লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এক বিএনপির নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার কৃতরা হলেন ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম সোহাগপুরের আব্দুর রশিদ, বাউরা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও আবুল কালাম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় সরেয়া বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির সময় বেলাল ও সোহেল রানা চপলকে আটক করে ইউএনও উত্তম কুমার দাশ। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর আটককৃতদের ছাড়াতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানায় হামলা চালায়। পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ হয়, যাতে ওসিসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। পরদিন সকালে ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই রাতে থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়।
ঘটনার দায় অস্বীকার করে শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; এটি প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের ফল।
এদিকে পাটগ্রামে থানা ভাঙচুর ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪ জুলাই শুক্রবার রাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ বিরোধী আচরণের অভিযোগে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর চপলকে বহিষ্কার করেছে জেলা বিএনপি। এর আগে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেনকেও বহিষ্কার করে।
ওসি মিজানুর রহমান জানান, ভিডিও দেখে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার চারজনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
ডিএস./.




















