০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের মৃৎশিল্প

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সারটিয়া পালপাড়ার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ নানা সমস্যার কারণে বিলুপ্তির পথে।

একসময় নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক বস্তু হিসেবে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, সরা,থালা-বাসন,ঘটি-বাটি, মাটির ব্যাংক,শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল ও খেলনা ইত্যাদি ব্যবহার করলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন কাঁচ আর অ্যালুমিনিয়াম, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের তৈরি নিত্য প্রয়োজনীর জিনিসপত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই শিল্পটি।

 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সারটিয়া পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, একসময় মাটির তৈরি হাঁড়ি,পাতিল, কলসি,পুতুল ও বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী হাটবাজার ও গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে অনেক লাভবান হতাম। কিন্তু এখন প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অ্যালুমেনিয়ামের চাপে আমরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি।

তারা আরো বলেন, বর্তমানে দইয়ের খুটি তৈরি করে জেলার বিভিন্ন ঘোষদের কাছে বিক্রি করে যা রোজগার করি তা দিয়ে চালাই সংসার।

 

মৃৎশিল্পী আনন্দ পাল বলেন, মৃৎশিল্প আগের মতো না চলায় বাধ্য হয়ে গুটিয়ে নিতে হচ্ছে পূর্বপুরুষের এই পেশা।

মৃৎশিল্পী বিউটি পাল জানান, এমন একসময় ছিল যখন এ এলাকায় অনেকেই মৃৎশিল্পের নির্ভর করে জীবিকা চলত। বর্তমানে এলাকায় ৩০-৪০টি পরিবার বসবাস করলেও বেশির ভাগ পরিবার তাদের বংশীয় পেশা ছেড়ে দিয়ে গার্মেন্টসে চাকুরী সহ অন্য পেশা শুরু করেছে। বর্তমানে আমরা যারা ৮-১০ পরিবার এ পেশায় রয়েছে তারা অতিকষ্টে এ পেশা ধরে রেখেছে।

মৃৎশিল্পী বানু পাল বলেন, পিতা-মাতার কাছ থেকে দেখে দেখে এ মাটির কাজ শিখেছিলাম। যখন এ কাজ শিখেছিলাম, তখন মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা ছিল ব্যাপক। কিন্তু চাহিদা কম ও খরচ বেশি হওয়ায় এখন আর আগের মতো জিনিসপত্র তৈরি করা হয়না।

 

সারটিয়ার পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী লক্ষ্মণ চন্দ্র পাল বলেন একসময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ১ গাড়ি মাটি ১০০০ থেকে ১২০০ ক্রয় করতে পারতাম। তবে, এখন দেশে বেড়েছে ইটের ভাটা। যার কারণে ৪০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা গাড়ি মাটি ক্রয় করতে হচ্ছে। আগে খড়ি কেনা হতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা মণ, যা বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা মণ কিনতে হয়। অথচ মাটির তৈরী জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বাড়েনি। এ জন্য বেশি দামে মাটি, খড়ি কিনে এসব জিনিসপত্র তৈরি করে আগের মতো লাভ হয় না।

তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় এসব মৃৎশিল্পীরা।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের মৃৎশিল্প

প্রকাশিত : ০৮:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সারটিয়া পালপাড়ার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ নানা সমস্যার কারণে বিলুপ্তির পথে।

একসময় নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক বস্তু হিসেবে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, সরা,থালা-বাসন,ঘটি-বাটি, মাটির ব্যাংক,শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল ও খেলনা ইত্যাদি ব্যবহার করলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন কাঁচ আর অ্যালুমিনিয়াম, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের তৈরি নিত্য প্রয়োজনীর জিনিসপত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই শিল্পটি।

 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সারটিয়া পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, একসময় মাটির তৈরি হাঁড়ি,পাতিল, কলসি,পুতুল ও বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী হাটবাজার ও গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে অনেক লাভবান হতাম। কিন্তু এখন প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অ্যালুমেনিয়ামের চাপে আমরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছি।

তারা আরো বলেন, বর্তমানে দইয়ের খুটি তৈরি করে জেলার বিভিন্ন ঘোষদের কাছে বিক্রি করে যা রোজগার করি তা দিয়ে চালাই সংসার।

 

মৃৎশিল্পী আনন্দ পাল বলেন, মৃৎশিল্প আগের মতো না চলায় বাধ্য হয়ে গুটিয়ে নিতে হচ্ছে পূর্বপুরুষের এই পেশা।

মৃৎশিল্পী বিউটি পাল জানান, এমন একসময় ছিল যখন এ এলাকায় অনেকেই মৃৎশিল্পের নির্ভর করে জীবিকা চলত। বর্তমানে এলাকায় ৩০-৪০টি পরিবার বসবাস করলেও বেশির ভাগ পরিবার তাদের বংশীয় পেশা ছেড়ে দিয়ে গার্মেন্টসে চাকুরী সহ অন্য পেশা শুরু করেছে। বর্তমানে আমরা যারা ৮-১০ পরিবার এ পেশায় রয়েছে তারা অতিকষ্টে এ পেশা ধরে রেখেছে।

মৃৎশিল্পী বানু পাল বলেন, পিতা-মাতার কাছ থেকে দেখে দেখে এ মাটির কাজ শিখেছিলাম। যখন এ কাজ শিখেছিলাম, তখন মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা ছিল ব্যাপক। কিন্তু চাহিদা কম ও খরচ বেশি হওয়ায় এখন আর আগের মতো জিনিসপত্র তৈরি করা হয়না।

 

সারটিয়ার পাল পাড়ার মৃৎশিল্পী লক্ষ্মণ চন্দ্র পাল বলেন একসময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ১ গাড়ি মাটি ১০০০ থেকে ১২০০ ক্রয় করতে পারতাম। তবে, এখন দেশে বেড়েছে ইটের ভাটা। যার কারণে ৪০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা গাড়ি মাটি ক্রয় করতে হচ্ছে। আগে খড়ি কেনা হতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা মণ, যা বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা মণ কিনতে হয়। অথচ মাটির তৈরী জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বাড়েনি। এ জন্য বেশি দামে মাটি, খড়ি কিনে এসব জিনিসপত্র তৈরি করে আগের মতো লাভ হয় না।

তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় এসব মৃৎশিল্পীরা।