১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান: জরিমানা সত্ত্বেও সচল ‘ফাইভ স্টার ব্রিকস’

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পৌরসভার ‘ফাইভ স্টার ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযানের পরও সেটি সচল রয়েছে। প্রশাসন কর্তৃক জরিমানা করা সত্ত্বেও ভাটাটি বন্ধ করা যায়নি, যা কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ফাইভ স্টার ব্রিকস নামের এই ইটভাটাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।

একাধিকবার অভিযানের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও ভাটাটি বন্ধ করা যায়নি। কিছু ক্ষেত্রে, ইটভাটা বন্ধ করার জন্য ভাটার বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হলেও, কিছু সময়ের মধ্যেই আবার তা চালু করা হয়েছে। এটি পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমের দুর্বলতা তুলে ধরে।

এই ঘটনা থেকে আরও জানা যায় যে, কেবল জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়, বরং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা আর কোনোভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে না পারে।

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ এলাকায় পরিচালিত মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস, লাটিয়ার বাজার, গারুচোঁ, বুড়িচং নামক ইটভাটাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকসকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া হক।

পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস প্রসিকিউশন প্রদান করেন। এছাড়াও, এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অত্র কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মোঃ রায়হান মোর্শেদ এবং নমুনা সংগ্রহকারী মোবারক হোসেন। সার্বিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা করে বুড়িচং থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস, বুড়িচং উপজেলা।

জরিমানা সত্ত্বেও ইটভাটা সচল: জনমনে প্রশ্ন তবে, আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২৭ জানুয়ারি জরিমানা আদায় করা হলেও আজকের দিন (২ জুন ২০২৫) পর্যন্ত মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস ইটভাটাটি বন্ধ হয়নি এবং এটি এখনো অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ব্রিকস মালিক মো ফারুক মুঠোফোনে বলেন, আমাদের কোন অনিয়ম নেই, কয়েকদিন আগে শুধু শিশু শ্রমের দায়ে আর্থিক জরিমানা করা হয়, আমার ব্রিকফিলের সকল কাগজপত্র ঠিক আছে আপনি যার কাছে যাওয়ার যান এই বলে ফোন কেটে দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: রাজিব খন্দকার মুঠোফোনে জানান, আশেপাশে স্কুল কলেজ থাকায় পরিবেশ দূষণ এবং পরিবেশের কোন চারপত্র না থাকায় এবং অনিয়মের কারনে পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক জরিমানা করেন এবং পরবর্তী সময়ের মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র / অনুমোদন না নিলে ফাইভ স্টার ব্রিকস এর চিমনি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবং সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনা হবে।

কিন্তু ফাইভ স্টার ব্রিকসের মতো চিহ্নিত একটি অবৈধ ইটভাটা জরিমানা আদায়ের পরও কিভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান: জরিমানা সত্ত্বেও সচল ‘ফাইভ স্টার ব্রিকস’

প্রকাশিত : ০৪:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পৌরসভার ‘ফাইভ স্টার ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযানের পরও সেটি সচল রয়েছে। প্রশাসন কর্তৃক জরিমানা করা সত্ত্বেও ভাটাটি বন্ধ করা যায়নি, যা কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ফাইভ স্টার ব্রিকস নামের এই ইটভাটাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।

একাধিকবার অভিযানের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও ভাটাটি বন্ধ করা যায়নি। কিছু ক্ষেত্রে, ইটভাটা বন্ধ করার জন্য ভাটার বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হলেও, কিছু সময়ের মধ্যেই আবার তা চালু করা হয়েছে। এটি পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমের দুর্বলতা তুলে ধরে।

এই ঘটনা থেকে আরও জানা যায় যে, কেবল জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়, বরং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা আর কোনোভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে না পারে।

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ এলাকায় পরিচালিত মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস, লাটিয়ার বাজার, গারুচোঁ, বুড়িচং নামক ইটভাটাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকসকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বুড়িচং উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া হক।

পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস প্রসিকিউশন প্রদান করেন। এছাড়াও, এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অত্র কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মোঃ রায়হান মোর্শেদ এবং নমুনা সংগ্রহকারী মোবারক হোসেন। সার্বিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা করে বুড়িচং থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস, বুড়িচং উপজেলা।

জরিমানা সত্ত্বেও ইটভাটা সচল: জনমনে প্রশ্ন তবে, আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২৭ জানুয়ারি জরিমানা আদায় করা হলেও আজকের দিন (২ জুন ২০২৫) পর্যন্ত মেসার্স ফাইভ স্টার ব্রিকস ইটভাটাটি বন্ধ হয়নি এবং এটি এখনো অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ব্রিকস মালিক মো ফারুক মুঠোফোনে বলেন, আমাদের কোন অনিয়ম নেই, কয়েকদিন আগে শুধু শিশু শ্রমের দায়ে আর্থিক জরিমানা করা হয়, আমার ব্রিকফিলের সকল কাগজপত্র ঠিক আছে আপনি যার কাছে যাওয়ার যান এই বলে ফোন কেটে দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: রাজিব খন্দকার মুঠোফোনে জানান, আশেপাশে স্কুল কলেজ থাকায় পরিবেশ দূষণ এবং পরিবেশের কোন চারপত্র না থাকায় এবং অনিয়মের কারনে পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক জরিমানা করেন এবং পরবর্তী সময়ের মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র / অনুমোদন না নিলে ফাইভ স্টার ব্রিকস এর চিমনি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবং সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনা হবে।

কিন্তু ফাইভ স্টার ব্রিকসের মতো চিহ্নিত একটি অবৈধ ইটভাটা জরিমানা আদায়ের পরও কিভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ডিএস./