দীর্ঘদিন পর হলেও কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা জেগে উঠেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারে বলিষ্ঠ ভুমিকায় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর ও উপজেলা বিএনপির নেতা নির্বাচন যেন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির নেতা নির্বাচন ও কাউন্সিলকে ঘিরে জেলাজুড়ে ছিল এক আতংক। অনেকে ভেবে ছিল কতিপয় বিদ্রোহী পদবঞ্চিত নেতা কর্মীদের বাধার মুখে পৌর বিএনপির কাউন্সিল ও নেতা নির্বাচন করতে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ হিমসিম খাবে। কিন্তু অবশেষে জেলা বিএনপির যোগ্য নেতৃত্বে সকল বাঁধার অবসান ঘটিয়ে নেতা কর্মীদের আশার আলো পৌর বিএনপির নেতা নির্বাচন স্বতঃষ্ফ‚র্তভাবে সম্পন্ন হতে চলেছে।
আগামী ২৭ জুন কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সম্মেলন এবং নেতা নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিত নেতা কর্মীরা পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাধে কাদ মিলিয়ে স্বতঃষ্ফ‚র্তভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে দলকে আরো কঠিন থেকে কঠিনতর সংগঠনের রূপ দিতে যাচ্ছে। যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। দলের মধ্যে আর কোন বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সবাই ঐক্যমতে সুর তুলে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। অতীতে নেতা নির্বাচন ছিল দলের সভাপতি সম্পাদকের পকেট কমিটি। এখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করায় যোগ্য নেতাদের দ্বারা সংগঠন আরো শক্তিশালী রুপ নিয়েছে।
আগামী ২৭ জুন পৌর বিএনপির সম্মেলন ও নেতা নির্বাচন গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। ২১টি ওয়ার্ডের ৭১জন করে ১ হাজার ৪৯১জন ডেলিগেট ভোটার সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচন করবেন। এই ভোটকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ শহর জুরে এক উৎসবের আমেজ বয়ে চলেছে । চারিদিকে ভোট আর ভোট শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ১৭ বছর স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার জনগনের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ায় সাধারণ জনগন ভোট দিতে পারেনি। নতুন ভোটাররা হয়েছিল হতাশ। তবে বিএনপির নেতা নির্বাচন ভোট পেয়ে ডেলিগেট ভোটাররা খুবিই আনন্দিত হচ্ছে। অনেকেই আছে এবারই প্রথম ভোট প্রদান করবেন।
ভোট প্রদানের কি স্বাদ তা এবার ভোটাররা অনুধাবন করবে বলে আত্মহারা। প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডেলিগেট ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে এ যেন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থীরা তাদের প্রতীক দিয়ে পোষ্টার ছেপে ভোটের প্রচারনাও শুরু করেছে। চলছে ভিতরে ভিতরে মিছিল। এখন শেষ মুহুর্তে কতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় টিকে থাকবেন তা প্রার্থী প্রত্যাহারের পর বুঝা যাবে। নির্বাচন সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে ৫সদস্য বিশিষ্ঠ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন এ্যাডঃ আব্দুল মজিদ, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে আছে ৪জন। এরা হলেন, এ্যাডঃ নূরুল ইসলাম নুরু, এ্যাডঃ রাশেদুল ইসলাম, এ্যাডঃ এস এম বদিউজ্জামান ও এ্যাডঃ খায়রুল ইসলাম। ২৪ তারিখে প্রার্থী প্রত্যাহার ও চুড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষনা করবেন নির্বাচন কমিশনার।
ডিএস./




















