চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উচ্ছেদ অভিযানের পরেও এখনো দখলমুক্ত হয়নি কেরানীহাট ।২২ জুন রবিবার, সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,কিছু কিছু স্থানে আবারো বসেছে অনেক হকার, এছাড়া কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও উচ্ছেদ করা স্থানে পড়ে আছে ভাঙা টিন, বাঁশের খুঁটি, বৈদ্যুতিক তার, হকারদের বিভিন্ন সরঞ্জাম আর ধ্বংসাবশেষের স্তুপ।
এদিকে কয়েকজন হকারের সাথে কথা হলে তারা বলেন,প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান কে আমরা স্বাগত জানাই ,আমরা সরকারি খাস জায়গায় অবৈধভাবে বসেছি সেটি ঠিক আছে, তবে পারিবারিকভাবে আমরা সচ্ছল না মার্কেটে দোকান করার মত সামর্থ্য না থাকায় ফুটপাতে বসেছি, ফুটপাতে দোকান করে সংসার চালাই, এখানে বসতেও আমাদেরকে টাকা দিতে হয়েছে, ব্যাংক লোন নিয়ে অগ্রিম টাকা দিয়ে ভাড়াই দোকানগুলো আমরা নিয়েছি, এখন আমাদের টাকাগুলোর কি হবে, আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি ,এছাড়া আমাদেরকে পূর্ণবাসনের দাবী জানাচ্ছি।
কেরানীহাটের স্থানীয় অনেকে বলছেন ,ফুটপাতে হকারদের উচ্ছেদ করেছে সেটি ঠিক আছে, কিন্তু কেরানীহাটের রাস্তার দুই পাশে অবৈধ অনেক বিল্ডিং রয়েছে সেগুলো কেন ভাঙ্গা হয়নি, কেরানীহাটের সৌন্দর্য রক্ষার্থে নালা এবং টার্মিনালের কাজের জন্য ফুটপাতে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে সেটি ভালো উদ্যোগ এ জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
তবে হকাররা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নির্দিষ্ট একটি স্থানে বসানো হোক এবং তাদের কাছ থেকে যে ভাড়া গুলো নেওয়া হবে সেগুলো সরকারি কোষাগারে যাক, পরবর্তীতে যেন কেরানীহাটে সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে কারো কাছ থেকে কেউ ভাড়া বা চাঁদা আদায় করতে না পারে।
এদিকে ফুটপাতে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের আর্থিক অবস্থা চিন্তা করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে হকারদের জন্য দোকান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ । সিটি সেন্টার ডেভলপার এবং স্বত্বাধিকারী হাজী দেলোয়ার বলেন, হকারদের পূর্ণবাসনের জন্য সিটি সেন্টার কর্তৃপক্ষ সর্বদা প্রস্তুত প্রয়োজনে হকারদের দোকান দিয়ে ব্যবসা করার সু্যোগ করে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যাতায়াত ও চট্টগ্রাম-বান্দরবান এবং সাতকানিয়া হয়ে বাঁশখালী যাওয়ার মধ্যবর্তী সংযোগস্থল কেরানীহাট। দিনে-রাতে এই কেন্দ্রস্থলটি ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ থাকে,দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যস্ততম উপশহর কেরানীহাট ঘিরেই রয়েছে, বিশাল কাঁচা বাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক,মসজিদ-মাদরাসা এবং সু-বিশাল দুটি মার্কেট ।
ব্যস্ততম এই কেরানীহাটের রাস্তার পূর্ব এবং পশ্চিমের দুইপাশে গত এক দশকেরও বেশি সময় ছিল ফুটপাত দখলের দৌরাত্ম্যে । একেক সময় একেক দলের ব্যক্তিরা সিন্ডিকেট করে রাস্তার উভয় পাশে দোকান বসিয়ে যানজট সৃষ্টি এবং জনসাধারণের চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছিল। সরকারি খাস জায়গা হলেও গরিব অসহায় মানুষদের নিয়মিত ভাড়া এবং চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হতো।
২০২৪ সালে সাতকানিয়ায় বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে তারপরও ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালে ১৪ জুন অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়, প্রশাসনের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারো ফুটপাত দখল করা শুরু করে হকাররা। তিনদিন পর ১৮ জুন অবৈধ স্থাপনা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ,হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা সহ আবারো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন ,কয়েক ঘণ্টায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা।
সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারিস্তা করিম বলেন, রাস্তার দু’পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলো আমরা উচ্ছেদ করেছি, যদি পরবর্তীতে আবারো দোকান বসানো হয় আবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও)বলেন, কেরানীহাটে বিকল্প খাস জায়গা আছে কী না তা নিশ্চিত হয়ে হকারদের পুনর্বাসন করা যেতে পারে।
ডিএস./




















