুরি তৈরির জন্য গাড়ির স্প্রিংয়ের ইস্পাত ব্যবহার করেন কামারপল্লির কারিগরেরা,প্রথম ধাপে লোহা নরম করার জন্য আগুনে পুড়িয়ে নেন,এরপর লোহা গরম হওয়ার পর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দা তৈরি করেন , তারপর তৈরি শেষে লোহা ঠান্ডা করার জন্য পানিতে ভেজানো হয়,এবং ছুরিতে শাণ দেন কারিগরেরা। দা তৈরি শেষে কাঠের হাতল লাগান এর পর বিক্রি করার জন্য সাজিয়ে রাখেন সারিবদ্ধভাবে। এভাবেই পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় ধারালো অস্ত্র-দা, ছুরি, চাপাতি, বটি-তৈরি ও শান দেওয়ার কাজ চলছে দিনরাত।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এমন চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কামার পল্লীতে। সেখানে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা,হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়া, সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বাজারগুলোতে কামাররা কর্মব্যস্ততায় দিন পার করছেন। উপজেলার কামার পল্লীতে সারাবছর খুব একটা হাতে কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেড়ে যায় তাদের কর্মব্যস্ততা। কয়লার আগুনে রক্তিম আভা ছড়ানো চাপাতি, বটি বা ছুরির ওপর পড়ছে হাতুড়ির আঘাত। আঘাতের পর আঘাতে রূপ দেওয়া হচ্ছে চাপাতি, ছুরি, বটিসহ নানা ধরনের ধারালো জিনিসপত্রের।
কামারপল্লীর রঞ্জিত কর্মকার জানান,শেষ সময়ে কাজের ব্যস্ততা একটু বেড়েছে তবে অন্যন্যা বছরের তুলনায় কাজ কম, এছাড়া গত বছরের তুলনায় এ বছর কয়লা এবং লোহার দাম বেড়েছে। তিনি জানান এখন বাজারে একটি বড় দা ওজন ও আকার ভেদে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি প্রকার ভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। আবার বিভিন্ন সাইজের ছোট ছোরা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বটি মান ভেদে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে দা-বটিতে ধার (শান) দেওয়ার জন্য যেভাবে পারছি সেভাবে চেয়ে নিচ্ছি ।
ডিএস,./




















