কুমিল্লার সর্বশেষ উপজেলা লালমাই। ২০১৭ সালে এই উপজেলাটির সৃষ্টি। সেসময় ভাড়া করা ভবনে এর কার্যক্রম চালু হয়। জেলায় এটা ছিল ১৭ নম্বার উপজেলা। সম্প্রতি ভাড়া বাসা থেকে সরকারী নতুন ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর আগে কক্ষের বরাদ্দ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের পরও উপজেলা প্রকৌশলীর অসন্তোষের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসনের নতুন ভবনের কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে ইউএনও হিমাদ্রি খীশা এবং প্রকৌশলী সাবরীন মাহফুজ এর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দুজনের এই ভিন্ন দাবীর কারণে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএনও চাচ্ছেন কক্ষগুলো সেবা গ্রহীতাদের সুবিধার্থে ব্যবহার করতে, যেখানে জনসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী চাচ্ছেন কক্ষটি তার মাধ্যমে বন্টন হবে এবং দপ্তরের কাজে ব্যবহার করতে, যেখানে প্রকৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সরেজমিন ঘুরে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, লালমাই উপজেলাটি প্রতিষ্ঠার পর গত কিছুদিন আগে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ফতেহপুর মৌজায় ৪ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্সটি নির্মান হয়। যেখানে মোট ৫৩টি কক্ষ রয়েছে। পবিত্র ঈদুল আযহার পর গত ১৯ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিষদের কর্মকর্তাদের নিয়ে কক্ষ বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি মিটিং করেন।
সেখানে পরিবার পরিকল্পনা, সমাজসেবা,প্রতিবন্ধি ও বিভিন্ন দুস্থঃ মানুষের নিরাপদ সেবার কথা চিন্তা করে ৩য় তলায় ইউএনও এর অফিস কক্ষ বরাদ্দ রাখেন। যা সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশলীর দাবী ৩য় তলা তার অফিসের জন্য বরাদ্দ। এনিয়ে প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষ ছাড়া অন্যান্য ৬টি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সাবরীন মাহফুজ বলেন, দ্বিতীয় তলার ৭টি কক্ষ আমার দপ্তরের জন্য চুড়ান্ত করে আমি তালা বদ্ধ করে রেখেছি । ২২ জুন অফিসে এসে দেখতে পাই ৫টি কক্ষের তালা ভেঙ্গে সেখানে নতুন তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,সরকারী সিদ্ধান্ত মতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের দপ্তর হবে দ্বিতীয় তলায়। কিন্তু এখানে ৩য় তলায় অফিস।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খীশা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে বরাদ্দকমিটির সভাপতির দায়িত্ব এই মুহুর্তে আমাকেই পালন করতে হচ্ছে। আমি গত ১৯ জুন সর্বসম্মতিক্রমে সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩য় তলায় আমার অফিস কক্ষের বরাদ্দ নিয়েছি।
ডিএস./




















