০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাহ্যিক চাকচক্যের আড়ালে নিবন্ধন ব্যতীত খাদ্যপণ্য বিক্রি করছে মস্কো বেকার্স 

চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীর অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ২০টি শোরুম নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে খাদ্যপণ্য বিক্রয় ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মস্কো বেকার্স। বাজারের নামীদামী অন্য অনেক ব্রান্ডের তুলনায় এ প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের দামও আকাশচুম্বী। প্রতিটি পণ্যের মোড়ক এতটাই আকর্ষণীয় যা দেখে প্রলুব্ধ হন ক্রেতা। কিন্তু বাহ্যিক চাকচক্যে ভরা এ প্রতিষ্ঠানের কোন পণ্যের মোড়কেরই নিবন্ধন নেই। এমনকি সুইটমিট (মিষ্টি), ব্রেড (পাউরুটি), ও লাচ্ছা সেমাই কোনটিরই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর নিবন্ধন নেই। এছাড়া শোরুমে বসে মেয়াদ উত্তীর্ণের লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হয় খাদ্যপণ্য। মস্কো বেকার্সের এমন অবিশ্বাস্য সব তথ্য মিলেছে মোবাইল কোর্টের অভিযানে।

গতকাল সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারে মস্কো বেকার্সের শোরুমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বিষয়টি জানতে মস্কো বেকার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইন উদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, মস্কো বেকার্সের প্রতিটি পণ্যের বিএসটিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের নিবন্ধন পাওয়া একটি দীর্ঘ সূত্রতার বিষয়। এছাড়া পণ্যের নিবন্ধন নিলেই হয়, মোড়কের আলাদা নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়েনা। এ সময় তিনি বিএসটিআইয়ের সাথে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে জানিয়ে বলেন, বিএসটিআইয়ের আইন আমার জানা আছে। এমনকি তিনি কয়েকটা পত্রিকা চালান বলেও জানান এ প্রতিবেদককে। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটেরও কম জানা থাকতে পারে। মস্কো বেকার্সের পণ্য ডিসি, এসপিরাও ক্রয় করেন এবং তারা সুনামও করে থাকেন।

শোরুমে পণ্যের গায়ে লেবেল লাগানোর বিষয়ে তিনি আরো বলেন, শোরুমে কেবল দধির লেবেল লাগানো হয়। কারণ দধির পাতিল মাটির হওয়ায় গাড়ীর ঝাঁকুনিতে লেবেল পড়ে যায়। তবে এ বিষয়ে কারো সন্দেহ হলে তিনি চালান দেখতে পারেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাজমি ফুড প্রোডাক্টসের পণ্য বাজারজাত করছে মস্কো বেকার্স। এ প্রতিষ্ঠানটির কোন পণ্যের মোড়কেরই নিবন্ধন নেই। শোরুমে বসেই তারা ফ্রিজিং করা পণ্যের গায়ে লেবেল লাগিয়ে বিক্রয় করছে যা নজিরবিহীন ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এই বিষয়ে বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেট মার্ক) মাহফুজুর রহমান বলেন, তাজমি ফুড প্রোডাক্টসের ছয়টি পণ্যের মধ্যে তিনটির নিবন্ধন রয়েছে। নিবন্ধনকৃত পণ্যগুলো হল বিস্কুট, কেক ও দই। কিন্তু মিষ্টি, পাউরুটি ও লাচ্ছা সেমাইয়ের মত খাদ্যপণ্যের কোনো নিবন্ধন নেই প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া খাদ্যপণ্য বাজারজাত করতে হলে মোড়ক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনকৃত মোড়কে ক্রেতার অবগতির জন্য পণ্যের ১১ থেকে ১২ টি তথ্য দেওয়া থাকে। কিন্তু মস্কো বেকার্সের কোন পণ্যের মোড়কের নিবন্ধন নেই। তিনি বলেন, নিবন্ধনহীন পণ্য বিক্রয় ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএস./
ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বাহ্যিক চাকচক্যের আড়ালে নিবন্ধন ব্যতীত খাদ্যপণ্য বিক্রি করছে মস্কো বেকার্স 

প্রকাশিত : ০৪:২৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীর অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ২০টি শোরুম নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে খাদ্যপণ্য বিক্রয় ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মস্কো বেকার্স। বাজারের নামীদামী অন্য অনেক ব্রান্ডের তুলনায় এ প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের দামও আকাশচুম্বী। প্রতিটি পণ্যের মোড়ক এতটাই আকর্ষণীয় যা দেখে প্রলুব্ধ হন ক্রেতা। কিন্তু বাহ্যিক চাকচক্যে ভরা এ প্রতিষ্ঠানের কোন পণ্যের মোড়কেরই নিবন্ধন নেই। এমনকি সুইটমিট (মিষ্টি), ব্রেড (পাউরুটি), ও লাচ্ছা সেমাই কোনটিরই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর নিবন্ধন নেই। এছাড়া শোরুমে বসে মেয়াদ উত্তীর্ণের লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করা হয় খাদ্যপণ্য। মস্কো বেকার্সের এমন অবিশ্বাস্য সব তথ্য মিলেছে মোবাইল কোর্টের অভিযানে।

গতকাল সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারে মস্কো বেকার্সের শোরুমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বিষয়টি জানতে মস্কো বেকার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইন উদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, মস্কো বেকার্সের প্রতিটি পণ্যের বিএসটিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের নিবন্ধন পাওয়া একটি দীর্ঘ সূত্রতার বিষয়। এছাড়া পণ্যের নিবন্ধন নিলেই হয়, মোড়কের আলাদা নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়েনা। এ সময় তিনি বিএসটিআইয়ের সাথে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে জানিয়ে বলেন, বিএসটিআইয়ের আইন আমার জানা আছে। এমনকি তিনি কয়েকটা পত্রিকা চালান বলেও জানান এ প্রতিবেদককে। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটেরও কম জানা থাকতে পারে। মস্কো বেকার্সের পণ্য ডিসি, এসপিরাও ক্রয় করেন এবং তারা সুনামও করে থাকেন।

শোরুমে পণ্যের গায়ে লেবেল লাগানোর বিষয়ে তিনি আরো বলেন, শোরুমে কেবল দধির লেবেল লাগানো হয়। কারণ দধির পাতিল মাটির হওয়ায় গাড়ীর ঝাঁকুনিতে লেবেল পড়ে যায়। তবে এ বিষয়ে কারো সন্দেহ হলে তিনি চালান দেখতে পারেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাজমি ফুড প্রোডাক্টসের পণ্য বাজারজাত করছে মস্কো বেকার্স। এ প্রতিষ্ঠানটির কোন পণ্যের মোড়কেরই নিবন্ধন নেই। শোরুমে বসেই তারা ফ্রিজিং করা পণ্যের গায়ে লেবেল লাগিয়ে বিক্রয় করছে যা নজিরবিহীন ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এই বিষয়ে বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেট মার্ক) মাহফুজুর রহমান বলেন, তাজমি ফুড প্রোডাক্টসের ছয়টি পণ্যের মধ্যে তিনটির নিবন্ধন রয়েছে। নিবন্ধনকৃত পণ্যগুলো হল বিস্কুট, কেক ও দই। কিন্তু মিষ্টি, পাউরুটি ও লাচ্ছা সেমাইয়ের মত খাদ্যপণ্যের কোনো নিবন্ধন নেই প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া খাদ্যপণ্য বাজারজাত করতে হলে মোড়ক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনকৃত মোড়কে ক্রেতার অবগতির জন্য পণ্যের ১১ থেকে ১২ টি তথ্য দেওয়া থাকে। কিন্তু মস্কো বেকার্সের কোন পণ্যের মোড়কের নিবন্ধন নেই। তিনি বলেন, নিবন্ধনহীন পণ্য বিক্রয় ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএস./