কয়েকদিনের ঘন ঘন লোডশেডিং এ হাঁসফাঁস সাতকানিয়ার জনজীবন, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরো ১/২ দিন।গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন ) সকাল ৮ টার দিকে ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয় বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা। ভোগান্তিতে রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি হাসপাতালও। বিদ্যু না থাকায় ঘুরছে না বৈদ্যুতিক পাখা, জ্বলছে না বাল্ব।অসহ্য গরমে এবং অন্ধকারে কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।
গত বৃহস্পতিবার থেকেই সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ১ ঘণ্টা করে দেওয়া হচ্ছে।এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও তার পরের এক-দুই ঘণ্টাই থাকে লোডশেডিং। এই দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে শিশু-বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীরা।
লোডশেডিংয়ের কারণে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাদানে ব্যাঘাত ঘটছে।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও, লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে তাদের লেখাপড়া।
কেরানীহাটের দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, এক ঘন্টা থাকে এরপর আবার চলে যায় এভাবেই চলছে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এভাবে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দোকানের ফ্রিজে জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে গরুর দুধ কিছু আইসক্রীম নষ্ট হয়ে গেছে, অন্ধকারের মধ্যে চলছে দোকানদারি, বেচা-বিক্রি ও অর্ধেকে নেমে গেছে।
সাতকানিয়া পৌরসভার ভোয়ালিয়া পাড়ার বাসিন্দা কাশফিয়া কাশেম মাহিন বলেন,গত বৃহস্পতিবার বাপের বাড়ি আসলাম আসার পর থেকে বিদ্যুতের সমস্যা দেখছি ,একদিকে প্রচন্ড গরম অন্যদিকে বিদ্যুৎ নাই,এমন অবস্থায় বাচ্চাদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছি ,রাতে ঘুমানো অনেক কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে,শুনেছি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে, এক ঘন্টা থাকে এরপর আবার চলে যায় ,কয়েকদিন ধরে এভাবেই চলছে ,বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবী জানাচ্ছি।
সাতকানিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী সুভন ভৌমিক বলেন, আমাদের দুটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি ৩৩/১১ কেভি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। এটি মেরামতের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। এখন শুধু ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে কাজটি সম্পন্ন করলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। টিমটি বুধবার আসতে পারে অথবা এর পরের দিন ও আসতে পারে ,আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য ।




















